সংবাদ শিরোনাম ::
বিজয়নগরে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে নিহত ১ আহত ৫ ঝালকাঠির ভীমরুলির ভাসমান পর্যটন কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভাড়া ও উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্স বাজানোর দায়ে অভিযান দর্শনায় বিজিবির অভিযানে ১৩ কোটি টাকার স্বর্ণসহ এক পাচারকারী আটক বিজয়নগর উপজেলা আমতলী বাজারের vision এর নতুন শো রুমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে, বাবুগঞ্জে নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কাজের উদ্বোধন বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম। ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যেন ঈমান ধরে রাখতে পারি….।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৪:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মে ২০২১ ১৫২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স

দর্শনার মেয়ে রীতা গত রাতে আমাকে ফোন দেয়। তার অসহায়ত্ব আর দারিদ্রের কথা উপস্হাপন করে এবং কিছু সহায়তা প্রত্যাশা করে। এরই প্রেক্ষিতে আজ তার বাড়ি খাবার এবং নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।

অধিকাংশ দিনই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা আক্রান্ত, কর্মহীন, অসহায় মানুষের বাড়ি খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু, আজ বিষয়টা লিখতে ইচ্ছে করলো কারণ রীতা আমাকে আজ অনেক কিছু শিখিয়েছে যা শুধু পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে অর্জন করা যায় না।

রীতার বয়স মাত্র ৩৪। কিন্তু দারিদ্র্য, শারীরিক অসুস্হতা আর মানসিক টানাপোড়নে আজ প্রৌঢ়ত্ব ছুঁয়ে গেছে তাকে। যে বয়সে স্বামী সন্তানসহ সুখে সংসার করার কথা ছিল, সে বয়সে সে তার বিধবা মায়ের কাঁধে গলগ্রহের মতো দিন যাপন করছে। ২৩ বছর বয়সে ব্রেন স্ট্রোক করে সে। স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যায়। সহায় সম্বলহীন রীতা তখন থেকে তার মায়ের আশ্রয়ে থাকতে শুরু করে। তার মা ৩ বার স্ট্রোক করেছেন। তারপরও তিনি বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাপড়ের ব্যবসা করে কোন রকম অন্নের সংস্হান করেন। রীতা ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না,দাঁড়াতে পারছে না, ক্লান্ত কন্ঠে সে আমাকে জানায় শত দারিদ্রের কষাঘাত, অসুস্হতাতেও সে বিচলিত হয় না। যেভাবে সে আল্লাহর ইবাদত করছে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত এভাবেই যেন সে ঈমান ধরে রাখতে পারে।

আমি অবাক হয়ে শুনেছি তার কথা। কোন পার্থিব প্রতিকূলতা – ই তার ঈমাণী জ্যোতিকে নিষ্প্রভ করতে পারেনি। অথচ আমরা আল্লাহর হাজার নিয়ামতের মধ্যে থেকেও ক্ষুদ্র কোন অপ্রাপ্তির শূণ্যতায় বিচলিত হয়ে যাই প্রায়শই।

আমাদের দেখে রীতা আবেগ আপ্লুত হয়ে যায়। তার একটা ফোনে তার বাড়ী সাহায্য পৌঁছে দেওয়ায় আনন্দ অশ্রু লুকানোর চেষ্টা করছিল মুহুর্মুহু। সর্বোপরি, রীতার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বড় অংকের টাকা। রীতার দাবী যদি কোন সহৃদয়বান, সুশীল সমাজ তার পাশে দাঁড়ায় তবে সে হয়তো সুস্হভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে। তাকে দেখে অন্যান্যরাও ইসলামী জীবনাচরণে উদ্বুদ্ধ হবে। আমি তার সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যেন ঈমান ধরে রাখতে পারি….।

আপডেট সময় : ০২:০৪:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মে ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স

দর্শনার মেয়ে রীতা গত রাতে আমাকে ফোন দেয়। তার অসহায়ত্ব আর দারিদ্রের কথা উপস্হাপন করে এবং কিছু সহায়তা প্রত্যাশা করে। এরই প্রেক্ষিতে আজ তার বাড়ি খাবার এবং নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।

অধিকাংশ দিনই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা আক্রান্ত, কর্মহীন, অসহায় মানুষের বাড়ি খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু, আজ বিষয়টা লিখতে ইচ্ছে করলো কারণ রীতা আমাকে আজ অনেক কিছু শিখিয়েছে যা শুধু পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে অর্জন করা যায় না।

রীতার বয়স মাত্র ৩৪। কিন্তু দারিদ্র্য, শারীরিক অসুস্হতা আর মানসিক টানাপোড়নে আজ প্রৌঢ়ত্ব ছুঁয়ে গেছে তাকে। যে বয়সে স্বামী সন্তানসহ সুখে সংসার করার কথা ছিল, সে বয়সে সে তার বিধবা মায়ের কাঁধে গলগ্রহের মতো দিন যাপন করছে। ২৩ বছর বয়সে ব্রেন স্ট্রোক করে সে। স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যায়। সহায় সম্বলহীন রীতা তখন থেকে তার মায়ের আশ্রয়ে থাকতে শুরু করে। তার মা ৩ বার স্ট্রোক করেছেন। তারপরও তিনি বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাপড়ের ব্যবসা করে কোন রকম অন্নের সংস্হান করেন। রীতা ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না,দাঁড়াতে পারছে না, ক্লান্ত কন্ঠে সে আমাকে জানায় শত দারিদ্রের কষাঘাত, অসুস্হতাতেও সে বিচলিত হয় না। যেভাবে সে আল্লাহর ইবাদত করছে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত এভাবেই যেন সে ঈমান ধরে রাখতে পারে।

আমি অবাক হয়ে শুনেছি তার কথা। কোন পার্থিব প্রতিকূলতা – ই তার ঈমাণী জ্যোতিকে নিষ্প্রভ করতে পারেনি। অথচ আমরা আল্লাহর হাজার নিয়ামতের মধ্যে থেকেও ক্ষুদ্র কোন অপ্রাপ্তির শূণ্যতায় বিচলিত হয়ে যাই প্রায়শই।

আমাদের দেখে রীতা আবেগ আপ্লুত হয়ে যায়। তার একটা ফোনে তার বাড়ী সাহায্য পৌঁছে দেওয়ায় আনন্দ অশ্রু লুকানোর চেষ্টা করছিল মুহুর্মুহু। সর্বোপরি, রীতার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বড় অংকের টাকা। রীতার দাবী যদি কোন সহৃদয়বান, সুশীল সমাজ তার পাশে দাঁড়ায় তবে সে হয়তো সুস্হভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে। তাকে দেখে অন্যান্যরাও ইসলামী জীবনাচরণে উদ্বুদ্ধ হবে। আমি তার সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।