বরিশালে এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলীসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা।
- আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অগাস্ট ২০২১ ৬৩ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) ঝালকাঠীর নলছিটি উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ডেনমার্কভিত্তিক সহায়তা প্রতিষ্ঠান ডেনিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (ডানিডা) প্রকল্পের ঠিকাদারসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) ঝালকাঠীর নলছিটি উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন ও ডানিডার প্রকল্পের ঠিকাদার ফিরোজ আলম জোমাদ্দারসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো প্রকল্পের কাজে অনিয়মের কারণে বিল আটকে দিলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ফেসবুকে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালান বলে অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক গোলাম ফারুক মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে পিবিআইকে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে জানান, ডানিডার অর্থায়নে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালে ঝালকাঠীর নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামের রাস্তা সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়নের কাজ হয়। ওই প্রকল্পের ঠিকাদার ছিলেন ফিরোজ আলম জোমাদ্দার। প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে ছিলেন ঝালকাঠীর নলছিটি উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন। এছাড়া মামলার অন্য আসামিরা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২৪ লাখ ৫ হাজার ৩৯৩ টাকা। শর্ত ছিল, গ্রামের হতদরিদ্র মানুষ এই প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে মাটি কাটার কাজ করবেন। কাজের মজুরি হিসেবে ৪৬ জন শ্রমিক প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে পাবেন। তবে ঠিকাদার ফিরোজ আলম শর্ত ভঙ্গ করে বেশি টাকা লাভের জন্য ভেকু মেশিন ব্যবহার করে মাটি কাটেন। ফলে গ্রামের হতদরিদ্র মানুষ অর্থপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন। তবে ঠিকাদার ফিরোজ আলম শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ১৪ লাখ ৫ হাজার ৩৯৩ টাকা তুলে নেন। এ কাজে ঠিকাদারকে সহায়তা করেন প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে ওই গ্রামের হতদরিদ্র মানুষ প্রতিবাদ করেন। পরে তারা তৎকালীন উপজেলার সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নুরুল ইসলামসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান।
নুরুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রকল্পের বিল বাবদ বাকি ১০ লাখ টাকা আটকে দেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এতে ঠিকাদার ফিরোজ আলমসহ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ফেসবুকে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে শুরু করেন। প্রকল্পের বিল বাবদ ৪০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ এবং বাকি টাকা ছাড়ে পাঁচ শতাংশ হারে ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফেসবুকে বিভিন্ন সময় পোস্ট দেন ঠিকাদার ফিরোজ আলমসহ অন্যরা। তাদের অপপ্রচারে মানহানি হয়েছে দাবি করে আজ দুপুরে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন নুরুল ইসলাম।
আইনজীবী আজাদ রহমান বলেন, গত জুলাই মাসে বরিশালসহ আট বিভাগীয় শহরে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। তবে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর কোনো মামলা হয়নি। আজই তিনি বাদীর হয়ে প্রথম মামলাটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন। সেদিক দিয়ে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে এটিই প্রথম মামলা ।

























