সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা বরিশালে পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন: সম্প্রীতির আহ্বান, গুণীজনদের সম্মাননা মোরেলগঞ্জে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় সংলাপ মোরেলগঞ্জে দুদকের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ চিতলমারীতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি বানারীপাড়ায় নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বিসিসির ৬৪৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা *‘স্মার্ট, সবুজ ও জনবান্ধব বরিশাল’ গড়ার অঙ্গীকার ঠিকাদারের মৃত্যুর পর বন্ধ সড়ক সংস্কার, দ্রুত কাজ শুরুর দাবিতে নলছিটিতে মানববন্ধন জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে ঝালকাঠিতে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠি পৌরসভার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন

স্কুলছাত্রীর গলায় চাকু ধরে ধর্ষণ, এক লাখ ২৫ হাজার টাকায় রফা! আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৩:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২০ ১৫০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরগুনা প্রতিনিধি :: বরগুনায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর ধর্ষণের বিচার হিসেবে এক লাখ ২৫ হাজার টাকায় রফা ও স্কুলছাত্রীর বাবা মামলা করতে এসেও স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান মামলা করতে দেয়নি। এমনি বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষণে অভিযুক্ত হৃদয়ের বাবার নিকট থেকে চেয়ারম্যান জরিমানার অর্ধেক ৭৫ হাজার টাকা আদায় করে নিজের কাছে রাখেন। এমনই অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

স্কুলছাত্রীর বাবা যাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা হলেন- বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ইটবাড়ীয়া গ্রামের মজিদ সিকদারের ছেলে হৃদয় (২৭), হেউলিবুনিয়া গ্রামের সুলতান গাজীর ছেলে রাসেল (৩০) ও হৃদয়ের বন্ধু জলিল মাঝির ছেলে রাব্বি (২০)।

জানা যায়, স্কুলছাত্রীর বাবা বশির সিকদার ৩০ নভেম্বর বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে এসে তার আইনজীবীর নিকট তথ্য দেয়, তার নাবালিকা মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। ২৭ নভেম্বর সকাল অনুমান নয়টার সময় তার মেয়ে প্রতিবেশী লিজার নিকট প্রাইভেট পড়ার জন্য রাস্তার উপর দাড়ায়। এ সময় হৃদয়ের নেতৃত্বে অন্যান্যরা দুইটি মোটরসাইকেলে করে এসে স্কুলছাত্রীর গলায় চাকু ধরে খুনের ভয় দেখিয়ে অপহরণ করে তালতলী উপজেলার লাউপাড়া গ্রামে হৃদয়ের মামাত বোন খাদিজার বাড়িতে নিয়ে যায়। স্কুলছাত্রীকে খাদিজার বাড়িতে রেখে রাতে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরের দিন ওই স্কুলছাত্রী হৃদয়ের ফোন দিয়ে তার ফুফু মাকসুদাকে জানায়। মাকসুদা ফোন পেয়ে ২৮ নভেম্বর তাকে উদ্ধার করে।

স্কুলছাত্রীর বাবা বশির খলিফা বলেন, ‘আমি ৩০ নভেম্বর অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে উকিলের চেম্বারে যাই। বিচারক ছুটিতে থাকায় মামলা লেখা সম্পন্ন করেও মামলা করতে পারিনি। এরপর বাড়ি যাবার পরে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক আমাকে ডেকে আপোস করে দেন। চেয়ারম্যান বলেন, আমাকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা অপরাধীরা দিবে এবং হৃদয়কে বিচার করবে। আমি রাজি না হলেও আমার মেয়ের নানা রাজি হয়। হৃদয় আমার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। অন্যরাও আমার মেয়েকে অপহরণ করেছে।’

চেয়ারম্যান আজিজুল হক বলেন, ‘হৃদয়ের অভিভাবক ও অন্যান্যরা আমার কাছে বৃহস্পতিবার ৭৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছে। বাকি টাকা জমা দিলে আমি মেয়ের বাবাকে দিয়ে দেব। আমি ওদের বিচারও করব।’

তবে অভিযুক্ত হৃদয়ের ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কোন তথ্য জানা নেই। থানায় মামলা হলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারতাম। তবে এটি জঘন্য অপরাধ।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

স্কুলছাত্রীর গলায় চাকু ধরে ধর্ষণ, এক লাখ ২৫ হাজার টাকায় রফা! আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৩:১৩:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২০

বরগুনা প্রতিনিধি :: বরগুনায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর ধর্ষণের বিচার হিসেবে এক লাখ ২৫ হাজার টাকায় রফা ও স্কুলছাত্রীর বাবা মামলা করতে এসেও স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান মামলা করতে দেয়নি। এমনি বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষণে অভিযুক্ত হৃদয়ের বাবার নিকট থেকে চেয়ারম্যান জরিমানার অর্ধেক ৭৫ হাজার টাকা আদায় করে নিজের কাছে রাখেন। এমনই অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

স্কুলছাত্রীর বাবা যাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা হলেন- বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ইটবাড়ীয়া গ্রামের মজিদ সিকদারের ছেলে হৃদয় (২৭), হেউলিবুনিয়া গ্রামের সুলতান গাজীর ছেলে রাসেল (৩০) ও হৃদয়ের বন্ধু জলিল মাঝির ছেলে রাব্বি (২০)।

জানা যায়, স্কুলছাত্রীর বাবা বশির সিকদার ৩০ নভেম্বর বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে এসে তার আইনজীবীর নিকট তথ্য দেয়, তার নাবালিকা মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। ২৭ নভেম্বর সকাল অনুমান নয়টার সময় তার মেয়ে প্রতিবেশী লিজার নিকট প্রাইভেট পড়ার জন্য রাস্তার উপর দাড়ায়। এ সময় হৃদয়ের নেতৃত্বে অন্যান্যরা দুইটি মোটরসাইকেলে করে এসে স্কুলছাত্রীর গলায় চাকু ধরে খুনের ভয় দেখিয়ে অপহরণ করে তালতলী উপজেলার লাউপাড়া গ্রামে হৃদয়ের মামাত বোন খাদিজার বাড়িতে নিয়ে যায়। স্কুলছাত্রীকে খাদিজার বাড়িতে রেখে রাতে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরের দিন ওই স্কুলছাত্রী হৃদয়ের ফোন দিয়ে তার ফুফু মাকসুদাকে জানায়। মাকসুদা ফোন পেয়ে ২৮ নভেম্বর তাকে উদ্ধার করে।

স্কুলছাত্রীর বাবা বশির খলিফা বলেন, ‘আমি ৩০ নভেম্বর অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে উকিলের চেম্বারে যাই। বিচারক ছুটিতে থাকায় মামলা লেখা সম্পন্ন করেও মামলা করতে পারিনি। এরপর বাড়ি যাবার পরে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক আমাকে ডেকে আপোস করে দেন। চেয়ারম্যান বলেন, আমাকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা অপরাধীরা দিবে এবং হৃদয়কে বিচার করবে। আমি রাজি না হলেও আমার মেয়ের নানা রাজি হয়। হৃদয় আমার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। অন্যরাও আমার মেয়েকে অপহরণ করেছে।’

চেয়ারম্যান আজিজুল হক বলেন, ‘হৃদয়ের অভিভাবক ও অন্যান্যরা আমার কাছে বৃহস্পতিবার ৭৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছে। বাকি টাকা জমা দিলে আমি মেয়ের বাবাকে দিয়ে দেব। আমি ওদের বিচারও করব।’

তবে অভিযুক্ত হৃদয়ের ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কোন তথ্য জানা নেই। থানায় মামলা হলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারতাম। তবে এটি জঘন্য অপরাধ।’