বরিশালে হত্যা মামলার আসামি না ধরে উল্টো বাদীকে হয়রানি করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আজকের ক্রাইম-নিউজ
- আপডেট সময় : ১১:০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২০ ১৫০ বার পড়া হয়েছে

এবিএম মনির হোসেন আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি:: বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকী বন্দর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী কবিতা আক্তার হত্যার ৪ বছর ৯ মাস পেরিয়ে গেলে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারেনি বরিশাল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাদীকে হুমকিসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। আসামিদের কাছ থেকে মোটা অংক উৎকোচ নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির পক্ষপাত অবলম্বন করার অভিযোগও আছে। এ বিষয়ে মামলার বাদী বরিশাল বরিশাল পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এজাহার, বাদির অভিযোগ, স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা জানা গেছে, গৌরনদী পৌরসভার সুন্দরদী মহল্লার মোঃ আইনুল হকের কন্যা ও উপজেলার টরকী বন্দর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী কবিতা আক্তারকে (১৪) একই উপজেলার ধানডোবা গ্রামের লাল মিয়া চকিদারের পুত্র আজাদ হোসেন ওরফে কালু চকিদার (২৫) উত্যক্ত করে আসছিল। কালু চকিদারের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় সে তার সন্ত্রাসী সহযোগীদের নিয়ে একাধিকবার কবিতাকে অপহরণের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে আজাদ হোসেন ওরফে কালু স্কুলছাত্রী কবিতাকে একাধিকবার অপহরণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানায় একটি জিডি করা হয়। ওই দিন রাতে কবিতা নিঁখোজ হন। পরবর্তীতে ২ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সুন্দরদী মহল্লার রাজু ঘরামীর বাড়ির পাশে একটি ডোবা থেকে কবিতার লাশ উদ্ধার করে। সুরাত হাল রিপোর্টে বলা হয়, লাশের পেটের সঙ্গে সিল পাটা রসি দিয়ে বাঁধা ছিল এবং গলায় প্লাস্টিকের সুতলী দিয়ে পেচানো ছিল। তাছাড়া শরীরে বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২ ফ্রেবুয়ারি নিহত কবিতার বাবা বাদি হয়ে আজাদ হোসেন কালুকে প্রধান আসামিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গৌরনদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল তদন্তের জন্য বরিশাল গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দায়িত্ব দেওয়া হয়।
কবিতার বাবা অভিযোগ করে বলেন, বখাটে আজাদ হোসেন ওরফে কালু দলবল নিয়ে মেয়ে কবিতাকে অপহরণ করে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশের বুকের সঙ্গে সিল পাটা বেধে পানিয়ে ডুবিয়ে লাশ গোপন করার চেষ্টা করেছিল। কালু ও তার সন্ত্রাসী সহযোগীরা আমার মেয়েকে অপহরণ করে হত্যা করেছে। প্রায় ৫ বছরেও মামলার অভিযোগপত্র না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে আসামিদের রক্ষায় চেষ্টা করছে। যে কারণে গত ৫ বছরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলা তদন্তের নামে আমাকে হয়রানি করেছে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দিচ্ছে।


























