ঝালকাঠিতে জামাতার বিরুদ্ধে স্ত্রীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৩:৩৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২০ ২৯২ বার পড়া হয়েছে

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠিতে এক লম্পট জামাইয়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় স্ত্রীকে দিয়ে প্রথম পক্ষের সম্ভ্রান্ত শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। ২৫ বছর সংসার করে বোরহান উদ্দিন খান (৫৫) নামে সেই লম্পট ব্যক্তি গোপনে জর্ডান ফেরত এক নারীকে বিয়ে করেন। এ ঘটনাকে আড়াল করতেই কৌশলে ২য় স্ত্রীকে দিয়ে মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা দিয়ে প্রথম স্ত্রীকে ঘর ছাড়া করেছে নারী কেলেঙ্কারীর হোতা বোরহান।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ পারভীন বেগম (৩০) নামের সেই জর্ডান ফেরত নারী মামলাটি করেন। সে লম্পট বোরহান উদ্দিন খানের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী। এই নারীর নামেও একাধিক পুরুষকে বিয়ে করার নজির রয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
মামলায় বোরহানের প্রথম স্ত্রীর ভাই-বোনসহ কয়েকজন শুভাকাঙ্খিকে জড়ানোর কারণে তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে সেই সম্ভ্রান্ত পরিবারের বড়মেয়ে, জামাতা, ও স্বজনরা এ মনগড়া ও ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহারে প্রশাসন ও উর্ধ্বতন মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
প্রথম স্ত্রী সেলিনা আক্তার লাকি ও তার স্বজনরা জানায় , শহরের পূর্বচাদকাঠি এলাকার বোরহান উদ্দিন খানের সাথে ১৯৯৫ সালে পারিবারিক ভাবে লাকি বেগমের বিয়ে হয়। দীর্ঘ ২৫ বছরে সংসারে তাদের জুবায়ের খান (২২) ও উমায়ের খান (১৬) নামে দুই পুত্র সন্তান হয়। এরমধ্যে গত প্রায় ১০ বছর ধরে স্বামী বোরহান তার অসুস্থ ছোট ভাই কাওছার উদ্দিন খানের স্ত্রী শাহানা পারভিন তনু বেগমের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পরে। বিষয়টি টেরপেয়ে স্ত্রী লাকি তাকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করলেও উল্টো তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে বোরহান।
গত ৫ থেকে ৬ মাস ধরে স্বামী বোরহান তাবলীগ জামাতের নাম করে টানা ১৫ থেকে ২০ দিন বাসার না আসায় সেলিনা আক্তার লাকির মনে সন্দেহ হয়। সে লোক মুখে জানতে পারে স্বামী বোরহান সদর উপজেলার পোনাবালিয়ার মির্জাপুর গ্রামে জনৈক মুরগী ব্যবসায়ী নুরুজ্জামানের বোন পারভীন বেগমকে বিয়ে করে শহরের সুতালরি বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার করছে।
ঘটনার সত্যতা জানতে লাকি বেগম সে দুই পুত্র ও তার ভাইকে নিয়ে গত ৩০ আগষ্ট গোপনে উক্ত বাসার কাছে যায়। সেখানে বাসার মধ্যে পারভিন বেগম , তারভাই নুরুজ্জামান , বোরহানের ছোট ভাই কাওছার ও স্ত্রী তনু বেগমকে শলাপরামর্শরত দেখেন। পরে শহরের পূর্ব চাদকাঠির বাসায় ফিরে এসে ঘরে স্বামী বোরহানকে দেখতে পায়। তাকে এহেন প্রতারনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে তড়িগড়ি বাসা থেকে বাইরে চলে যায়।
পরবর্তীতে বোরহান তার অপকর্মের দায় এড়াতে কথিত ২য় স্ত্রীকে দিয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে পরিকল্পিত ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করে হয়রানির আশ্রয় নিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায় , ৩০ আগষ্ট যে বাড়িতে এ ঘটনার কথা বলা হয়েছে সেখানে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। সেই জর্ডান ফেরত নারীর কেহ চুল কাটা বা অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা বা কোন ভাড়া বাসায় লুটপাটের কোন ঘটনাই ঘটেনি। মূলত বোরহান নিজেকে বাঁচাতে তাঁর কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীকে দিয়ে প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকদের ফাঁসাতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায় , ঝালকাঠি শহরের চাঁদকাঠি এলাকায় বোরহান উদ্দিনের যৌথ মালিকানাধীন আল শেফা ক্লিনিকে কোন তরুনী নার্স টিকে থাকতে পারতেন না। ক্লিনিকের নার্সদের যৌন হয়রানীসহ তাঁদের বিভিন্ন ভাবে উত্ত্যক্ত করতেন লম্পট বোরহান উদ্দিন। এ জন্য ক্লিনিকের অংশিদারেরা বোরহানকে ক্লিনিক থেকে বেড় করে দেন। পরে বোরহান উদ্দিন চাঁদকাঠিতে হিলটন নামে একটি আবাসিক হোটেল স্থাপন করেন। সেখানেও তিনি অসামাজিক কার্যকলাপ করায় তাঁর স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্যর সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও বোরহানের বিরুদ্ধে আরও নারী কেলেঙ্কারী রয়েছে। যা পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে বলে সচেতন মহল মনে করেন।
এদিকে যে নারী এ মামলাটি করেছেন , সেই পারভীন দীর্ঘদিন জর্ডানে ছিলেন। তাঁর একাধিক বিয়ে রয়েছে। অন্য সংসারে দুটি সন্তানও রয়েছে।
এ ব্যাপারে বোরহান উদ্দিন খান জানান , আমার বয়স হয়েছে তাই নিজের সেবা পাওয়ার জন্য এক বছর পূর্বে আমি প্রথম স্ত্রীকে আইনত তালাক দিয়েছি। আমি ছেলেদের সাথে আলাপ করে সবাইকে জানিয়ে ২য় স্ত্রীকে বিয়ে করে আলাদা বসবাস করছিলাম। আমার দ্বিতীয় স্ত্রী বাধ্য হয়ে এ মামলা করেছে। এখন আইনে যা হয় সে ভাবে সুরাহা হবে।
তালাকের বিষয়ে প্রথম স্ত্রী সেলিনা আক্তার লাকি বলেন , তালাক দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ন মিথ্যা। তালাকের কোন প্রমান সে দেখাতে পারবেনা।


























