এবার সকল নেতাদের বাদ দিয়ে সারা দেশে ত্রাণ বিতরণ।
- আপডেট সময় : ১২:৫২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২০ ৪৬৩ বার পড়া হয়েছে

মো: আমিনুল ইসলাম ডেস্ক রিপোর্ট ::-
নভেল করোনাভাইরাস-১৯ সারা বিশ্বব্যাপী ত্রাস সৃষ্টি করে কেড়ে নিচ্ছে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ। আমাদের বাংলাদেশও এর হাত থেকে মুক্ত নয়। এই ভাইরাসের উৎপত্তি স্থান চীনের উহান শহর। এখান থেকেই বিশ্বে প্রথম সূচনা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী এটা একটা ভারী ভাইরাস যা বাতাস হতে ছড়ায় না এবং ছোঁয়াচে রোগ সৃষ্টিকারী। এখনও পর্যন্ত এ রোগের কোন প্রতিষেধক ঔষধ আবিস্কার সম্ভব হয়নি।
ইতিমধ্যে উন্নয়নকামী দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রতিষেধক ঔষধ আবিস্কারের জন্য কিন্তু পরাস্ত। আমেরিকার বিজ্ঞানীরা বলছেন এক বছর পযর্ন্ত লাগতে পারে। সে দেশের প্রেসিডেন্ট বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে এই রোগের প্রতিষেধক পেতে চান। এ দিকে বিশ্বখ্যাত ধনী বিলগেটসও একই কথা বলেছেন। কিন্তু কোন ঔষধ নাই।
চীনের উহান শহর হতে প্রথম এই ভাইরাসের উদ্ভব। চীন সরকার দীর্ঘ মাস এই রোগের সাথে যুদ্ধ করে আসছেন। কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছিল না। অবশেষে দীর্ঘ বছরে নিষেধাজ্ঞায় থাকা মসজিদ গুলো খুলেদেন এবং মুসলিমদের আল্লাহর নিকট দেশ ও জাতির জন্য প্রার্থনা করতে বলেন।
ইতালির প্রেসিডেন্ট কান্নায় বিজরিত হয়ে আকাশের মালিকের উপর সব ন্যাস্ত করে দিয়েছেন। উল্লেখ্য ইতালিতে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি শত শত চিকিৎসক মৃত্যুবরণ করেছেন। এখনও পযর্ন্ত সে দেশের চিকিৎসকগণ এই ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন।
কানাডার প্রেসিডেন্ট বলেছেন জনগণ আমার অক্সিজেন। এই মহামারী রোগের হাত থেকে বাঁচার জন্য সকল জনগণকে ঘরের ভিতর থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং তাদের ঘর ভাড়া, বেতন, চিকিৎসা সহ সকল দায়িত্ব নিজের কাধে নিয়েছেন।
স্পেনেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুর কোলে প্রতিনিয়ত ঢলে পড়ছেন। শত শত বছরে নিষেধাজ্ঞায় বিরাজমান মসজিদ গুলো খুলে দিয়েছেন এবং সেখানকার মুসলিম সম্প্রদায়কে দেশ ও জাতির জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বৃটেনেও হাজার হাজার মানুষ এই ভাইরাসে মৃত্যু শয্যায় শায়িত। অপর দিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট আতংকিত হয়ে তার দেশের জনগণকে মুসলমান নারীদের মত হিজাব পরিধান করে চলাচলের আদেশ দিয়েছেন এবং এর ব্যত্যয় ঘটলে পুলিশ প্রসাশন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
ইতিমধ্যে বিশ্বের একক পরাশক্তি হিসাবেখ্যাত আমেরিকায় বর্তমানে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষের প্রাণ মৃত্যু মুখে ঢলে পড়ছে। সেখানে লাখ লাখ মানুষ করোনাভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সমৃহ এখনও পর্যন্ত লকডাউন করে রেখেছেন করোনাভাইরাসের আতঙ্কে। এক কথায় সারা বিশ্ব বতর্মানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।
বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই ভাইরাসের হাত থেকে তার জনগণকে বাঁচাতে লকডাউনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ একটা গরীব রাষ্ট্র। এ দেশের বেশীর ভাগ মানুষই দিন আনেন দিন খায়। তাই প্রধানমন্ত্রী মেহনতি দিন-মজুরদের কথা চিন্তা করে একটা ফান্ড গঠন করেছেন যাতে জনগণ না খেয়ে যেন মারা না যান। আমাদের দেশের নেতারা সাধারণত চুরি করায় বিশ্বাসী তাই শুরু হতেই স্যোসাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছিল প্রধানমন্ত্রীর ফান্ডের খাদ্য সামগ্রী সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিতরণ করা হোক।
দেশের দুর্যোগময় পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে বিভিন্ন ব্যাক্তি এবং প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে মেহনতি মানুষদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ শুরু করেন। পরবর্তীতে সরকার তার ত্রাণ সামগ্রী এমপি, মন্ত্রী, সিটি মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে মেহনতি খেটে খাওয়া মানুষদের মাঝে বিতরণ কার্য শুরু করেন। ইতিমধ্যেই দেশের প্রত্যন্তর অঞ্চল থেকেই শোনা যাচ্ছে সরকারি ত্রাণের হরিলুটের খবর। তাই শেখ সাহেব ঠিকই বলেছিলেন আমি পেলাম চোরের খনি।
সরকারি ত্রাণ চুরির কথা প্রকাশকারী সাংবাদিকরা বিভিন্ন এলাকায় লাঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক সাংবাদিক জীবন বাজি রেখে সংবাদ সরবরাহে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। সারা দেশে ত্রাণের ভীষণ অনিয়মের কথা প্রকাশ পাচ্ছে। দেশের এহেনবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নিকট জনগণের চাওয়া কোন নেতা নয় প্রতিটা জেলার ডিসি, উপজেলার নির্বাহী অফিসার, জেলা এবং উপজেলার ঈমাম কমিটির সদস্যবৃন্দ, মসজিদের ঈমান , মাদ্রাসার শিক্ষক এদের মাধ্যমে কমিটি গঠন করে সরকারি সব ত্রাণ সারা দেশের দিন-মজুর, মেহনতি মানুষদের মাঝে বিতরণ করবেন বলে আশাবাদী।

























