সংবাদ শিরোনাম ::
উজিরপুরে বসতঘরে ঢুকে বৃদ্ধকে মারধর ও জিম্মি করে লুটপাট, থানায় অভিযোগ বাবুগঞ্জে গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার দর্শনা সীমান্তের ওপারে যাওয়ার পথে মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেফতার এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জের দায়িত্ব পেলেন ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম ঘোড়াঘাটে প্রাথমিক বৃত্তি প্রাপ্ত ৭৬ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ঝালকাঠিতে ডোপ টেস্টেপজেটিভ আসায় ২ মাদকসেবী আটক মামলা তেঁতুলিয়ায় পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে জনবল সংকট ছয় পদের বিপরীতে দায়িত্বে একজন জুলহাস উদ্দীন, তেঁতুলিয়ায় ড্রেজারকাণ্ডে মৃত ৫ জনসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা দাবীতে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ মামরা প্রত্যারের দাবী উজিরপুরে উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে দুদকে আভিযোগ চুয়াডাঙ্গায় ভোরে নামাজ পড়ে ফেরার পথে সাপে কামড়ে এক মুসুল্লির মৃত্যু

চরফ্যাশন থানার (ওসি) মনির হোসেন মিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদা দাবির অভিযোগ। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২০ ২০৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডেক্স প্রতিবেদক

ভোলা চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনির হোসেন মিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার কুলছুমবাগ গ্রামের ফাতেমা অভিযোগ করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা ৪২৩/২০ নং পিটিশনের স্বাক্ষী আমার মেয়ের কাছে ১২ সেপ্টেম্বর রাতে ওই পিটিশনের আসামি আরব আলী গংরা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তাকে অপহরণ চেষ্টা করেন এবং মারপিট করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেন। ওই রাতেই তাকে আহত অবস্থায় চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করি। এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর চরফ্যাশন থানায় একটি এজাহার দাখিল করলে ওসি মনির হোসেন মিয়া এজাহারটি আমলে না নিয়ে উল্টো আসামি পক্ষের থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে আমি ও আমার স্বামীসহ সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা নেন এবং থানার এসআই কেরামতকে আমার বাড়িতে পাঠিয়ে ৫০হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে । আমি ৫ হাজার টাকা দিয়া আমার অক্ষমতার কথা প্রকাশ করলে আমার স্বামীসহ সকলকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানোর হুমকি দেন। আমি ওসি মনিরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন এবং ভয়- ভীতি দেখিয়ে বলেন দাবীকৃত চাঁদা না দিলে সবাইকে জেলে পাঠিয়ে দিব এবং সবাইকে জেলে ধুকে ধুকে মরতে হবে। ওসির দাবি কৃত চাঁদা না দয়ায় ওই রাতেই আমার স্বামী ও চাচা শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেন। পরদিন এক সংবাদকর্মীকে সাথে নিয়ে থানায় গেলে পূর্বের দাবীকৃত চাঁদা পরিশোধ করতে বলেন। আমরা তাদের দাবি কৃত চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ওসি আমাদের সাথে ওমানবিক আচরণ করেন। বৃহস্পতিবার ৪৮১ নং রেজিস্ট্রি ডাকে চরফ্যাশন থানার ওসি মনির হোসেন মিয়ার ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদা দাবীর বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম ভোলা পুলিশ সুপারের নিকট একটি এজাহার দাখিল করেছেন এবং এর অনুলিপি স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহা-পরিদর্শক, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মহা-পরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেছেন।
স্থানীয়ভাবে জানাযায়, ওসি মনির হোসেন মিয়া চরফ্যাশন থানা যোগদানের পর থেকেই তিনি বিতর্কিত ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে প্রকৃত ঘটনার মামলা না নেয়া এবং মিথ্যা মামলা নেয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি এ থানায় যোগদানের পর থেকে এ এলাকায় খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে ওসি মনির হোসেন ব্যর্থ হয়েছেন। ধর্ষণ ও আইন শৃঙ্খলা অবনতি প্রতিবাদে গত শুক্রবার চরফ্যাশন সদরে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে চরফ্যাশন থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) কেরামত আলী বলেন- মামলা রুজু করার দায়িত্ব ওসির। মামলা হওয়ার পর ওসির নির্দেশে আসামি গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছি। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য না।
চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ মনির হোসেন মিয়া তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন- অভিযোগ হওয়ার বিষয়টি জানি। তবে তার অভিযোগ মিথ্যা। ফাতেমা বেগম আমার কাছে কোন মামলা করতে আসেননি । তাছাড়া আসামিরা কত কথাই না বলে। তাদের কথা সত্য না।
ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার এ প্রসঙ্গে বলেন – অভিযোগের কপি নজরে আসেনি। কপি পেলে ব্যবস্থা ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চরফ্যাশন থানার (ওসি) মনির হোসেন মিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদা দাবির অভিযোগ। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৭:১০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২০

ডেক্স প্রতিবেদক

ভোলা চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনির হোসেন মিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার কুলছুমবাগ গ্রামের ফাতেমা অভিযোগ করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা ৪২৩/২০ নং পিটিশনের স্বাক্ষী আমার মেয়ের কাছে ১২ সেপ্টেম্বর রাতে ওই পিটিশনের আসামি আরব আলী গংরা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তাকে অপহরণ চেষ্টা করেন এবং মারপিট করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেন। ওই রাতেই তাকে আহত অবস্থায় চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করি। এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর চরফ্যাশন থানায় একটি এজাহার দাখিল করলে ওসি মনির হোসেন মিয়া এজাহারটি আমলে না নিয়ে উল্টো আসামি পক্ষের থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে আমি ও আমার স্বামীসহ সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা নেন এবং থানার এসআই কেরামতকে আমার বাড়িতে পাঠিয়ে ৫০হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে । আমি ৫ হাজার টাকা দিয়া আমার অক্ষমতার কথা প্রকাশ করলে আমার স্বামীসহ সকলকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানোর হুমকি দেন। আমি ওসি মনিরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন এবং ভয়- ভীতি দেখিয়ে বলেন দাবীকৃত চাঁদা না দিলে সবাইকে জেলে পাঠিয়ে দিব এবং সবাইকে জেলে ধুকে ধুকে মরতে হবে। ওসির দাবি কৃত চাঁদা না দয়ায় ওই রাতেই আমার স্বামী ও চাচা শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেন। পরদিন এক সংবাদকর্মীকে সাথে নিয়ে থানায় গেলে পূর্বের দাবীকৃত চাঁদা পরিশোধ করতে বলেন। আমরা তাদের দাবি কৃত চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ওসি আমাদের সাথে ওমানবিক আচরণ করেন। বৃহস্পতিবার ৪৮১ নং রেজিস্ট্রি ডাকে চরফ্যাশন থানার ওসি মনির হোসেন মিয়ার ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদা দাবীর বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম ভোলা পুলিশ সুপারের নিকট একটি এজাহার দাখিল করেছেন এবং এর অনুলিপি স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহা-পরিদর্শক, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মহা-পরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেছেন।
স্থানীয়ভাবে জানাযায়, ওসি মনির হোসেন মিয়া চরফ্যাশন থানা যোগদানের পর থেকেই তিনি বিতর্কিত ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে প্রকৃত ঘটনার মামলা না নেয়া এবং মিথ্যা মামলা নেয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি এ থানায় যোগদানের পর থেকে এ এলাকায় খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে ওসি মনির হোসেন ব্যর্থ হয়েছেন। ধর্ষণ ও আইন শৃঙ্খলা অবনতি প্রতিবাদে গত শুক্রবার চরফ্যাশন সদরে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে চরফ্যাশন থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) কেরামত আলী বলেন- মামলা রুজু করার দায়িত্ব ওসির। মামলা হওয়ার পর ওসির নির্দেশে আসামি গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছি। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য না।
চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ মনির হোসেন মিয়া তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন- অভিযোগ হওয়ার বিষয়টি জানি। তবে তার অভিযোগ মিথ্যা। ফাতেমা বেগম আমার কাছে কোন মামলা করতে আসেননি । তাছাড়া আসামিরা কত কথাই না বলে। তাদের কথা সত্য না।
ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার এ প্রসঙ্গে বলেন – অভিযোগের কপি নজরে আসেনি। কপি পেলে ব্যবস্থা ব্যবস্থা নেয়া হবে।