সংবাদ শিরোনাম ::
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫ বাগেরহাটে বন্ধুর হাতেই খুন আইনজীবী শান্ত,হত্যা মামলায় দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৪ বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এমপি সান্টু: ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল বিতরণ ​রাজাপুরে টিসিবি ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ​ ঝালকাঠিতে কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত আগৈলঝাড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দোকান দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, থানায় দুই অভিযোগ ঝালকাঠিতে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের নদীভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম ও “ধানসিঁড়ি সাংস্কৃতিক পল্লী” নলছিটিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ,

মসজিদ খোলার ঘোষণা দিলেন গাজীপুরের মেয়র। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২১:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০ ১৩৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

করোনার তাণ্ডব রোধে সরকার যখন কঠোর লকডাউনের কথা বলছে তখন মসজিদ খোলার ঘোষণা দিলেন গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের যেসব এলাকায় করোনা সংক্রমণ নেই, সেসব এলাকায় আগামী শুক্রবার থেকে সব মসজিদ মুসল্লিদের স্বাভাবিক প্রবেশের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা জানান। এ ছাড়া তিনি নিজেও গণমাধ্যমকে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গাজীপুর জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় গার্মেন্ট কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। কৃষিকাজও চলছে। এ ছাড়া গাজীপুরের আটটি থানা ও ৫৭ ওয়ার্ডের কোথাও তেমনভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেনি। তাই সামাজিক দূরত্ব মেনে, সামনে চার ফুট ও পাশে দুই ফুট জায়গা রেখে মসজিদে নামাজের সুযোগ দেওয়া হবে। এটা রোজার মাস, মসজিদে প্রার্থনার সুযোগ দেওয়া উচিত। যেসব এলাকায় করোনা সংক্রমণ নেই, সেসব এলাকায় মসজিদগুলোতে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে পারবেন।’

মসজিদে মুসল্লি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সরকারের নির্বাহী আদেশ থাকার পর কীভাবে এই আদেশ দিলেন সে বিষয়ে গাজীপুরের মেয়র বলেন, ‘সরকারের আদেশের ব্যত্যয় ঘটবে না। নির্দেশনা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার। সব স্বাস্থ্যবিধি মানলে, পাঁচবার স্যাভলন দিয়ে মসজিদ ধুয়ে নিলে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যত জন ধরবে ঠিক তত জনই নামাজ পড়তে এলে কারও আপত্তি থাকার কথা না। সরকারের নির্দেশের ব্যত্যয় ঘটবে না।’

‘মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের জন্য আমি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটি করে দিয়েছি। যার যার এলাকার মসজিদে নামাজ পড়বেন, কেউ এলাকার বাইরে যাবেন না’, বলেন গাজীপুরের মেয়র।

ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুর জেলা এই দুটি এলাকাকে নিয়েই গাজীপুর বলা হয়। সেজন্য আমরা বলছি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে করোনা পজিটিভের সংখ্যা অনেক এলাকার চেয়ে কম বলে আমরা মনে করি। এটা আমরা নথিপত্র ঘেঁটে দেখেছি। সেজন্য আমরা মনে করি যেহেতু গার্মেন্ট চালু করে দিয়েছে বিজিএমইএ, সেহেতু আমাদের যেসব ওয়ার্ডে কোনও করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী নেই সেগুলোতে আগামী শুক্রবার থেকে মসজিদভিত্তিক মানুষ নামাজ পড়তে পারবেন। এখন রমজান মাস। এসব এলাকায় মুসল্লিরা যাতে মসজিদে নামাজ পড়তে পারেন সেজন্য আমরা সিটি করপোরেশন থেকে তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব।’

এ সময় করোনাভাইরাস থেকে গাজীপুরসহ সারা দেশ এবং বিশ্ববাসীর মুক্তি কামনা করেছেন তিনি।

সিভিল সার্জন ডা. খায়রুজ্জামান জানান, গাজীপুরে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা মোট ৩২৮ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ উপজেলায় এ পর্যন্ত ১১৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়াও জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় ৯০ জন, কাপাসিয়া উপজেলায় ৭০ জন, কালিয়াকৈর উপজেলায় ৩২ জন ও শ্রীপুর উপজেলায় ২২ জন। এ পর্যন্ত ওই ভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষার জন্য জেলা থেকে দুই হাজার ৩৮৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে, করোনা পরিস্থিতির কারণে মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, শুধু মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমরা মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করবেন। জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ অনধিক পাঁচ জন এবং জুমার জামাতে অনধিক ১০ জন শরিক হতে পারবেন। বাইরের মুসল্লিরা মসজিদের জামাতে অংশ নিতে পারবেন না। এ ছাড়া ১০ জন মুসল্লি ও দুই জন হাফেজসহ মোট ১২ জন মসজিদে এশা ও তারাবির নামাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মসজিদ খোলার ঘোষণা দিলেন গাজীপুরের মেয়র। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৬:২১:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০

করোনার তাণ্ডব রোধে সরকার যখন কঠোর লকডাউনের কথা বলছে তখন মসজিদ খোলার ঘোষণা দিলেন গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের যেসব এলাকায় করোনা সংক্রমণ নেই, সেসব এলাকায় আগামী শুক্রবার থেকে সব মসজিদ মুসল্লিদের স্বাভাবিক প্রবেশের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা জানান। এ ছাড়া তিনি নিজেও গণমাধ্যমকে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গাজীপুর জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় গার্মেন্ট কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। কৃষিকাজও চলছে। এ ছাড়া গাজীপুরের আটটি থানা ও ৫৭ ওয়ার্ডের কোথাও তেমনভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেনি। তাই সামাজিক দূরত্ব মেনে, সামনে চার ফুট ও পাশে দুই ফুট জায়গা রেখে মসজিদে নামাজের সুযোগ দেওয়া হবে। এটা রোজার মাস, মসজিদে প্রার্থনার সুযোগ দেওয়া উচিত। যেসব এলাকায় করোনা সংক্রমণ নেই, সেসব এলাকায় মসজিদগুলোতে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে পারবেন।’

মসজিদে মুসল্লি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সরকারের নির্বাহী আদেশ থাকার পর কীভাবে এই আদেশ দিলেন সে বিষয়ে গাজীপুরের মেয়র বলেন, ‘সরকারের আদেশের ব্যত্যয় ঘটবে না। নির্দেশনা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার। সব স্বাস্থ্যবিধি মানলে, পাঁচবার স্যাভলন দিয়ে মসজিদ ধুয়ে নিলে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যত জন ধরবে ঠিক তত জনই নামাজ পড়তে এলে কারও আপত্তি থাকার কথা না। সরকারের নির্দেশের ব্যত্যয় ঘটবে না।’

‘মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের জন্য আমি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটি করে দিয়েছি। যার যার এলাকার মসজিদে নামাজ পড়বেন, কেউ এলাকার বাইরে যাবেন না’, বলেন গাজীপুরের মেয়র।

ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুর জেলা এই দুটি এলাকাকে নিয়েই গাজীপুর বলা হয়। সেজন্য আমরা বলছি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে করোনা পজিটিভের সংখ্যা অনেক এলাকার চেয়ে কম বলে আমরা মনে করি। এটা আমরা নথিপত্র ঘেঁটে দেখেছি। সেজন্য আমরা মনে করি যেহেতু গার্মেন্ট চালু করে দিয়েছে বিজিএমইএ, সেহেতু আমাদের যেসব ওয়ার্ডে কোনও করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী নেই সেগুলোতে আগামী শুক্রবার থেকে মসজিদভিত্তিক মানুষ নামাজ পড়তে পারবেন। এখন রমজান মাস। এসব এলাকায় মুসল্লিরা যাতে মসজিদে নামাজ পড়তে পারেন সেজন্য আমরা সিটি করপোরেশন থেকে তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব।’

এ সময় করোনাভাইরাস থেকে গাজীপুরসহ সারা দেশ এবং বিশ্ববাসীর মুক্তি কামনা করেছেন তিনি।

সিভিল সার্জন ডা. খায়রুজ্জামান জানান, গাজীপুরে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা মোট ৩২৮ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ উপজেলায় এ পর্যন্ত ১১৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়াও জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় ৯০ জন, কাপাসিয়া উপজেলায় ৭০ জন, কালিয়াকৈর উপজেলায় ৩২ জন ও শ্রীপুর উপজেলায় ২২ জন। এ পর্যন্ত ওই ভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষার জন্য জেলা থেকে দুই হাজার ৩৮৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে, করোনা পরিস্থিতির কারণে মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, শুধু মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমরা মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করবেন। জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ অনধিক পাঁচ জন এবং জুমার জামাতে অনধিক ১০ জন শরিক হতে পারবেন। বাইরের মুসল্লিরা মসজিদের জামাতে অংশ নিতে পারবেন না। এ ছাড়া ১০ জন মুসল্লি ও দুই জন হাফেজসহ মোট ১২ জন মসজিদে এশা ও তারাবির নামাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।