সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তা সেলিম মিঞা”র প্রচেষ্টায় করোনা মুক্ত তালতলী উপজেলা ।
- আপডেট সময় : ১১:৫১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২০ ২০০ বার পড়া হয়েছে

জলিলুর রহমান স্টাফ রিপোর্টার
দেশে মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব যে আকারে ধারণ করছে এতে বাদ পড়েনি সর্বদক্ষিনের জেলা বরগুনা। বরগুনার ৬টি উপজেলার ৫টিতেই করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগি শনাক্ত হয়েছে। একটি মাত্র উপজেলা তালতলীতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়নি । উপজেলাকে করোনা মুক্ত রাখতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে মোঃ সেলিম মিঞার ভূমিকা রয়েছে ।
জানা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সেলিম মিঞা গত ০৭ অক্টোবর তালতলী উপজেলায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দ্বায়িত্ব পালন করে আসছে। এর কিছু দিন পরেই ঘুর্ণিঝড় বুলবুল সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করেন এবং ক্ষতিস্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করেন। এর পরে আসে মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাব। আসতে থাকে একের পর এক সরকারী নির্দেশনা।
নিদের্শনা গুলো বাস্তবায়নে ও সাধারন মানুষেদের করোনা ভাইরাস সংক্রমন এড়াতে মাঠে দিন রাত কাজ শুরু করেন তিনি। এদিকে চলামান করোনা সময়কালে গত মার্চ থেকে মে পর্যন্ত ১৪০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। যাতে ১ লাখ ১০ হাজার ৩৭০ টাকা জরিমানা করা হয়। বিদেশ ও ঢাকা ফেরত মানুষদের প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন থেকে ১৪ দিন পরে ৩০ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়। পাশাপাশি এই ১৪ দিন নিজেই কোয়ারেন্টিন থাকা ব্যক্তিদের দেখাশুনা করতো। তিনি যোগদানের পর থেকে সরকারী কোনো ছুটি পর্যন্ত নেয়নি। যার কারনে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে আমাদের সেলিম স্যার। যার সাহসিকতার প্রশংসা করছে সতেচন মহল।
সতেচন মহল বলছে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও বর্তমান সহকারী কমিশনা(ভূমি) সেলিম মিঞা এ উপজেলায় পদায়ন করার পর থেকেই তালতলীকে গতিশীল করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন এবং সমালোচনার ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করছেন। পাশাপাশি তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মিয়ার তাদের দুইজনের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারনে এখনো করোনা মুক্ত আছে ও সাধারন মানুষ নিরাপদ রয়েছে।
এবিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেলিম মিঞা বলেন, আমি গত ৭ অক্টবর ২০১৯ এ উপজেলায় সহকারী কমিশনার(ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করি। একই সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। তার কিছু দিন পরই এ উপজেলায় ঘুর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানে সেই দূর্যোগ মোকাবেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বরগুনার সম্মানিত মাননীয় জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ্ স্যারের সার্বক্ষনিক নিদের্শনা এবং সরকারের অন্যান্য নির্দেশনা বাস্তবানে করোনা দূর্যোগের শুরু থেকেই সবাইকে সাথে নিয়ে একটা টিম হিসেবে সব সময় মাঠে কাজ করছি। যাতে করে করোনা ভাইরাস সংক্রমন থেকে তালতলী মানুষদের মুক্ত রাখা যায়। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ডাক্তার, সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি, সেচ্চাসেবী সংগঠন সিপিপি, সাংবাদিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক সহযোগিতায় এখনও পর্যন্ত তালতলী উপজেলাকে করোনা মুক্ত ও কর্মহীন মানুষদের মাঝে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে সচ্চতার সাথে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়। এবং আপনারা জানেন গত ২৩ এপ্রিল নতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার যোগদান করায় উপজেলার করোনা সংক্রমন প্রতিরোধ টিমের কাজের আরও গতি সঞ্চায় হয়েছে । তার নেতৃত্বে আমরা সবাই কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ্ ভবিৎষতে করোনা মুক্ত উপজেলা হিসেবে দূর্যোগ কাটিয়ে উঠবো।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, করোনা ভাইরাসের শুরু থেকে প্রবাসী ফেরতদের হোম কোয়ারান্টিন নিশ্চিত করা ছিলো আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে আমরা সফল হয়েছি। তালতলীর প্রবেশ পথে চেকপোস্ট বসিয়ে সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা দিয়ে আসছি। এসবের সবচেয়ে বড় অবদান ছিলো তখনকার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেলিম মিঞার।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান বলেন, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ্ স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা উপজেলা প্রশাসন কার্যকর ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তালতলী পুলিশ, নৌবাহিনী, সেচ্চাসেবী প্রতিষ্ঠানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নিয়ে কাজ করছি। মহান আল্লাহর রহমতে তালতলী উপজেলা এখনো করোনা মুক্ত আছে।






















