সংবাদ শিরোনাম ::
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫ বাগেরহাটে বন্ধুর হাতেই খুন আইনজীবী শান্ত,হত্যা মামলায় দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৪ বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এমপি সান্টু: ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল বিতরণ ​রাজাপুরে টিসিবি ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ​ ঝালকাঠিতে কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত আগৈলঝাড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দোকান দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, থানায় দুই অভিযোগ ঝালকাঠিতে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের নদীভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম ও “ধানসিঁড়ি সাংস্কৃতিক পল্লী” নলছিটিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ,

মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের শ্রমিকের পকেটে টাকা নেই। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২০ ৭২৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ আমিনুল ইসলাম::-

মহামারী করোনার প্রভাবে বেতন ও আখের টাকা না পেয়ে কালীগঞ্জ মোবারকগঞ্জ চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারি ও আখ চাষিদের মানবেতর দিন কাটছে। কর্তৃপক্ষের কাছে দাবির পরও মিলছে না টাকা। মিল কর্তৃপক্ষ বলছে বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও চিনি বিক্রি না হলে কর্মচারীদের বেতন ও আখ চাষিদের বকেয় টাকা দেওয়া সম্ভব নয়।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে গত মৌসুমে মিলটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৭ হাজার ৫৯ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করা হয়। গুদামে ৩০ কোটি টাকা মুল্যের ৫ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন চিনি এবং ১২ কোটি টাকার চিটাগুড় অবিক্রিত রয়েছে। করোনার প্রভাবে পার্টি না আসায় চিনি বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারী প্রতিষ্ঠানে চিনি বিক্রি হচ্ছে স্বল্প পরিসরে। এক হাজার ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জানুয়ারি- মার্চ মাসের বেতন ৪ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। দেড় মাসের বেশী সময় বন্ধ রয়েছে আখ চাষীদের বকেয়া পরিশোধ। চিনিকলের ৮ টি সাবজোনের অধিনে আখ চাষের সাথে জড়িত ৮ হাজার চাষীর পাওনা পড়ে আছে প্রায় ১৯ কোটি টাকা।

চিনিকলের কর্মচারীরা জানান দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে খুবই কষ্টে দিন পার করছি। করোনার কারণে কেউ ধারও দিচ্ছে না, আবার দোকানে গেলে বাকি টাকায় মাল দিচ্ছে না। এ অবস্থায় সরকার আমাদের বকেয়া টাকা দিলে খুবই উপকার হতো। চিনিকলের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদেরও একই অবস্থা। ঘরে চাল নেই, পকেটে টাকা নেই, করোনার কারণে বাইরের কাজেও যেতে পারছে না বলে জানান চিনিকলের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। এদিকে মিলে বিক্রিত আখের পাওনা টাকা না পেয়ে কষ্টে আছেন চাষীরা।

আখ চাষি আলাউদ্দিন সহ কয়েকজন জানান, অনেক আগে আখ বিক্রি করেছি কিন্তু মিল টাকা দিচ্ছে না। এতে সংসার চালাতে যেমন কষ্ট হচ্ছে তেমনি জমির পরিচর্যাও করতে পারছিনা।

মোবারকগঞ্জ চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি গোলাম রসুল বলেন, বেতন তো নেই-ই, ত্রাণের আওতায়ও পড়ছিনা। এ অবস্থায় সরকার বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা না করলে পেটের জালায় রাস্তায় বের হওয়া ছাড়া উপায় থাকবেনা। এদিকে কৃষকরা তাদের আখ বিক্রির পাওনা টাকার জন্য চিনিকলে ও ইক্ষু ক্রয় কেন্দ্রে প্রতিদিন ধর্নাদিচ্ছে। কিন্তু আখ ক্রয় কেন্দ্রে কোন কর্মচারী না যাবার কারণে কৃষকরা ফিরে আসছে। যেহেতু ক্রয় কেন্দ্রের সিআইসিরা তাদের নির্দিষ্ট কেন্দ্রে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে করোনা আক্রমণের ভয়ে ও কৃষকদের পাওনা টাকার জন্য। কৃষকরা কবে নাগাদ আখ বিক্রির টাকা পাবে তার কোন নিশ্চয়তা পাচ্ছে না।

ফলে মোচিকের প্রায় ৮ হাজার আখ চাষি তাদের আখ বিক্রির ১৯ কোটি টাকা না পাবার কারণে হতাশ হয়ে পড়েছে। চিনি কলের গুদামে ৩০ কোটি টাকার চিনি পড়ে রয়েছে কোন ডিলার চিনি উত্তোলন করছে না। আবার ১২ কোটি টাকার চিটা গুড় ও ক্রেতার অভাবে পড়ে রয়েছে। চিনি ডিলাররা বলছেন তারা চিনি উত্তোলন করে বাইরে বিক্রি করতে পারবে না। যে কারণে তারা উত্তোলন করছে না। সব মিলিয়ে মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ৮ হাজার কৃষক ও ১ হাজার ৬ জন শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তারা তাদের পাওনা টাকা না পাবার কারণে হতাশ হয়ে পড়েছে।

সরকারের সুগার কর্পোরেশনকে দেওয়া ৫শ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ১শ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে, বাকি অর্থ মন্ত্রনালয়ে আটকে আছে। এই টাকা ছাড় হলেও কিছু পাওনা পরিশোধ হতো। মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার কবির জানান, করোনার প্রভাবে পার্টি না আসায় চিনি বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মচারীদের জানুয়ারি মাসের কিছু টাকা পরিশোধ হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চিনি বিক্রি করে সকলের পাওনা পরিশোধ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের শ্রমিকের পকেটে টাকা নেই। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ১০:৪৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২০

মোঃ আমিনুল ইসলাম::-

মহামারী করোনার প্রভাবে বেতন ও আখের টাকা না পেয়ে কালীগঞ্জ মোবারকগঞ্জ চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারি ও আখ চাষিদের মানবেতর দিন কাটছে। কর্তৃপক্ষের কাছে দাবির পরও মিলছে না টাকা। মিল কর্তৃপক্ষ বলছে বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও চিনি বিক্রি না হলে কর্মচারীদের বেতন ও আখ চাষিদের বকেয় টাকা দেওয়া সম্ভব নয়।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে গত মৌসুমে মিলটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৭ হাজার ৫৯ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করা হয়। গুদামে ৩০ কোটি টাকা মুল্যের ৫ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন চিনি এবং ১২ কোটি টাকার চিটাগুড় অবিক্রিত রয়েছে। করোনার প্রভাবে পার্টি না আসায় চিনি বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারী প্রতিষ্ঠানে চিনি বিক্রি হচ্ছে স্বল্প পরিসরে। এক হাজার ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জানুয়ারি- মার্চ মাসের বেতন ৪ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। দেড় মাসের বেশী সময় বন্ধ রয়েছে আখ চাষীদের বকেয়া পরিশোধ। চিনিকলের ৮ টি সাবজোনের অধিনে আখ চাষের সাথে জড়িত ৮ হাজার চাষীর পাওনা পড়ে আছে প্রায় ১৯ কোটি টাকা।

চিনিকলের কর্মচারীরা জানান দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে খুবই কষ্টে দিন পার করছি। করোনার কারণে কেউ ধারও দিচ্ছে না, আবার দোকানে গেলে বাকি টাকায় মাল দিচ্ছে না। এ অবস্থায় সরকার আমাদের বকেয়া টাকা দিলে খুবই উপকার হতো। চিনিকলের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদেরও একই অবস্থা। ঘরে চাল নেই, পকেটে টাকা নেই, করোনার কারণে বাইরের কাজেও যেতে পারছে না বলে জানান চিনিকলের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। এদিকে মিলে বিক্রিত আখের পাওনা টাকা না পেয়ে কষ্টে আছেন চাষীরা।

আখ চাষি আলাউদ্দিন সহ কয়েকজন জানান, অনেক আগে আখ বিক্রি করেছি কিন্তু মিল টাকা দিচ্ছে না। এতে সংসার চালাতে যেমন কষ্ট হচ্ছে তেমনি জমির পরিচর্যাও করতে পারছিনা।

মোবারকগঞ্জ চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি গোলাম রসুল বলেন, বেতন তো নেই-ই, ত্রাণের আওতায়ও পড়ছিনা। এ অবস্থায় সরকার বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা না করলে পেটের জালায় রাস্তায় বের হওয়া ছাড়া উপায় থাকবেনা। এদিকে কৃষকরা তাদের আখ বিক্রির পাওনা টাকার জন্য চিনিকলে ও ইক্ষু ক্রয় কেন্দ্রে প্রতিদিন ধর্নাদিচ্ছে। কিন্তু আখ ক্রয় কেন্দ্রে কোন কর্মচারী না যাবার কারণে কৃষকরা ফিরে আসছে। যেহেতু ক্রয় কেন্দ্রের সিআইসিরা তাদের নির্দিষ্ট কেন্দ্রে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে করোনা আক্রমণের ভয়ে ও কৃষকদের পাওনা টাকার জন্য। কৃষকরা কবে নাগাদ আখ বিক্রির টাকা পাবে তার কোন নিশ্চয়তা পাচ্ছে না।

ফলে মোচিকের প্রায় ৮ হাজার আখ চাষি তাদের আখ বিক্রির ১৯ কোটি টাকা না পাবার কারণে হতাশ হয়ে পড়েছে। চিনি কলের গুদামে ৩০ কোটি টাকার চিনি পড়ে রয়েছে কোন ডিলার চিনি উত্তোলন করছে না। আবার ১২ কোটি টাকার চিটা গুড় ও ক্রেতার অভাবে পড়ে রয়েছে। চিনি ডিলাররা বলছেন তারা চিনি উত্তোলন করে বাইরে বিক্রি করতে পারবে না। যে কারণে তারা উত্তোলন করছে না। সব মিলিয়ে মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ৮ হাজার কৃষক ও ১ হাজার ৬ জন শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তারা তাদের পাওনা টাকা না পাবার কারণে হতাশ হয়ে পড়েছে।

সরকারের সুগার কর্পোরেশনকে দেওয়া ৫শ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ১শ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে, বাকি অর্থ মন্ত্রনালয়ে আটকে আছে। এই টাকা ছাড় হলেও কিছু পাওনা পরিশোধ হতো। মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার কবির জানান, করোনার প্রভাবে পার্টি না আসায় চিনি বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মচারীদের জানুয়ারি মাসের কিছু টাকা পরিশোধ হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চিনি বিক্রি করে সকলের পাওনা পরিশোধ করা হবে।