বরিশালে মিডিয়া ম্যানেজে ব্যস্ত দুই আনসার কর্মকর্তা।
- আপডেট সময় : ০১:০০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই ২০২১ ১৪৮ বার পড়া হয়েছে

শামীম আহমেদ :: বরিশাল সদর উপজেলায় ইউনিয়ন নির্বাচনী দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে শিরোনামে আনসার কর্মকর্তার মেরিনা ও আয়েশার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পরই মিডিয়া ম্যানেজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তারা। এবং কি তাদের ঘুষ বানিজ্যের সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য মোটা অংকের টাকা দিয়ে তাদের ম্যানেজ করে অনলাইন নিউজ পোর্টালে তাদের পক্ষে সংবাদের প্রতিবাদ দিয়েছেন। এছাড়াও সংবাদকর্মীরা ঘুষ বাণিজ্যে বিষয়টি জানতে চাইলেই তাদের চায়ের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন অভিযুক্ত মেরিনা।
তিনি আরো বলেন নির্বাচন গত ২১ জুন শেষ হয়েছে। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে তার অনেক পরে অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি ষড়যন্ত্র মনে হচ্ছে। তবে একটি গোপন সূত্রে জানা গেছে, আনসার কর্মকর্তার মেরিনা ও আয়েশার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যে সংবাদ না করার জন্য তাদেরই পরিচিত এক সাংবাদিককে পত্রিকা অফিসে পাঠান মোটা অংকের টাকা নিয়ে মিডিয়া ম্যানেজে করার জন্য। এবং কি তাদের বিরুদ্ধে যেন সংবাদ প্রকাশ না করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, মিডিয়া ম্যানেজ করার জন্য এক পরিচিত সাংবাদিককে ২৫ হাজার টাকা দিয়েছে অভিযুক্তরা। এছাড়াও আনসার কর্মকর্তা মেরিনা ও আয়েশার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যে ছাড়াও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, এবার বরিশাল উপজেলার চার ইউনিয়ন টুঙ্গিবাড়িয়া, চরবাড়িয়া, জাগুয়া ও কাশিপুর নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী অন্তত ৬ শতাধিক সদস্য’র কাছ থেকে নির্ধারিত হারে এই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। উ
পজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মেরিনা আক্তার এবং পরিদর্শক আয়েশা সুলতানা উত্তেলিত অর্থ হাতিয়ে নিলেও মাঠপর্যায়ে ব্যবহৃত হয়েছেন দলপ্রতিরা। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, যাদের কাছ থেকে অর্থ উত্তেলন করা হয়েছে, শেষে তাদের অনেককে ডিউটি দিতে না বিষয়টি ক্ষোভ আকারে প্রকাশ পেয়েছে।
সংক্ষুব্ধরা জানিয়েছে, বরিশাল সদরের চার ইউনিয়নের ৩৬ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী ৬১২ জন সদস্যের কাছ থেকে ৫০০ টাকা হারে টাকা উত্তেলন করে দলনেতারা। এই টাকা একত্রিত করে নির্বাচনপূর্ব দুই নারী কর্মকর্তা মেরিনা আক্তার ও আয়েশা সুলতানাকে বুঝিয়ে দেন। অবশ্য এই অভিযোগ দুই নারী কর্মকর্তা অস্বীকার করলেও অনুসন্ধানে নির্বাচনী ডিউটি নিয়ে যে বড় ধরনের লেনদেন বা অনিময় তার আলামত ঠিকই মিলেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরকাউয়া ইউনিয়নের একাধিক আনসার ও ভিডিপি সদস্য জানান, এই ইউনিয়নের অন্তত ১০০ জনের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনী ডিউটি দিতে না পেরে অনেককে আবার সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। এখানে ব্যবহৃত হয়েছেন ইউনিয়ন দলপ্রতি জাহাঙ্গীর হোসেন। মূলত তিনি নির্ধারিত হাতে অর্থ উত্তোলন করে তা দুই নারী কর্মকর্তা কাছে পৌছে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন সদস্যরা। তবে আনসারদের অপর একটি সূত্র জানায়, এই ইউনিয়ন থেকে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে উত্তোলন করা হলেও অফিস ম্যানেজে মেরিনা ও আয়েশাকে দেওয়া হয়েছে ৩০০ টাকা করে। জনপ্রতি বাকি ২০০ টাকা করে ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীরসহ বেশ কয়েকজন পকেটস্থ করেছেন। প্রথমে জাহাঙ্গীর এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও তার সাথে দীর্ঘক্ষণের আলাপচারিতায় প্রকাশ পেয়েছে শুধু তিনিই নন, প্রতিটি কেন্দ্র থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এবং তার কিছু অংশ নিজেরা রেখে বাকি অংশ অফিস ম্যানেজ করতে দুই নারী কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে। অনুরুপ অভিযোগ এসেছে, অপর তিনটি ইউনিয়ন জাগুয়া, কাশিপুর ও চরবাড়িয়া থেকেও।
চরবাড়িয়া ইউনিয়ন দলনেতা মেহেদী, কাশিপুরের ফিরোজা এবং জাগুয়ার সালেহা বেগমও একইভাবে অন্তত ৫ শতাধিক সদস্যর কাছ থেকে অর্থ উত্তোলন করেন। আনসারের ভেতরের একটি সূত্র নিশ্চিত করে, এবারের ইউনিয়ন নির্বাচনে সব মিলিয়ে ৬ শতাধিক আনসার সদস্যদের কাছ থেকে ৩ লক্ষাধিক টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছিল। এই টাকার একটি অংশ ইউনিয়ন পর্যায়ের দলপ্রতিরা নিলেও বাকি টাকা অফিস ম্যানেজে দুই নারী কর্মকর্তা মেরিনা ও আয়েশাকে দেওয়া হয়েছে।
ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের কাছে অর্থ নির্বাচনের আগেই পৌঁছে দিয়েছেন। অপর একটি সূত্র জানায়, দুই নারী কর্মকর্তা অফিস ম্যানেজের এর পূর্বেও লাখ লাখ টাকা নিলেও এবার ডিউটি বঞ্চিতদের ক্ষোভে তা প্রকাশ পেয়ে গেছে। কারণ এবার যে সংখ্যক লোকজনের কাছ থেকে অর্থ তোলা হয়েছে, তাদের অনেকেই ডিউটি পায়নি। পরে অবশ্য ডেকে ডেকে তাদের অর্থ ফেরত দিলেও বিষয়টি নিয়ে এখনও ভেতরে ভেতরে অসন্তোস শোনা যায়। কিন্তু নির্বাচনী ডিউটি বণ্টন নিয়ে আর্থিক লেনদেনের এমন অভিযোগ সমূলে অস্বীকার করেছেন দুই নারী কর্মকর্তা।
তাদের ভাষ্য, অভিযোগ যে কেউ করতেই পারে, কিন্তু সেটা সঠিক কী না যাচাই-বাচাই করতে হবে। তাছাড়া মাঠপর্যায়ের কেউ তাদের নাম করে অর্থ উত্তোলন করেছে কী না সেটিও তদন্ত করার আছে বলেন তারা। দুই কর্মকর্তা এমন দাবি করলেও তারা এবার ঘুষ বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন, তা খোদ আনসার অফিসের এক কর্মী নিশ্চিত করেছেন। যদিও তিনি নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
এই বিষয়ে জানতে বরিশাল জেলা আনসার সহকারী কমান্ডেন্ট মোঃ রাকিব হোসেন বলেন, মেরিনা ও আয়েশা বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্যর একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঘুষ বানিজ্যর বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল জেলা আনসার কমান্ডেন্ট আম্মার হোসেন বলেন, বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, ঘুষ বানিজ্যর ঘটনাটি সত্য হলে তাদের কোন রকমের ছাড় দেওয়া হবে না। এআগেও আনসার কর্মকতা আয়শা বিরুদ্ধে বরিশালের স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় একাধিক বার তার বিরুদ্ধে ঘুষ কেলেঙ্কারির সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। তার পরেও তিনি অফিসকে ম্যানেজ করে র্দীঘ দিন ধরে বরিশালে কর্মরত রয়েছে।


























