সংবাদ শিরোনাম ::
মোরেলগঞ্জে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় সংলাপ মোরেলগঞ্জে দুদকের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ চিতলমারীতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি বানারীপাড়ায় নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বিসিসির ৬৪৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা *‘স্মার্ট, সবুজ ও জনবান্ধব বরিশাল’ গড়ার অঙ্গীকার ঠিকাদারের মৃত্যুর পর বন্ধ সড়ক সংস্কার, দ্রুত কাজ শুরুর দাবিতে নলছিটিতে মানববন্ধন জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে ঝালকাঠিতে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠি পৌরসভার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ঝালকাঠিতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ননদের জামাইকে ব্লেড দিয়ে আঘাত, গৃহবধূর দাবি আত্মরক্ষা বরিশালে হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে খুশি মালিকরা, প্রশংসিত কাউনিয়া থানা পুলিশ

জামাইকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে কারাগারে শ্বশুর। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২০ ১১৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স:: ইয়াবা দিয়ে আপন মেয়ের জামাইকে ফাঁসাতে গিয়ে ধরা খেয়ে শ্বশুর নিজেই গেলেন কারাগারে। আর এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছেন লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব। ৩ নভেম্বর কুমিল্লার লালমাই উপজেলার তুলাতলিতে এ ঘটনা ঘটে।
তুলাতলী এলাকার ২৪ বছর বয়সী সাকিব হোসেন। তিন বছর একই উপজেলার বেলতলী এলাকার স্বপন মিয়ার মেয়ে স্বপ্নার সঙ্গে প্রেম করেন তিনি। পরে ২০১৭ সালের মে মাসে সাকিব ও স্বপ্না বিয়ে করেন। তবে প্রেমের বিয়ে মানতে পারেননি শ্বশুর স্বপন মিয়া।

২০১৭ সালে জামাই সাকিবের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে নারী নির্যাতন মামলা করেন স্বপন মিয়া। এক মাস দশদিন জেল খেটে জামিনে বের হন সাকিব। সাক্ষ্য-প্রমাণ তেমন না থাকায় মামলাটি শুনানিতে নিষ্পত্তি হয়ে যাবে, এমন খবর শ্বশুরের কানে যায়। শ্বশুর স্বপন ফের সাকিবকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের ৩ নভেম্বর সাকিবের অটোরিকশার সিট কেটে পাঁচটি ইয়াবা রেখে পুলিশকে ফোন করেন। পরে অটোরিকশাসহ সাকিবকে আটক করে পুলিশ। তবে পুলিশের কাছে সন্দেহ হয়।

লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, সাকিব নামে এক অটোচালকের কাছে ইয়াবা আছে, এমন একটি খবর আসে পুলিশের কাছে। পরে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে সাকিবকে আটক করে। তবে এ সময় পুলিশ দেখে সাকিব পালানোর চেষ্টা করেননি। আর নতুন সিট কেটে মাত্র পাঁচটি ইয়াবা রাখার বিষয়টিও সন্দেহজনক মনে হয়। তখন কুমিল্লার এসপিকে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি তদন্তের নির্দেশ দেন। এছাড়া সাকিব কিংবা যেই দোষী হোক গ্রেফতারের আদেশও দেন।

ওসি বলেন, সাকিবের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা রেকর্ড থানায় নেই। এছাড়া লালমাই এলাকায় সাকিবের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা বা সেবনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরে যিনি পুলিশকে ফোন করে সাকিবের ইয়াবার বিষয়ে জানান, তার কল লিস্ট চেক করা হয়। পরে বেরিয়ে আসে ঘটনার রহস্য।

স্বপন মিয়াই মেয়ের জামাই সাকিবকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে চেয়েছেন। পরে ১১ নভেম্বর সাকিবের শ্বশুরকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খানের আদালতে স্বপন মিয়া নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে স্বপন মিয়া জানান, মেয়ের জামাই সাকিবকে ফাঁসাতে একজন লোক দিয়ে অটোরিকশার সিট কাটেন। পরে সিটের ভেতর পাঁচটি ইয়াবা রাখেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জামাইকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে কারাগারে শ্বশুর। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৬:৩০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২০

আজকের ক্রাইম ডেক্স:: ইয়াবা দিয়ে আপন মেয়ের জামাইকে ফাঁসাতে গিয়ে ধরা খেয়ে শ্বশুর নিজেই গেলেন কারাগারে। আর এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছেন লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব। ৩ নভেম্বর কুমিল্লার লালমাই উপজেলার তুলাতলিতে এ ঘটনা ঘটে।
তুলাতলী এলাকার ২৪ বছর বয়সী সাকিব হোসেন। তিন বছর একই উপজেলার বেলতলী এলাকার স্বপন মিয়ার মেয়ে স্বপ্নার সঙ্গে প্রেম করেন তিনি। পরে ২০১৭ সালের মে মাসে সাকিব ও স্বপ্না বিয়ে করেন। তবে প্রেমের বিয়ে মানতে পারেননি শ্বশুর স্বপন মিয়া।

২০১৭ সালে জামাই সাকিবের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে নারী নির্যাতন মামলা করেন স্বপন মিয়া। এক মাস দশদিন জেল খেটে জামিনে বের হন সাকিব। সাক্ষ্য-প্রমাণ তেমন না থাকায় মামলাটি শুনানিতে নিষ্পত্তি হয়ে যাবে, এমন খবর শ্বশুরের কানে যায়। শ্বশুর স্বপন ফের সাকিবকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের ৩ নভেম্বর সাকিবের অটোরিকশার সিট কেটে পাঁচটি ইয়াবা রেখে পুলিশকে ফোন করেন। পরে অটোরিকশাসহ সাকিবকে আটক করে পুলিশ। তবে পুলিশের কাছে সন্দেহ হয়।

লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, সাকিব নামে এক অটোচালকের কাছে ইয়াবা আছে, এমন একটি খবর আসে পুলিশের কাছে। পরে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে সাকিবকে আটক করে। তবে এ সময় পুলিশ দেখে সাকিব পালানোর চেষ্টা করেননি। আর নতুন সিট কেটে মাত্র পাঁচটি ইয়াবা রাখার বিষয়টিও সন্দেহজনক মনে হয়। তখন কুমিল্লার এসপিকে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি তদন্তের নির্দেশ দেন। এছাড়া সাকিব কিংবা যেই দোষী হোক গ্রেফতারের আদেশও দেন।

ওসি বলেন, সাকিবের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা রেকর্ড থানায় নেই। এছাড়া লালমাই এলাকায় সাকিবের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা বা সেবনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরে যিনি পুলিশকে ফোন করে সাকিবের ইয়াবার বিষয়ে জানান, তার কল লিস্ট চেক করা হয়। পরে বেরিয়ে আসে ঘটনার রহস্য।

স্বপন মিয়াই মেয়ের জামাই সাকিবকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে চেয়েছেন। পরে ১১ নভেম্বর সাকিবের শ্বশুরকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খানের আদালতে স্বপন মিয়া নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে স্বপন মিয়া জানান, মেয়ের জামাই সাকিবকে ফাঁসাতে একজন লোক দিয়ে অটোরিকশার সিট কাটেন। পরে সিটের ভেতর পাঁচটি ইয়াবা রাখেন তিনি।