পরকীয়া জেনে যাওয়ায় স্বামীকে দইয়ের ভেতরে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা।
- আপডেট সময় : ১১:০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ অগাস্ট ২০২১ ১৪১ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স
পরকীয়ার ঘটনা জেনে ফেলায় নিজ স্বামীকে হত্যা করেছে স্ত্রী সুলতানা আক্তার কেমিলি। এ হত্যায় অংশ নেন পরকীয়া প্রেমিক রবিউল করিম পিন্টু। আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় ডিস ব্যবসায়ীকে নিজ ঘরে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় স্ত্রী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
রবিউল করিম পিন্টু। সাভারে পল্লী বিদুৎ সমিতিতে লাইন ম্যান হিসেবে কাজ করার সুবাদে আসা যাওয়া ছিল এলিম সরকারের বাসায়। এ থেকে গড়ে উঠে তার স্ত্রী কেমিলির সাথে পরকীয়া সম্পর্ক।
দীর্ঘ এক বছর পর এ ঘটনা স্বামী এলিম সরকার জেনে ফেলায় দাম্পত্য কলহ তৈরি হয়। স্ত্রীর পরকীয়া হাতেনাতে ধরতে বাসায় বসানো হয় সিসি ক্যামেরা। এসব নিয়ে দাম্পত্য কলহ আরও তীব্র হয়। এর জেরেই স্বামী এলিম সরকারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন স্ত্রী। ঘটনার দিন রাতে স্বামীকে দই মিষ্টির সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয় স্ত্রী কেমিলি।
সকালে বাসার সবাই বেরিয়ে গেলে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পাশে শ্বশুর ফজল হকের বাড়িতে যায় কেমিলি। এর আগেও নিজে দরজার বাইরে থেকে পাহারা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন এলিম সরকারের। এমনকি যাওয়ার সময় পরকীয়া প্রেমিক পিন্টুকে সিসি ক্যামেরার বিষয়টি সতর্ক করে দিয়ে সব ডিভাইস নিয়ে যেতে বলেন। এরপর ঘণ্টা দুই ঘুরে এসে বাসায় ফিরে চিকিৎকার করে বাড়ির সবাইকে জানান।
পরে ঘটনার পর স্ত্রী কেমিলি নিজেই বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ পাঁচ মাস পর এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে পিবিআই। গ্রেপ্তার করা হয় দুই প্রধান আসামিকে।
বুধবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম জানান, ঘটনার দিন ঠান্ডা মাথায় এ হত্যায় কেমিলি এবং প্রেমিক পিন্টুসহ আরও একজন অংশ নেন। ঘটনার সময় পাশের রুমেই ছিল তাদের ১০ ও ৮ বছরের দুই ছেলে।
এ ঘটনার পর স্ত্রী ডিস ব্যবসায় দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রচার চালাতে শুরু করেন। কৌশলে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত কেমেলি।
চলতি বছর ২৮ মার্চে সাভারের আশুলিয়ায় ডিস ব্যবসায়ী এলিম সরকারকে নিজ ঘরে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।


























