সংবাদ শিরোনাম ::
বিজয়নগর উপজেলা আমতলী বাজারের vision এর নতুন শো রুমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে, বাবুগঞ্জে নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কাজের উদ্বোধন বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম। ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেখার যেন কেউ নেই ! বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কে খানাখন্দে অন্তহীণ জনদুর্ভোগ বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩জনকে আসামি করে মামলা কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

ভোটার তালিকায় ‘মৃত’, তাই টিকা নিতে পারছেন না স্কুলশিক্ষক। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৮:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ১১৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স
লালমনিরহাটে একজন স্কুল শিক্ষককে ভোটার তালিকায় মৃত দেখানোয় তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্র ভোগ করতে পার পারছেন না সরকারের দেওয়া অধিকাংশ সুযোগ-সুবিধা। এমনকি তিনি নিতে পারেননি করোনার ভ্যাকসিনও। এমন অভিযোগ করেছেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কাকেয়া টেপা গ্রামের মৃত হিরম্বয় চন্দ্র রায়ের ছেলে লক্ষী কান্ত রায়।

তিনি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার বালা পুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ভোটার তালিকায় তার নাম না থাকায় গত সংসদ নির্বাচনসহ কোন নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি তিনি, নিতে পারেননি করোনা ভ্যাকসিনও।
স্কুল শিক্ষক লক্ষ্মী কান্ত রায় জানান, বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনও করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। তিনি বিভিন্ন বিড়ম্বনার শিকারও হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে তিনি সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ করলে ২০১৪ সালের ৩ জুন তার মৃত্যু হয়েছে মর্মে একটি কাগজ ধরিয়ে দেয়া হয়।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি মারা গেছেন মর্মে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নাম কর্তনের আবেদনপত্রে তথ্য সরবরাহকারীর নাম লেখা রয়েছে ওই গ্রামের বাসিন্দা শ্রী মন মোহন রায়ের।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারী ধাইরখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোমিনুর রহমান, মোগলহাট ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আফতাবউজ্জামান স্বাক্ষরিত ওই আবেদনপত্রে তাকে মৃত দেখানো হয়। এ ঘটনায় একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন নাম কর্তনের আবেদনপত্রে স্বাক্ষরকারীরা।
তথ্য সরবরাহকারী শ্রী মন মোহন রায় জানান, আবেদনপত্রে তার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ তিনি এ বিষয়ে কাউকে কোনো তথ্য দেননি।
মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, নাম কর্তনের আবেদনপত্রে তার স্বাক্ষর ও অফিস সিল জাল করা হয়েছে। আদৌউ তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান।
তথ্য সংগ্রহকারী মোমিনুর রহমান জানান, তিনি অন্য ইউনিয়নের লোক। তথ্য সরবরাহকারির তথ্য মতেই স্কুলশিক্ষক লক্ষ্মী কান্ত রায়কে মৃত দেখানো হয়েছে। ওই নামে অন্য কেউ মারা যাওয়াতে এমন সমস্যা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আফতাবউজ্জামান বলেন, স্কুলশিক্ষকদের এই কাজে (ভোটার তালিকার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা) নিয়োগ দেয় উপজেলা নির্বাচন অফিস। সরবরাহকৃত তথ্যের ওপর সুপারভাইজাররা শতকরা ২৫ ভাগ যাচাই-বাছাই করে থাকেন। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবেদনপত্রে আমরা স্বাক্ষর করে থাকি।
চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন অস্বীকার করলে তো আর কিছু করার নেই।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজাদুল হেলাল জানান, ওই নামে অন্য এক লোক মারা যাওয়ায় ভুলবশত তার নাম আবেদনপত্রে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।
লালমনিরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসান জানান, বিষয়টি বুঝতে পেড়ে লক্ষ্মী কান্ত রায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি এতদ্বসংক্রান্ত বিষয়ে ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন। আমরা ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভোটার তালিকায় ‘মৃত’, তাই টিকা নিতে পারছেন না স্কুলশিক্ষক। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৫:১৮:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স
লালমনিরহাটে একজন স্কুল শিক্ষককে ভোটার তালিকায় মৃত দেখানোয় তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্র ভোগ করতে পার পারছেন না সরকারের দেওয়া অধিকাংশ সুযোগ-সুবিধা। এমনকি তিনি নিতে পারেননি করোনার ভ্যাকসিনও। এমন অভিযোগ করেছেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কাকেয়া টেপা গ্রামের মৃত হিরম্বয় চন্দ্র রায়ের ছেলে লক্ষী কান্ত রায়।

তিনি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার বালা পুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ভোটার তালিকায় তার নাম না থাকায় গত সংসদ নির্বাচনসহ কোন নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি তিনি, নিতে পারেননি করোনা ভ্যাকসিনও।
স্কুল শিক্ষক লক্ষ্মী কান্ত রায় জানান, বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনও করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। তিনি বিভিন্ন বিড়ম্বনার শিকারও হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে তিনি সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ করলে ২০১৪ সালের ৩ জুন তার মৃত্যু হয়েছে মর্মে একটি কাগজ ধরিয়ে দেয়া হয়।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি মারা গেছেন মর্মে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নাম কর্তনের আবেদনপত্রে তথ্য সরবরাহকারীর নাম লেখা রয়েছে ওই গ্রামের বাসিন্দা শ্রী মন মোহন রায়ের।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারী ধাইরখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোমিনুর রহমান, মোগলহাট ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আফতাবউজ্জামান স্বাক্ষরিত ওই আবেদনপত্রে তাকে মৃত দেখানো হয়। এ ঘটনায় একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন নাম কর্তনের আবেদনপত্রে স্বাক্ষরকারীরা।
তথ্য সরবরাহকারী শ্রী মন মোহন রায় জানান, আবেদনপত্রে তার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ তিনি এ বিষয়ে কাউকে কোনো তথ্য দেননি।
মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, নাম কর্তনের আবেদনপত্রে তার স্বাক্ষর ও অফিস সিল জাল করা হয়েছে। আদৌউ তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান।
তথ্য সংগ্রহকারী মোমিনুর রহমান জানান, তিনি অন্য ইউনিয়নের লোক। তথ্য সরবরাহকারির তথ্য মতেই স্কুলশিক্ষক লক্ষ্মী কান্ত রায়কে মৃত দেখানো হয়েছে। ওই নামে অন্য কেউ মারা যাওয়াতে এমন সমস্যা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আফতাবউজ্জামান বলেন, স্কুলশিক্ষকদের এই কাজে (ভোটার তালিকার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা) নিয়োগ দেয় উপজেলা নির্বাচন অফিস। সরবরাহকৃত তথ্যের ওপর সুপারভাইজাররা শতকরা ২৫ ভাগ যাচাই-বাছাই করে থাকেন। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবেদনপত্রে আমরা স্বাক্ষর করে থাকি।
চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন অস্বীকার করলে তো আর কিছু করার নেই।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজাদুল হেলাল জানান, ওই নামে অন্য এক লোক মারা যাওয়ায় ভুলবশত তার নাম আবেদনপত্রে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।
লালমনিরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসান জানান, বিষয়টি বুঝতে পেড়ে লক্ষ্মী কান্ত রায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি এতদ্বসংক্রান্ত বিষয়ে ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন। আমরা ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি।