টাকার জন্য মা-বাবাকে মেরে হাসপাতালে পাঠালেন মেয়ে। আজকের ক্রাইম-নিউজ
- আপডেট সময় : ০৬:১৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ নভেম্বর ২০২০ ১২২ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স:: টাকার জন্য মা-বাবাকে মেরে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে মেয়ে ও জামাতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন- বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুস সোবহান ও তার স্ত্রী জাহানারা বেগম। তাদের উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আবদুস সোবহানের ছেলে জসীম উদ্দীন বলেন, বাবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ২০১৬ সালের জুন মাসে তিনি অবসরে যান। পরের বছর পেনশনের টাকা উত্তোলন করে ডাকবিভাগে ফিক্সড ডিপোজিট করে রাখেন। পেনশনের টাকা পাওয়ার পর থেকেই বোন সীমা আক্তার এক লাখ টাকা দাবি করতে থাকে এবং বিভিন্ন সময় বাবাকে হয়রানি করতে শুরু করে।
তিনি আরো বলেন, গত অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে আমি ও আমার বাবা এবং মায়ের কাছে টাকা পাবে- মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ করে। পরে ডিবি পুলিশ গিয়ে আমার বাবাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসে। এরপর স্থানীয় আইনজীবী শফিকুল ইসলাম মজিদ সীমাকে চার শতাংশ জমির মূল্যবাবদ ৬০ হাজার টাকা দেয়ার শর্তে মুচলেকা দিয়ে বাবাকে ডিবি কার্যালয় থেকে ছাড়িয়ে আনেন। এ টাকা নভেম্বর মাসের ১৭ তারিখের মধ্যে পরিশোধের কথা ছিল।
কিন্তু সীমা ৬০ হাজার টাকার পরিবর্তে এক লাখ টাকা দাবি করতে থাকে। এ নিয়ে ফের বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে ডিবির এএসআই মিজানুর রহমান ফের বাবাকে ধরতে আমাদের বাড়িতে আসেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার সন্ধ্যায় আইনজীবী আবদুল মজিদের চেম্বারে দেখা করতে যান বাবা। সেখান থেকে ফেরার পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে এএসআই মিজান বাবাকে ধরে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।
জসীম উদ্দীন আরো বলেন, খবর পেয়ে আইনজীবী মজিদ ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে সমঝোতার বৈঠক নির্ধারণ করেন। ডিবি কার্যালয়ে উভয়পক্ষ সমঝোতার জন্য বসেন। এসআই আশরাফ, সুশীল ও এএসআই মিজানসহ ডিবির চার-পাঁচজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সীমা এক লাখ টাকার দাবিতে অনড় থাকায় সমঝোতা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ডিবি কার্যালয়ের ভেতরেই সীমা ও তার স্বামী হাফিজুর রহমান বাবা-মাকে মারধর শুরু করে। তারা মায়ের কাছে থাকা ৬০ হাজার টাকার ব্যাগ কেড়ে নেয়। পরে মা-বাবাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে আইনজীবী আবদুল মজিদ বলেন, বুধবার রাতে আবদুস সোবহানকে হেনস্তা করে ডিবির এএসআই মিজান কার্যালয়ে ধরে নিয়ে যায়। আমি গিয়ে ছাড়িয়ে আনি। আজকের ঘটনাটি ডিবি কার্যালয়ের ভেতরে। আমরা সীমা ও তার স্বামীর হাত থেকে সোবহান ও তার স্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। অথচ ডিবি পুলিশের সদস্যরা তখন ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এ বিষয়ে ডিবির এএসআই মিজানুর রহমান বলেন, সীমার অভিযোগটি দেখার জন্য এসআই আশরাফ স্যারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি আমতলীতে থাকায় ওসি স্যার আবদুস সোবহানকে ডেকে আনার দায়িত্ব আমাকে দিয়েছিলেন। বুধবার দুপুরে আমি তাদের বাড়িতে গিয়ে পাইনি, পরে ওনার স্বজনদের অনুরোধ করে আসি যাতে উনি বৃহস্পতিবার ডিবি কার্যালয়ে উপস্থিত হন। বৃহস্পতিবার রাতে আমি স্টেডিয়াম এলাকা থেকে বৈঠকের তারিখ নিশ্চিত করার জন্য তাকে ডেকে নিয়ে এসেছিলাম।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি জাকির হোসেন বলেন, কার্যালয়ের ভেতরে নয়, বাইরে বাবা-মা ও মেয়ের সাথে সামান্য ঝামেলা হয়েছে।


























