সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

জীবনপথের স্বাভাবিকী গতিপ্রকৃতি দিকভ্রান্ত!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৪:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২০ ১৮৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সোহেল সানি

কেমন আছে বাংলাদেশ? কেমন আছে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা? দেশবাসী গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানতে চায়। রাজপথের লড়াইয়ের খবর না থাকায় তাদের চোখ মোবাইলের পর্দায়। কোটি চোখ ফেইসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো’র ওপর।
প্রধানমন্ত্রী ভালো নেই, তিনি নাখোশ তাঁর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের উপুর্যুপরি ব্যর্থতার ও অযোগ্যতার কারণে। ইতিমধ্যে তিনি শাসিয়েছেন অতি উচ্চশিক্ষিত কয়েকজন মন্ত্রীকেও। শোনা যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের ঐতিহাসিক মিলনমেলা বসার আগেই মন্ত্রিসভা থেকে ছিটকে পড়বেন ডজনখানেক। দাপুটে নেতাদের নিয়ে আসা হবে মন্ত্রিসভায়। প্রধানমন্ত্রীর দফতর সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তার বিদায়ঘন্টা বাজতে শুরু করেছে। এদের জায়গায় যোগ্য লোক নিয়োগ দেয়ার কথাও শোনা গেছে। দেশ
যখনই একেকটা সংকটের মুখোমুখি হয়, তখনি দেশবাসীর নানা শঙ্কা, প্রবল উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্যে পরে। সরকার বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিরোধ কর্মসূচি সরকারের ইস্পাত কঠিন অবস্থান ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখে বারবার বানচাল হওয়ায় জনগণও ঘরমুখো। ফলে
সর্বদর্শী জীবন, সত্য-মিথ্যার লড়াইয়ে, মিথ্যারই তো জয়জয়কার। জীবনপথের স্বাভাবিকী গতি-প্রকৃতি আজ দিকভ্রান্ত। তোমরা দেখছো না। সর্বত্র লুকোচুরি সয়ং প্রধানমন্ত্রীও দিশেহারা। কি অপরিসীম দেশপ্রেম নিয়ে স্বপ্নহারাক্রান্ত্র জাতিটাকে গড়ে তোলার কি অকাতর স্পৃহা, অথচ, দু’চারটা সহচর ছাড়া মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী নামক ভালো উজির নাজিরও বা কই?
দেশ ও জাতিগঠনের দায় যেন বঙ্গবন্ধু কন্যার একার। ব্যর্থ ও অযোগ্য মন্ত্রীদের ব্যর্থতার কারণে অর্থবৈভবহীন বর্ণচোরাও এখন সর্বস্বচুরির সুযোগ হাতিয়ে নিচ্ছেন নানা কৌশলে। রূপকথার গল্পের মতেো বেরিয়ে এসেছে দলীয় ছত্রছায়ায় ক্যাসিনো কাহিনী, আর পাপিয়া মাফিয়াদের কীর্তিকলাপ। এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছে যে রাষ্ট্রশক্তি, তার শাখা-প্রশাখায়ও রয়েছে মদদদাতারা। কে কার তবে রাশ টেনে ধরবে, সে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে জনমনে। একটা ইস্যুর ধামাচাপা আরেকটা ইস্যুর জন্ম।
প্রায় পাঁচ দশকের মুখে স্বাধীনতা। সামনে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। দলীয়করণের থাবায় কত মানুষের কর্ম জীবন থেকে ছন্দিত অগ্রসরমান জীবনধারার ছন্দ পতন ঘটেছে কারণে অকারণে।
সত্যের মর্মমূলে মিথ্যার অনুপ্রবিষ্টতা রুখতে ব্যর্থ হয়ে ঠকেছে কত মেধাবী মুখ। ঈশ্বরীয় প্রতিভা, অর্জয়িত শিক্ষা ক্রমবর্ধমান অসীমতায় হয়েছে অনেকেই প্রাপ্তিহারা। এ প্রজন্মকে অবশীভাব, ভাবোন্মাদী জীনতত্ত্বের আগ্রাসী আক্রোশে উদ্ভূত মিথ্যাপবাদের গ্লানিবোধ আঁকড়ে ধরেছে অক্টোপাসের মতো। অশিক্ষার প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রেখেছে গোটা জীবনসমাজকে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা নামক ভয়াল মাদকের থাবা। রাষ্ট্র জেনেশুনে কি তার পৃষ্ঠপোষকতা দেয়।পরবর্তিনীর অশুভের ছুরিকাঘাতে জীবনপ্রবাহে বয়ে যাচ্ছে প্রলয়। প্রতিবেশী ভারতে মুসলমানদের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদের হত্যা নিপীড়ণের প্রতিবাদে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো ও নেতৃস্থানীয় হিন্দুরা মুসলমানদের রক্ষায় এগিয়ে না এলে – বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ রূপ পরিগ্রহ করতো আল্লাহ জানেন। ভাগ্যিস সচেতন মানুষের কারণে একশ্রেণির ইসলামি উগ্রপন্থীদের দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টা কাজে লাগছে না। মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীদের জীবনের সম্ভাবনীয় অধ্যায়ে প্রকৃষ্ট অধ্যায়ণ, ফাঁপা বেলুনের মতো ফেটে যাচ্ছে। তাঁরপরও কি থমকে দাঁড়াবার জীবন নামক যন্ত্রটা। রাষ্ট্রও বা এর গ্লানিবোধ থেকে মুক্ত হবে কি করে? শুধু অবসাদ, অবসন্ন গ্রাস করেনি বরং সঞ্চয়ে ঘটেছে, অবসংযোগের হানা। সম্ভাবনাময় জীবন ফলপ্রসূ কি তবে কিঞ্চিত। একটি প্রশ্নে বিস্মিত হই। জীবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুই মনে গেঁথে দিয়ে গেছেন, “তুমি জীবনকে সংগ্রামমুখর করে গড়ে তোলো, আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের লড়াই কর, হয়ত এ পদ বিপদসংকুল। তাতে মৃত্যু হলেও বেঁচে থাকা যায়।” কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সেই তন্ত্রমন্ত্রের ধারকবাহক হওয়ার যোগ্য উত্তরসুরী কই? কই সম্ভাবনাময় সেই আদর্শিক প্রজন্ম। যাদের হাতে শেখ হাসিনার উন্নয়নশীল বা উন্নত বাংলাদেশের নেতৃত্ব তুলে দেয়া যায়?
লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জীবনপথের স্বাভাবিকী গতিপ্রকৃতি দিকভ্রান্ত!

আপডেট সময় : ০৯:১৪:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২০

সোহেল সানি

কেমন আছে বাংলাদেশ? কেমন আছে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা? দেশবাসী গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানতে চায়। রাজপথের লড়াইয়ের খবর না থাকায় তাদের চোখ মোবাইলের পর্দায়। কোটি চোখ ফেইসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো’র ওপর।
প্রধানমন্ত্রী ভালো নেই, তিনি নাখোশ তাঁর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের উপুর্যুপরি ব্যর্থতার ও অযোগ্যতার কারণে। ইতিমধ্যে তিনি শাসিয়েছেন অতি উচ্চশিক্ষিত কয়েকজন মন্ত্রীকেও। শোনা যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের ঐতিহাসিক মিলনমেলা বসার আগেই মন্ত্রিসভা থেকে ছিটকে পড়বেন ডজনখানেক। দাপুটে নেতাদের নিয়ে আসা হবে মন্ত্রিসভায়। প্রধানমন্ত্রীর দফতর সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তার বিদায়ঘন্টা বাজতে শুরু করেছে। এদের জায়গায় যোগ্য লোক নিয়োগ দেয়ার কথাও শোনা গেছে। দেশ
যখনই একেকটা সংকটের মুখোমুখি হয়, তখনি দেশবাসীর নানা শঙ্কা, প্রবল উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্যে পরে। সরকার বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিরোধ কর্মসূচি সরকারের ইস্পাত কঠিন অবস্থান ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখে বারবার বানচাল হওয়ায় জনগণও ঘরমুখো। ফলে
সর্বদর্শী জীবন, সত্য-মিথ্যার লড়াইয়ে, মিথ্যারই তো জয়জয়কার। জীবনপথের স্বাভাবিকী গতি-প্রকৃতি আজ দিকভ্রান্ত। তোমরা দেখছো না। সর্বত্র লুকোচুরি সয়ং প্রধানমন্ত্রীও দিশেহারা। কি অপরিসীম দেশপ্রেম নিয়ে স্বপ্নহারাক্রান্ত্র জাতিটাকে গড়ে তোলার কি অকাতর স্পৃহা, অথচ, দু’চারটা সহচর ছাড়া মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী নামক ভালো উজির নাজিরও বা কই?
দেশ ও জাতিগঠনের দায় যেন বঙ্গবন্ধু কন্যার একার। ব্যর্থ ও অযোগ্য মন্ত্রীদের ব্যর্থতার কারণে অর্থবৈভবহীন বর্ণচোরাও এখন সর্বস্বচুরির সুযোগ হাতিয়ে নিচ্ছেন নানা কৌশলে। রূপকথার গল্পের মতেো বেরিয়ে এসেছে দলীয় ছত্রছায়ায় ক্যাসিনো কাহিনী, আর পাপিয়া মাফিয়াদের কীর্তিকলাপ। এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছে যে রাষ্ট্রশক্তি, তার শাখা-প্রশাখায়ও রয়েছে মদদদাতারা। কে কার তবে রাশ টেনে ধরবে, সে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে জনমনে। একটা ইস্যুর ধামাচাপা আরেকটা ইস্যুর জন্ম।
প্রায় পাঁচ দশকের মুখে স্বাধীনতা। সামনে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। দলীয়করণের থাবায় কত মানুষের কর্ম জীবন থেকে ছন্দিত অগ্রসরমান জীবনধারার ছন্দ পতন ঘটেছে কারণে অকারণে।
সত্যের মর্মমূলে মিথ্যার অনুপ্রবিষ্টতা রুখতে ব্যর্থ হয়ে ঠকেছে কত মেধাবী মুখ। ঈশ্বরীয় প্রতিভা, অর্জয়িত শিক্ষা ক্রমবর্ধমান অসীমতায় হয়েছে অনেকেই প্রাপ্তিহারা। এ প্রজন্মকে অবশীভাব, ভাবোন্মাদী জীনতত্ত্বের আগ্রাসী আক্রোশে উদ্ভূত মিথ্যাপবাদের গ্লানিবোধ আঁকড়ে ধরেছে অক্টোপাসের মতো। অশিক্ষার প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রেখেছে গোটা জীবনসমাজকে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা নামক ভয়াল মাদকের থাবা। রাষ্ট্র জেনেশুনে কি তার পৃষ্ঠপোষকতা দেয়।পরবর্তিনীর অশুভের ছুরিকাঘাতে জীবনপ্রবাহে বয়ে যাচ্ছে প্রলয়। প্রতিবেশী ভারতে মুসলমানদের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদের হত্যা নিপীড়ণের প্রতিবাদে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো ও নেতৃস্থানীয় হিন্দুরা মুসলমানদের রক্ষায় এগিয়ে না এলে – বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ রূপ পরিগ্রহ করতো আল্লাহ জানেন। ভাগ্যিস সচেতন মানুষের কারণে একশ্রেণির ইসলামি উগ্রপন্থীদের দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টা কাজে লাগছে না। মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীদের জীবনের সম্ভাবনীয় অধ্যায়ে প্রকৃষ্ট অধ্যায়ণ, ফাঁপা বেলুনের মতো ফেটে যাচ্ছে। তাঁরপরও কি থমকে দাঁড়াবার জীবন নামক যন্ত্রটা। রাষ্ট্রও বা এর গ্লানিবোধ থেকে মুক্ত হবে কি করে? শুধু অবসাদ, অবসন্ন গ্রাস করেনি বরং সঞ্চয়ে ঘটেছে, অবসংযোগের হানা। সম্ভাবনাময় জীবন ফলপ্রসূ কি তবে কিঞ্চিত। একটি প্রশ্নে বিস্মিত হই। জীবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুই মনে গেঁথে দিয়ে গেছেন, “তুমি জীবনকে সংগ্রামমুখর করে গড়ে তোলো, আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের লড়াই কর, হয়ত এ পদ বিপদসংকুল। তাতে মৃত্যু হলেও বেঁচে থাকা যায়।” কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সেই তন্ত্রমন্ত্রের ধারকবাহক হওয়ার যোগ্য উত্তরসুরী কই? কই সম্ভাবনাময় সেই আদর্শিক প্রজন্ম। যাদের হাতে শেখ হাসিনার উন্নয়নশীল বা উন্নত বাংলাদেশের নেতৃত্ব তুলে দেয়া যায়?
লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।