দুর্নীতির অভিযোগে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিচ্যুৎ।
- আপডেট সময় : ০৫:৪৫:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ অগাস্ট ২০২১ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স:: নানা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) থেকে ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতি করা হয়েছে। তবে বিষয়টি আইনসিদ্ধ হয়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এখানে বিসিসি’র আইন অগ্রাহ্য করে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (উত্তর) আইনানুযায়ী এ বরখাস্ত করা হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।
চাকরিচ্যুতিরা হলেন- সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) কাজী মনিরুল ইসলাম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মতিন, নির্বাহী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কমল ও জহিরুল ইসলাম, চিফ অ্যাসেসর মো. আজম, জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রুমেন, অ্যাস্টেট অফিসার (সম্পত্তি) শাখা মাহাবুবুর রহমান শাকিল, হিসাবরক্ষক মো. মাইনুদ্দিন, আইন সহকারি রফিকুল ইসলাম, অফিস সহকারি আব্দুস সালাম এবং মো. হায়াতুল।
বিসিসি কার্যালয় সূত্র থেকে জানা গেছে, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারী একযোগে ৩২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ওএসডি করা হয়। বিভিন্ন সময় এদের মধ্যে কয়েকজনকে চাকরিচ্যুতি করা হয়। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার চিঠির মাধ্যমে ওই ১২ জনকে চাকরিচ্যুতি করা হলো।
চাকরিচ্যুতির অনুলিপি বিসিসি’র সচিব, মেয়রের একান্ত সচিব, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সকল বিভাগীয় শাখা প্রধানকে দেয়া হলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণলয়ে কোনো অনুলিপি দেয়ার বিষয় উল্লেখ নেই চিঠিতে। ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট চতুর্থ পরিষদের নবম সাধারণ সভার সিদ্ধান্তনুযায়ী ৩ মাসের বেতন পরিশোধপূর্বক চাকরিচ্যুত করা হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন বিসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ।
চাকরিচ্যুতিরা অভিযোগ করেন, এখানে বিসিসি’র আইন অগ্রাহ্য করে অবৈধভাবে আমাদের চাকরিচ্যুতি করা হয়েছে। চাকরিচ্যুতির আগে শো-কজ ও তদন্ত কমিটি গঠনসহ একাধিক প্রক্রিয়ার বিষয় রয়েছে। কিন্তু বিসিসি খোঁড়া অজুহাত তুলে আড়াই বছরের অধিক সময় আমাদের ওএসডি করে রাখা হয়। ওই সময় বেতনের একটা অংশ দেয়ার নিয়ম থাকলেও তাও দেয়া হয়নি। গত বৃহস্পতিবার সরাসরি চাকরিচ্যুতির চিঠি প্রদান করা হয়। সেখানে উল্লেখ রয়েছে তিন মাসের বেতন প্রদানপূর্বক চাকরিচ্যুতি করা হলো।
সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) কাজী মনিরুল ইসলাম বরিশালটাইমসকে বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার আমি চাকরিচ্যুতির চিঠি পাই। তবে আমার বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। অনিয়মতান্ত্রিকভাবে আমাকে চাকরিচ্যুতি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
চাকরিচ্যুত স্বপন অভিযোগ করেন, আমার বিরুদ্ধে যেসকল দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের বিষয় উল্লেখ নেই চিঠিতে। সরকারের বিধিমালা অনুযায়ী চাইলে আমাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারতো। কিন্তু কোনো ধরনের শো-কজ ও তদন্ত কমিটি গঠন না করেই আমাকে চাকরিচ্যুত করা আইনসিদ্ধ হয়নি।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য বিসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদের ব্যবহৃত মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে বলেন।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসের ব্যবহৃত মোবাইলে কলা দেয়া হলে তিনি চাকরিচ্যুতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আগামীকাল শনিবার বিবৃতির মাধ্যমে বিস্তারিত জানাবো।
এর আগে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে বিসিসি’র হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মশিউরকে বিভিন্ন সময়ে উৎকোচ গ্রহণ ও ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ঠিকাদারকে বিল প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স সুপারিনটেনডেন্ট আজিজ শাহীনকে নামে বেনামে স্বজনদের বিপরীতে কর্পোরেশনের স্টল বরাদ্দ দেয়া এবং কর্মচারী ও গ্রাহকের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ, একই অভিযোগে বাজার সুপারেন্ডেনডেন্ট নুরুল ইসলাম এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিষ্ঠানকে বিসিসির রাস্তা খুঁড়তে সহায়তা করায় চাকরিচ্যুত করা হয়।

























