সামাজিক দূরত্ব মানছে না মানুষ : ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায়-বাজারে ও ব্যাংকে কোথাও ত্রাণের দাবিতে।
- আপডেট সময় : ০৪:৫৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২০ ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আবুল বাশার স্টাফ রিপোর্টার::-
বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারন করা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে সরকার প্রথম পর্যায়ে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে তা দুই দফা বাড়িয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত করে। এর মূল কারণ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা। কিন্তু ঘর বাইরে বের হলে বোঝার উপায় নেই যে, করোনা পরিস্থিতিতে ঝুঁকিতে আছে দেশ।
এই পরিস্থিতিতেও প্রতিদিন রীতিমতো বাজারে ভিড় করছে মানুষ। কেউ আসছে বাজার করতে, কেউ এসেছে ব্যাংকে টাকা উঠাতে, আবার কেউ কেউ অকারণেই ভিড় করছে। গাদাগাদি করে গায়ে গায়ে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছে। অন্যদেরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। গতকাল মঙ্গলবার গাইবান্ধার বিভিন্ন বাজার, ব্যাংক ও রাস্তাঘাট ঘুরে দেখা গেছে, মানুষ অন্য স্বাভাবিক সময়ের মতোই বাজারে ও ব্যাংকে ভিড় করছে। সবার মুখে কমবেশি মাস্ক থাকলেও সামাজিক দূরত্ব কোনোভাবেই মানা হচ্ছে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সরকারি নির্দেশনা অমাণ্য করে যারা অহেতুক অকারণে বাইরে বের হচ্ছেন তাদের জরিমানা করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবুও অকারণে মানুষের বের হওয়া থামানো যাচ্ছে না।
২২ এপ্রিল বুধবার জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায় ত্রাণের দাবিতে পলাশবাড়ী-গাইবান্ধা সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী। সেখানে নেই সামাজিক দূরত্বের বালাই এমনকি অধিকাংশ লোকজনদের মুখে নেই মাস্ক। বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতারা প্রতিটি দোকানেই ভিড় করে আছেন। অথচঃ কিছু দোকানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে গোলাকার বৃত্ত চিহ্ন দেওয়া হলেও সেগুলো মানছেন না অনেকেই। সোমবার দুপুর পর পলাশবাড়ী কালিবাড়ী বাজারে ঔষুধ কোম্পানির একজন বিক্রয় প্রতিনিধি মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস পরে নিত্যপণ্য কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, যেহেতু বিকেল ৫টার পর সব দোকান বন্ধ হয়ে যায় তাই এর আগেই সবাই বাজারে ভিড় করে। এমন ভাবে ভিড় করে দেখে মনে হয় দেশে করোনা ভাইরাস নিয়ে কোনো ভয় নেই। আমরা যারা কিছুটা সচেতন থাকতে চাই তারাও বাজারে অন্যসব মানুষের অসেচনতার কারণে করোনার ঝুঁকিতে পড়ছি। এখনও যে বাজার ও বিভিন্ন স্থানে যে ভিড় তাতে করে আর কবে সচেতন হবে মানুষ? ২২ এপ্রিল বুধবার কালিবাড়ী হাটের মাছ হাটে ও মুরগির বাজারে ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী জানান, আসন্ন রমজান উপলক্ষে মানুষ বাজারে বেশি ভিড় করছে। রমজানের কেনাকাটা আগেই সেরে নিচ্ছে।
দোকানের বাইরে দড়ি দিয়ে ঘিরে রেখেছি, তবুও সেটা পার হয়ে মানুষ দোকানে চলে আসছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের পেটের তাগিদে দোকান খোলা রাখতে হচ্ছে, তবে বিকেল ৫টার মধ্যেই আমরা দোকান বন্ধ করি। তবও ক্রেতারা এতটাই ভিড় করে যা দেখে মনে হয় দেশে কোনো করোনা পরিস্থিতি নেই। নিজেরা সচেতন না হলে সরকারের নানা পদক্ষেপ নিয়েও লাভ নেই। এছাড়া ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে, ত্রাণ নিতে, টিসিবি থেকে পণ্য কিনতে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব।






















