সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ, রাজাপুরে মাদকের আখড়ায় অভিযান: ইয়াবাসহ আটক ২, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ঝালকাঠিতে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স খাদ্যে পড়ে আহত ১, পা ভাঙল রোগীর দামুড়হুদার মদনায় বিস্কুট ফ্যাক্টারিতে আগুন ক্ষতি প্রায় ৮ লক্ষাধিক ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা।

দেশে ১০০ চিকিৎসক, ৫৭ নার্স ও ৫৮ পুলিশ করোনায় আক্রান্ত। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২০ ২৫০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক:: দেশে করোনার বিরুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে দায়িত্ব পালনকারী প্রায় ১০০ জন চিকিৎসক, ৫৭ জন নার্স ও ৫৮ জন পুলিশ প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের (বিডিএফ) প্রধান সমন্বয়ক ডা. নিরূপম দাশ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘করোনায় সংক্রমিত চিকিৎসকের সংখ্যা ১০০ জনে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা যদি এভাবেই বাড়তে থাকে তবে রোগীদের চিকিৎসা করার জন্য কোনো ডাক্তার থাকবে না।’
ডা. নিরূপম দাশ আরো বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ঢাকায়। এখানে ৫০ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে ১২ জন, ময়মনসিংহে সাতজন, গাজীপুরের কালিগঞ্জে ছয়জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। বাকিরা অন্যান্য জেলার।’ করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ আসা ৩০০ স্বাস্থ্যকর্মী কোয়ারেন্টিন আছেন বলেও তিনি জানান।

এদিকে, বাংলাদেশ বেসিক গ্র্যাজুয়েট নার্সেস সোসাইটি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৫৭ জন নার্স করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। একই তথ্য দিয়ে সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটস বলছে, দেশের ৩৪ হাসপাতালে ৫৭ জন নার্স করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। কোয়ারেন্টিনে আছেন প্রায় ২৭০ জন। সংগঠনটির মহাসচিব সাব্বির মাহমুদ জানিয়েছেন, আক্রান্তদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত আছেন ৩১ জন। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কর্মরত আছেন ২৬ জন। তাছাড়া আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে আসা আরো ২৫০ থেকে ৩০০ নার্স কোয়ারেন্টিনে আছেন।

অন্যদিকে, করোনার বিরুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে দায়িত্ব পালনকারী অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তর এবং ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, দেশে ইতিমধ্যে ৫৮ পুলিশ সদস্যের করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৭ জন ডিএমপিতে, ১১ জন গোপালগঞ্জে, ছয়জন নারায়ণগঞ্জে, পাঁচজন গাজীপুর মহানগর পুলিশে, দুজন কিশোরগঞ্জে এবং একজন করে ময়মনসিংহ, নরসিংদী, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ, পুলিশ টিঅ্যান্ডআইএম, এপিবিএন ময়মনসিংহ, নৌ পুলিশ ইউনিট ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের সদস্য।

সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছেন এমন ৬৩৩ পুলিশ সদস্যকে ‘হোম’ ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। দেশজুড়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত, লকডাউন কার্যকর, রাস্তায় জীবাণুনাশক ছিটানো, শ্রমজীবী মানুষকে সহায়তা করা, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়াসহ নানা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পুলিশ সদরদপ্তরের গণমাধ্যম সমন্বয়ক সহকারী মহাপরিদর্শক সোহেল রানা গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশের যেসব সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের পুলিশের স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্র গুলোতে আইইডিসিআর এর নিয়ম অনুসরণ করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে। সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ডা. মঈন ছিলেন সিলেটের প্রথম করোনা রোগী। গত ৫ এপ্রিল তার করোনা শনাক্ত হওয়ার পর সহকর্মীদের পরামর্শে নিজ বাসায় কোয়ারেন্টাইনে চিকিৎসা নিতে থাকেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে দুদিন পর ৭ এপ্রিল শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হন। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের ইচ্ছায় চিকিৎসার জন্য পরের দিন ৮ এপ্রিল তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়া হয়। সূত্র পার্সটুডে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দেশে ১০০ চিকিৎসক, ৫৭ নার্স ও ৫৮ পুলিশ করোনায় আক্রান্ত। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৯:১৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২০

অনলাইন ডেস্ক:: দেশে করোনার বিরুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে দায়িত্ব পালনকারী প্রায় ১০০ জন চিকিৎসক, ৫৭ জন নার্স ও ৫৮ জন পুলিশ প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের (বিডিএফ) প্রধান সমন্বয়ক ডা. নিরূপম দাশ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘করোনায় সংক্রমিত চিকিৎসকের সংখ্যা ১০০ জনে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা যদি এভাবেই বাড়তে থাকে তবে রোগীদের চিকিৎসা করার জন্য কোনো ডাক্তার থাকবে না।’
ডা. নিরূপম দাশ আরো বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ঢাকায়। এখানে ৫০ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে ১২ জন, ময়মনসিংহে সাতজন, গাজীপুরের কালিগঞ্জে ছয়জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। বাকিরা অন্যান্য জেলার।’ করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ আসা ৩০০ স্বাস্থ্যকর্মী কোয়ারেন্টিন আছেন বলেও তিনি জানান।

এদিকে, বাংলাদেশ বেসিক গ্র্যাজুয়েট নার্সেস সোসাইটি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৫৭ জন নার্স করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। একই তথ্য দিয়ে সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটস বলছে, দেশের ৩৪ হাসপাতালে ৫৭ জন নার্স করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। কোয়ারেন্টিনে আছেন প্রায় ২৭০ জন। সংগঠনটির মহাসচিব সাব্বির মাহমুদ জানিয়েছেন, আক্রান্তদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত আছেন ৩১ জন। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কর্মরত আছেন ২৬ জন। তাছাড়া আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে আসা আরো ২৫০ থেকে ৩০০ নার্স কোয়ারেন্টিনে আছেন।

অন্যদিকে, করোনার বিরুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে দায়িত্ব পালনকারী অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তর এবং ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, দেশে ইতিমধ্যে ৫৮ পুলিশ সদস্যের করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৭ জন ডিএমপিতে, ১১ জন গোপালগঞ্জে, ছয়জন নারায়ণগঞ্জে, পাঁচজন গাজীপুর মহানগর পুলিশে, দুজন কিশোরগঞ্জে এবং একজন করে ময়মনসিংহ, নরসিংদী, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ, পুলিশ টিঅ্যান্ডআইএম, এপিবিএন ময়মনসিংহ, নৌ পুলিশ ইউনিট ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের সদস্য।

সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছেন এমন ৬৩৩ পুলিশ সদস্যকে ‘হোম’ ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। দেশজুড়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত, লকডাউন কার্যকর, রাস্তায় জীবাণুনাশক ছিটানো, শ্রমজীবী মানুষকে সহায়তা করা, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়াসহ নানা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পুলিশ সদরদপ্তরের গণমাধ্যম সমন্বয়ক সহকারী মহাপরিদর্শক সোহেল রানা গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশের যেসব সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের পুলিশের স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্র গুলোতে আইইডিসিআর এর নিয়ম অনুসরণ করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে। সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ডা. মঈন ছিলেন সিলেটের প্রথম করোনা রোগী। গত ৫ এপ্রিল তার করোনা শনাক্ত হওয়ার পর সহকর্মীদের পরামর্শে নিজ বাসায় কোয়ারেন্টাইনে চিকিৎসা নিতে থাকেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে দুদিন পর ৭ এপ্রিল শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হন। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের ইচ্ছায় চিকিৎসার জন্য পরের দিন ৮ এপ্রিল তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়া হয়। সূত্র পার্সটুডে।