সংবাদ শিরোনাম ::
কাঠালিয়া আমুয়া জিরো পয়েন্ট থেকে মনস্বিতা কলেজ সড়ক সংস্কার কাজের উদ্বোধন, রফিকুল ইসলাম জামাল এমপি। বাবুগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, গাছের সঙ্গে ধাক্কা। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা যাত্রীরা দর্শনায় কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেফতার কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের জরুরি বৈঠক: অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন ও ঐক্যের সংকল্প ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা সভা কাঠালিয়াতে অটোকে সাইড দিতে গিয়ে দেবে গেল বিআরটিসি বাস, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা সুমন হত্যার বিচার ও খুনির ফাঁসির দাবিতে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির মানববন্ধন ঘোড়াঘাটের পাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চুয়াডাঙ্গার সকল সরকারী দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বিনিময় সভা,

সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি শনিবার বাতিল হচ্ছে।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২০ ১৯৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক:: বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে গত ২৬শে মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি চলছে, যা চলবে চলতি মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত। স্বভাবত কারণেই দীর্ঘ ছুটির পর আলোচনায় সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি শনিবার প্রসঙ্গে।
জানা যায়, দীর্ঘ ছুটি শেষে সরকারি অফিস খোলার পর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শনিবারের ছুটি বাতিল হতে পারে। এ বিষয়টি এখনও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় না থাকলেও বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, উদ্যোক্তারা মনে করছেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে বেসরকারি সেক্টরের মতো সরকারকে কাজের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মনোযোগ দিকে হবে। তবেই অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। আর এ জন্য সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন থেকে কমিয়ে একদিন করা যেতে পারে। এতে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে। স্থায়ীভাবে না হলেও অন্তত পরিস্থিতি আগের মতো স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটি একদিন করার এই সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সরকার করোনা সংক্রমণরোধে কর্মকাণ্ড নিয়েই ব্যস্ত। সাপ্তাহিক ছুটি একদিন কমানোর বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা আছে, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তখন হয়তো এটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। তিনি হয়তো সবকিছু বিবেচনা করে শনিবারের ছুটি বাতিল করা কিংবা বর্তমান অবস্থাই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

একজন কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেই এর আগেও শনিবারের ছুটি বাতিলের একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেটি অনুমোদন দেননি। কারণ এর সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনস্তত্বও জড়িত। যারা কাজ করবেন তারা এটিকে কীভাবে নিচ্ছেন, সেটিও একটি বড় বিষয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, এই পরিস্থিতিতেও আমরা আমাদের কাজটা করার চেষ্টা করছি। প্রয়োজনে এবং সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন দিলে এমনটা (শনিবার ছুটি বাতিল) হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও সেভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

এর আগে সাপ্তাহিক ছুটি শনিবার বাতিল প্রসঙ্গে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে অনেক কিছুই ভাবতে হচ্ছে। এর মধ্যে সরকারি ছুটির বিষয়টিও সামনে আসবে হয়তো।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবর্তিত বিশ্বে অনেক কিছুই আমরা দেখতে পাবো, যা হয়তো ধারণার বাইরে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনেক নতুন সিদ্ধান্ত আসবে সামনের দিনে। সময়ের এ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমাদেরকেও ভাবতে হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, উন্নয়ন নিয়েও নতুন করে ভাবতে হবে।’

নাসিম বলেন, ‘অপ্রত্যাশিত হলেও বিশাল ছুটির ফাঁদে বাংলাদেশ। সব স্থবির। মানুষের জীবন বাঁচাতেই সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্ত দীর্ঘ এ ছুটির কারণে অর্থনীতি যে হুমকির মুখে পড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’
সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, ‘নাগরিকের জীবন ধারণের দিক বিবেচনা করেই সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন করা হয়েছিল। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে সাপ্তাহিক ছুটি রোববার। সঙ্গত কারণে কোনো না কোনোভাবে তিনদিনের ছুটির কবলে পড়তে হয় আমাদের। আবার করোনা পরিস্থিতিতে অনির্ধারিত ছুটির মধ্যে রয়েছি আমরা। আরও কতদিন এমন অবস্থা থাকবে তা, বলা মুশকিল। সুতরাং করোনার প্রভাব কেটে গেলে সরকারি ছুটি কমানো নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হবে। দেশের স্বার্থে, উন্নয়নের স্বার্থে আমাদেরকে ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে। অন্তত একটি সময়সীমা ধরে ছুটির ব্যাপারে ভেবে চলমান ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হবে।’

উল্লেখ্য, মার্চ মাসের শুরুতে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী প্রথম ধরা পড়ে। পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে থাকলে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়তে থাকে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১৬ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি থাকবে। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিও ক্রম অবনতিশীল। ছুটি আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হবে বলে বুধবার সংবাদমাধ্যমেগুলোতে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি শনিবার বাতিল হচ্ছে।

আপডেট সময় : ০৬:২৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২০

অনলাইন ডেস্ক:: বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে গত ২৬শে মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি চলছে, যা চলবে চলতি মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত। স্বভাবত কারণেই দীর্ঘ ছুটির পর আলোচনায় সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি শনিবার প্রসঙ্গে।
জানা যায়, দীর্ঘ ছুটি শেষে সরকারি অফিস খোলার পর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শনিবারের ছুটি বাতিল হতে পারে। এ বিষয়টি এখনও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় না থাকলেও বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, উদ্যোক্তারা মনে করছেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে বেসরকারি সেক্টরের মতো সরকারকে কাজের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মনোযোগ দিকে হবে। তবেই অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। আর এ জন্য সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন থেকে কমিয়ে একদিন করা যেতে পারে। এতে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে। স্থায়ীভাবে না হলেও অন্তত পরিস্থিতি আগের মতো স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটি একদিন করার এই সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সরকার করোনা সংক্রমণরোধে কর্মকাণ্ড নিয়েই ব্যস্ত। সাপ্তাহিক ছুটি একদিন কমানোর বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা আছে, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তখন হয়তো এটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। তিনি হয়তো সবকিছু বিবেচনা করে শনিবারের ছুটি বাতিল করা কিংবা বর্তমান অবস্থাই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

একজন কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেই এর আগেও শনিবারের ছুটি বাতিলের একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেটি অনুমোদন দেননি। কারণ এর সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনস্তত্বও জড়িত। যারা কাজ করবেন তারা এটিকে কীভাবে নিচ্ছেন, সেটিও একটি বড় বিষয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, এই পরিস্থিতিতেও আমরা আমাদের কাজটা করার চেষ্টা করছি। প্রয়োজনে এবং সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন দিলে এমনটা (শনিবার ছুটি বাতিল) হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও সেভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

এর আগে সাপ্তাহিক ছুটি শনিবার বাতিল প্রসঙ্গে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে অনেক কিছুই ভাবতে হচ্ছে। এর মধ্যে সরকারি ছুটির বিষয়টিও সামনে আসবে হয়তো।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবর্তিত বিশ্বে অনেক কিছুই আমরা দেখতে পাবো, যা হয়তো ধারণার বাইরে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনেক নতুন সিদ্ধান্ত আসবে সামনের দিনে। সময়ের এ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমাদেরকেও ভাবতে হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, উন্নয়ন নিয়েও নতুন করে ভাবতে হবে।’

নাসিম বলেন, ‘অপ্রত্যাশিত হলেও বিশাল ছুটির ফাঁদে বাংলাদেশ। সব স্থবির। মানুষের জীবন বাঁচাতেই সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্ত দীর্ঘ এ ছুটির কারণে অর্থনীতি যে হুমকির মুখে পড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’
সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, ‘নাগরিকের জীবন ধারণের দিক বিবেচনা করেই সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন করা হয়েছিল। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে সাপ্তাহিক ছুটি রোববার। সঙ্গত কারণে কোনো না কোনোভাবে তিনদিনের ছুটির কবলে পড়তে হয় আমাদের। আবার করোনা পরিস্থিতিতে অনির্ধারিত ছুটির মধ্যে রয়েছি আমরা। আরও কতদিন এমন অবস্থা থাকবে তা, বলা মুশকিল। সুতরাং করোনার প্রভাব কেটে গেলে সরকারি ছুটি কমানো নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হবে। দেশের স্বার্থে, উন্নয়নের স্বার্থে আমাদেরকে ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে। অন্তত একটি সময়সীমা ধরে ছুটির ব্যাপারে ভেবে চলমান ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হবে।’

উল্লেখ্য, মার্চ মাসের শুরুতে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী প্রথম ধরা পড়ে। পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে থাকলে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়তে থাকে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১৬ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি থাকবে। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিও ক্রম অবনতিশীল। ছুটি আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হবে বলে বুধবার সংবাদমাধ্যমেগুলোতে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।