রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

Notice :
প্রকাশ্যে ধূমপান করে তোপের মুখেপড়া এক তরুণীর ভিডিও ভাইরাল।চরমোনাই পীরের ওয়াজ মাহফিল বাতিল।বিএনপির কোনো নেতাকর্মী যেন পদ্মা সেতু পার না হয় বললেন শাজাহান খান।জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভাতাপ্রাপ্ত প্রায় দুই হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার বয়স ৫০–এর নিচে।করোনা আক্রান্ত কনের অভিনব পদ্ধতিতে বিয়ে (ভিডিও)আবাসিক হোটেলে জনপ্রিয় অভিনেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ।পুলিশে হঠাৎ বড় রদবদল।ইউটিউবে যাত্রা শুরু করছেন মিজানুর রহমান আজহারী।
সর্বশেষ সংবাদ :
আ’লীগ সভাপতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এক বুক কষ্ট নিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেন খিজির সরদার। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আ’লীগ সভাপতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এক বুক কষ্ট নিয়ে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেন খিজির সরদার। আজকের ক্রাইম-নিউজ

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥
অবিভক্ত বাংলার মূখ্যমন্ত্রী শের-ই বাংলা আবুল কাসেম ফজলুল হকের পূন্যভূমি চাখার ইউনিয়নকে আলোকিত এক তিলোত্তমা ইউনিয়নে রূপান্তর করতে আবারও নৌকার মাঝি হতে চেয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি,চাখার সরকারী ফজলূল হক কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ খিজির সরদার । কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে নৌকার টিকিট না পেয়ে মুষড়ে পড়েন মুজিব অন্তঃপ্রাণ এ নেতা। ক্ষোভ ও অভিমানে বিদ্রোহী প্রার্থীও হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসসহ নেতৃবৃন্দের প্রতি অকুন্ঠ শ্রদ্ধা জানিয়ে ২৪ মার্চ বুধবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও তার হৃদয়ে অনবরত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তিনি নিজ এলাকাকে মনের মতো করে তিলোত্তমা রূপে সাঁজাতে চেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ কোন নেতাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে তার হৃদয়েএ ক্ষত কিংবা রক্তক্ষরণ হতোনা বলে জানিয়ে এখানে বিএনপি থেকে আসা ও হত্যা মামলার চার্জশীটভূক্ত আসামীকে নৌকার টিকিট দেওয়ায় তার এ মনোঃকষ্ট বলে খিজির সরদার জানান। তিনি আরও জানান, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হয়ে শরীরে এক বিন্দু রক্ত ও নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ,লাল-সবুজ পতাকা,স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতিক নৌকার বিরোধীতা করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে বিএনপি থেকে আসা ও হত্যা মামলার আসামীর হাতে এলাকার নেতৃত্ব তুলে দিয়ে শেরে বাংলার স্মৃতিধন্য পূণ্যভূমি শান্তির জনপদ চাখারকে রক্তাক্ত জনপদে ফিরিয়ে দেওয়াও তার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রসঙ্গত ১৯৭৫ সালের অচিন্তনীয় বিয়োগান্তুক অধ্যায়ের পরে নিষ্ক্রিয় আওয়ামীলীগকে সুসংগঠিত করতে তৎকালীণ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সর্বজন শ্রদ্ধেয় সৈয়দ আমিনুল ইসলাম জাকির স্যারের মাধ্যমে ১৯৭৭ সালে চাখার সরকারী ফজলুল হক কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে খিজির সরদারের রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক হাতে খড়ি। এর পর তিনি ওই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালণ করে মেধাবী ও জনপ্রিয় ছাত্রনেতা হিসেবে ১৯৮০-৮১ শিক্ষা বর্ষে ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন। ওই সময় তুখোর ছাত্রনেতা হিসেবে ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালণ করেন। খিজির সরদার ১৯৮৬ সালে উপজেলা আওয়ামীলীগের সমাজকল্যান সম্পাদক ও পরবর্তীতে দুই বার উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি প্রায় তিন দশক চাখার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালণ করে দলকে সুসংগঠিত করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধা,দারিদ্র,সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত শোষণ-বৈষম্যহীন,অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল স্বপ্নের সোনারবাংলা বির্নিমান করতে দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৪ দশক ধরে তৃনমূলে রাজনীতি করা দুঃসময়ের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা মুজিব অন্তঃপ্রাণ খিজির সরদার বিএনপি-জামায়াতের বিভীষিকাময় সময়ে সন্ত্রাস কবলিত জনপদ চাখারে আওয়ামীলীগকে সুসংগঠিত করে আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালণ করেন । তখন তিনি বিএনপি-জামায়াতের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে এলাকায় থেকে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যান এবং বিশাল কর্মী বাহিনী নিয়ে উপজেলা,জেলা ও কেন্দ্রে দলের প্রতিটি সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করতেন। ওই সময় বিএনপি-জামায়াতের রোষানলে পড়ে মিথ্যা মামলা ও নির্যাতন সহ নানা হয়রানির শিকার হন তিনি। চাখারের চাউলাকাঠি সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার গভর্নি বডির সভাপতি ও সোনাহার দাখিল মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি এবং ঐতিহ্যবাহী চাখার ফজলুল হক ইনস্টিটিউশন ও ওয়াজেদ মেমোরিয়াল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী সদস্য খিজির সরদার এলাকায় একজন শিক্ষানুরাগী,সদালপি,পরোপকারী, অন্যায়ের প্রতিবাদকারী,ষ্পষ্টভাষী, সন্ত্রাস-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন, বিনয়ী, মিষ্টভাষী ও সৎ হিসেবে সর্বমহলে সুপরিচিত। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে তিনি নৌকার টিকিটে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে গত ৫ বছর ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে চাখার ইউনিয়নকে উন্নত,আধুনিক ও সমৃদ্ধ ইউনিয়নে রূপ দিয়েছেন। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি শেরে বাংলার পূণ্যভূমি চাখারকে সন্ত্রাস,দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত,আদর্শ,আধুনিক এক আলোকিত ডিজিটাল ইউনিয়নে রুপান্তর করতে চেয়েছিলেন । তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল উপজেলা হিসেবে বানারীপাড়াকে এবং প্রথম ডিজিটাল ইউনিয়ন হিসেবে চাখারকে গড়ে তুলতে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিরলসভাবে অসমাপ্ত কাজ করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ী ছিলেন। তবে জনপ্রতিনিধি না থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে আমৃত্যু এলাকাবাসীর সুখ-দুঃখে ছায়ার মতো পাশে থাকবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মুজিব প্রেমী এ নেতা। ###

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019
Bengali English