সংবাদ শিরোনাম ::
কাঠালিয়া আমুয়া জিরো পয়েন্ট থেকে মনস্বিতা কলেজ সড়ক সংস্কার কাজের উদ্বোধন, রফিকুল ইসলাম জামাল এমপি। বাবুগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, গাছের সঙ্গে ধাক্কা। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা যাত্রীরা দর্শনায় কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেফতার কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের জরুরি বৈঠক: অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন ও ঐক্যের সংকল্প ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা সভা কাঠালিয়াতে অটোকে সাইড দিতে গিয়ে দেবে গেল বিআরটিসি বাস, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা সুমন হত্যার বিচার ও খুনির ফাঁসির দাবিতে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির মানববন্ধন ঘোড়াঘাটের পাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চুয়াডাঙ্গার সকল সরকারী দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বিনিময় সভা,

সংরক্ষিত বনের পাশে ইটের পাঁজা ব্যবস্থা নেই প্রশাসনের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২০ ১৭০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জলিলুর রহমান স্টাফ রিপোর্টার
বরগুনার তালতলীতে সংরক্ষিত বনঞ্চালের কাছাকাছি ইটের পাঁজা তৈরি করে ইট পুড়ছে এক শ্রেনীর প্রভাবশালীরা। এদিকে সতেচন মহল বলছে প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়াতে ধ্বংসের মুখে সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
জানা যায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ তে বলা হয়েছে সরকারি বনাঞ্চলের সীমারেখা হইতে ২ (দুই) কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কোনো ধরনে ইটভাটা তৈরি ও ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসাবে কোন জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করিতে পারিবেন না। আর কৃষি জমি, আবাসিক এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করতে পারবে না বলে আইনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে কিন্তু সেই আইনকে তোয়াক্কা না করে শুভসন্ধার সমূদ্র সৈকতের ১ কিলোমিটারের ভিতরে আশে পাশে ফসলি জমি ও জনবসতির মাঝে গড়ে ওঠে অবৈধ চারটি ইটে পাঁজা । নির্বিচারে ফসলী জমির মাটি কেটে ও সংরক্ষিত বনের কচি কচি কাঠ পুঁড়িয়ে তৈরি করছে ইট। এই ইটের পাজার কালো ধোয়ায় সংরক্ষিত বন ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে জানান স্থানীরা।
এদিকে কোন ধরনে বৈধতা না থাকলেও ইট তৈরির জন্য ইটের পাঁজা করছে প্রভাবশালীরা। এ উপজেলায় প্রায় ১০টি অবৈধ ইটভাটা ও পাজায় পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। তবে প্রশাসন নিরব ভূমিকায় থাকার কারনে ক্ষতির সম্মুক্ষীন সাধারন মানুষ ও কৃষকরা। এতে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে কৃষি জমির র্উবর শক্তি অন্যদিকে মাটি কাটার ফলে উৎপাদনশীল জমি গুলো দিনে দিনে কমে যাচ্ছে ফসল উৎপাদন। তবে ইটভাটার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছে না। কৃষিজমি ও বনাঞ্চলের পাশে মেনিপাড়া এলাকার সোবাহান ও জাহিদ, শুভসন্ধা সমুদ্র সৈকতের পাশে রাসেল ও একই এলাকার বাচ্চু হাওলাদারসহ চারটি ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে।
সোমবার(২৩ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ ইটভাটা ফসলি জমি ও বসতি এলাকায় গড়ে ওঠেছে। এতে করে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এসব এলাকার উদ্ভিদ। কমে যাচ্ছে ফলন। বাড়ছে মানুষের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা। আর বনের গাছ কেটে এসব ইট ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করতে কয়েক ব্যাক্তি জানান উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করতে হয়।
শুভসন্ধা সমুদ্র সৈকতের পাশে একটি ইটপাজার মালিক রাসেল বলেন,বনের ২ কিলোমিটারের ভিতরে আমার ইটের পাজা। এতে কোনো পরিবেশের ক্ষতি হয় না। অনুমতি না নিয়ে ইটের পাজা তৈরি না করতে পারবে না প্রশ্নের জবাবে ফোন কেটে দেন তিনি।
মেনিপাড়া এলাকার একটি ইটপাজার মালিক জাহিদ মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি। এদিকে মেনিপাড়া এলাকার আরেক ইটপাজার মালিক বলেন সবাইকে ম্যানেজ করেই এই ইটের পাজা তৈরি করছি।
বরগুনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হাচানুর রহমান ঝন্টু বলেন, দীর্ঘদিন পযর্ন্ত বনের পাশে ইট ভাটা ও পাজা থাকার পরেও বন বিভাগের উদাসীনতার কারনে এ ভাবেই বন একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। আর নিয়মিত বনের পাশে বনের ভিতরে ইটের পাজা তৈরি করে ইট পুড়লে বনাঞ্চল ধংর্ষ হয়ে যাবে অন্যদিকে পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তবে প্রশাসন কি কারনে ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা ভেবে পাচ্ছিনা। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ থাকবে ব্যবস্থা নেন দ্রুত।
তালতলী বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রি বলেন, শুভ সন্ধা সমুদ্র সৈকতের পাশে যে কয়টা ইটের পাজা আছে সে গুলো উচ্ছেদের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি পেলে সম্মলিতভাবে উচ্ছেদ করা হবে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম মিঞা বলেন, এই ইটের পাজা গুলোর খোঁজখবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সংরক্ষিত বনের পাশে ইটের পাঁজা ব্যবস্থা নেই প্রশাসনের

আপডেট সময় : ০৪:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২০

জলিলুর রহমান স্টাফ রিপোর্টার
বরগুনার তালতলীতে সংরক্ষিত বনঞ্চালের কাছাকাছি ইটের পাঁজা তৈরি করে ইট পুড়ছে এক শ্রেনীর প্রভাবশালীরা। এদিকে সতেচন মহল বলছে প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়াতে ধ্বংসের মুখে সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
জানা যায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ তে বলা হয়েছে সরকারি বনাঞ্চলের সীমারেখা হইতে ২ (দুই) কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কোনো ধরনে ইটভাটা তৈরি ও ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসাবে কোন জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করিতে পারিবেন না। আর কৃষি জমি, আবাসিক এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করতে পারবে না বলে আইনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে কিন্তু সেই আইনকে তোয়াক্কা না করে শুভসন্ধার সমূদ্র সৈকতের ১ কিলোমিটারের ভিতরে আশে পাশে ফসলি জমি ও জনবসতির মাঝে গড়ে ওঠে অবৈধ চারটি ইটে পাঁজা । নির্বিচারে ফসলী জমির মাটি কেটে ও সংরক্ষিত বনের কচি কচি কাঠ পুঁড়িয়ে তৈরি করছে ইট। এই ইটের পাজার কালো ধোয়ায় সংরক্ষিত বন ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে জানান স্থানীরা।
এদিকে কোন ধরনে বৈধতা না থাকলেও ইট তৈরির জন্য ইটের পাঁজা করছে প্রভাবশালীরা। এ উপজেলায় প্রায় ১০টি অবৈধ ইটভাটা ও পাজায় পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। তবে প্রশাসন নিরব ভূমিকায় থাকার কারনে ক্ষতির সম্মুক্ষীন সাধারন মানুষ ও কৃষকরা। এতে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে কৃষি জমির র্উবর শক্তি অন্যদিকে মাটি কাটার ফলে উৎপাদনশীল জমি গুলো দিনে দিনে কমে যাচ্ছে ফসল উৎপাদন। তবে ইটভাটার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছে না। কৃষিজমি ও বনাঞ্চলের পাশে মেনিপাড়া এলাকার সোবাহান ও জাহিদ, শুভসন্ধা সমুদ্র সৈকতের পাশে রাসেল ও একই এলাকার বাচ্চু হাওলাদারসহ চারটি ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে।
সোমবার(২৩ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ ইটভাটা ফসলি জমি ও বসতি এলাকায় গড়ে ওঠেছে। এতে করে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এসব এলাকার উদ্ভিদ। কমে যাচ্ছে ফলন। বাড়ছে মানুষের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা। আর বনের গাছ কেটে এসব ইট ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করতে কয়েক ব্যাক্তি জানান উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করতে হয়।
শুভসন্ধা সমুদ্র সৈকতের পাশে একটি ইটপাজার মালিক রাসেল বলেন,বনের ২ কিলোমিটারের ভিতরে আমার ইটের পাজা। এতে কোনো পরিবেশের ক্ষতি হয় না। অনুমতি না নিয়ে ইটের পাজা তৈরি না করতে পারবে না প্রশ্নের জবাবে ফোন কেটে দেন তিনি।
মেনিপাড়া এলাকার একটি ইটপাজার মালিক জাহিদ মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি। এদিকে মেনিপাড়া এলাকার আরেক ইটপাজার মালিক বলেন সবাইকে ম্যানেজ করেই এই ইটের পাজা তৈরি করছি।
বরগুনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হাচানুর রহমান ঝন্টু বলেন, দীর্ঘদিন পযর্ন্ত বনের পাশে ইট ভাটা ও পাজা থাকার পরেও বন বিভাগের উদাসীনতার কারনে এ ভাবেই বন একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। আর নিয়মিত বনের পাশে বনের ভিতরে ইটের পাজা তৈরি করে ইট পুড়লে বনাঞ্চল ধংর্ষ হয়ে যাবে অন্যদিকে পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তবে প্রশাসন কি কারনে ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা ভেবে পাচ্ছিনা। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ থাকবে ব্যবস্থা নেন দ্রুত।
তালতলী বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রি বলেন, শুভ সন্ধা সমুদ্র সৈকতের পাশে যে কয়টা ইটের পাজা আছে সে গুলো উচ্ছেদের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি পেলে সম্মলিতভাবে উচ্ছেদ করা হবে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম মিঞা বলেন, এই ইটের পাজা গুলোর খোঁজখবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।