সংবাদ শিরোনাম ::
কাঠালিয়া আমুয়া জিরো পয়েন্ট থেকে মনস্বিতা কলেজ সড়ক সংস্কার কাজের উদ্বোধন, রফিকুল ইসলাম জামাল এমপি। বাবুগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, গাছের সঙ্গে ধাক্কা। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা যাত্রীরা দর্শনায় কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেফতার কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের জরুরি বৈঠক: অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন ও ঐক্যের সংকল্প ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা সভা কাঠালিয়াতে অটোকে সাইড দিতে গিয়ে দেবে গেল বিআরটিসি বাস, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা সুমন হত্যার বিচার ও খুনির ফাঁসির দাবিতে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির মানববন্ধন ঘোড়াঘাটের পাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চুয়াডাঙ্গার সকল সরকারী দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বিনিময় সভা,

দুর্নীতির মামলায় সস্ত্রীক সাবেক এমপি আউয়ালকে কারাগারে পাঠানো জজ বদলি, চার ঘণ্টা পর জামিন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২০ ২৭১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি/
দুর্নীতির মামলায় জামিন বাতিলের চার ঘণ্টা পর জামিন পেলেন পিরোজপুর-১ (
পিরোজপুর সদর-নাজিরপুর-স্বরূপকাঠি) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা
আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল এবং তার স্ত্রী লায়লা পারভীন।

একই সঙ্গে আউয়াল এবং তার স্ত্রী লায়লা পারভীনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া
বিচারক মো. আবদুল মান্নানকে তিন ঘণ্টার মাথায় বদলি করে দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পিরোজপুর দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বিচারক
নাহিদ নাসরিনের আদালতে জামিন বাতিলের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হলে
জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল এবং তার
স্ত্রী লায়লা পারভীনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ
আদালতের বিচারক মো. আবদুল মান্নান| আউয়ালকে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর
পিরোজপুর হুলারহাট সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়। শহরের সার্কিট হাউস
এলাকায় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করা হয়। এ ছাড়া পিরোজপুর-পাড়েরহাট সড়কেরর
কয়েকটি স্থানে গাছের গুড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়। এছাড়া দুপুর
একটার দিকে শহরের গোপাল কৃষ্ণ টাউন ক্লাব সড়কে প্রতিবাদ মিছিল করে আউয়ালের
অনুসারীরা।

এ আদেশের মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে তাকে বদলি করে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত
করেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) খান মো. আলাউদ্দিন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন বলেন, পিরোজপুর দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ
আদালতের বিচারক নাহিদ নাসরিনের আদালতে আউয়াল দম্পতির জামিন বাতিলের আদেশ
পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হলে জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মুনসুর উদ্দিন আহমেদ বলেন, আউয়াল দম্পতির
জামিন বাতিলের আদেশ দেয়ার পরপরই জেলা জজ আদালতের বিচারক আবদুল মান্নানকে বদলি
করে আইন মন্ত্রণালয়। এরপর যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পান। তিনি বসেই আউয়াল দম্পতিকে
জামিন দেন।

দুদকের আইনজীবী মুনসুর উদ্দিন আরও বলেন, কোনো বিচারক বর্তমানে জেলায় নেই, যিনি
দায়িত্ব বুঝে নিতে পারবেন। এজন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) খান মো. আলাউদ্দিন বলেন, রায়ের পরপরই মঙ্গলবার
বিকেল ৩টার দিকে পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবদুল মান্নানকে
বদলির আদেশ দেয়া হয়। এ বিষয়ে লিখিত কোনো কাগজপত্র আমরা এখনও পাইনি। এটি
মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেখতে হবে। তবে জজকে বদলির বিষয়টি নিশ্চিত।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক খান পান্না বলেন, সাবেক এমপি
আউয়ালের বিরুদ্ধে দুদক যে মামলা করেছে তাতে কোনো ক্রিমিনাল অফেন্স না থাকায়
আমরা জামিনের আবেদন করি। জেলা ও দায়রা জজ সম্ভবত আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে জামিনের
আবেদন নাকচ করেছেন। কিছুক্ষণ পরই জানতে পারি জেলা ও দায়রা জজ আবদুল মান্নানের
স্থলে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ হয়েছেন দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ নাহিদ নাসরিন।
এরপরই জামিন বাতিলের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়। ভারপ্রাপ্ত জেলা ও
দায়রা জজ নাহিদ নাসরিন শুনানি শেষে আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীনের দুই
মাসের জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়, দুদকের তিন মামলায় উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের নেয়া
জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার পিরোজপুর জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন
আবেদন করেন আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা। পরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক
তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, জালিয়াতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পিরোজপুর-১
আসনের সাবেক এমপি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল এবং তার স্ত্রী
পিরোজপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লায়লা পারভীনের বিরুদ্ধে গত বছরের ৩০
ডিসেম্বর পৃথকভাবে তিনটি মামলা করে দুদক।গত ৭ জানুয়ারি আউয়াল ও লায়লা পারভীন
হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের অন্তবর্তী জামিন নেন।

মামলাগুলোর মধ্যে একটিতে আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীনকে আসামি করা হয়েছে।
বাকি দুটিতে এককভাবে আউয়ালকে আসামি করা হয়। তিনটি মামলারই বাদী দুদক প্রধান
কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আলী আকবর।

মামলায় আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীন মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন
করেন। জেলা জজ আদালতের বিচারক আবদুল মান্নান আবেদন খারিজ করে তাদের কারাগারে
পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর আসামিরা মেডিকেল ওয়ার্ডে যাওয়ার আবেদন করেন। বিচারক
তাদের চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দেয়ার আদেশ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দুর্নীতির মামলায় সস্ত্রীক সাবেক এমপি আউয়ালকে কারাগারে পাঠানো জজ বদলি, চার ঘণ্টা পর জামিন

আপডেট সময় : ০৪:১৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২০

রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি/
দুর্নীতির মামলায় জামিন বাতিলের চার ঘণ্টা পর জামিন পেলেন পিরোজপুর-১ (
পিরোজপুর সদর-নাজিরপুর-স্বরূপকাঠি) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা
আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল এবং তার স্ত্রী লায়লা পারভীন।

একই সঙ্গে আউয়াল এবং তার স্ত্রী লায়লা পারভীনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া
বিচারক মো. আবদুল মান্নানকে তিন ঘণ্টার মাথায় বদলি করে দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পিরোজপুর দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বিচারক
নাহিদ নাসরিনের আদালতে জামিন বাতিলের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হলে
জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল এবং তার
স্ত্রী লায়লা পারভীনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ
আদালতের বিচারক মো. আবদুল মান্নান| আউয়ালকে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর
পিরোজপুর হুলারহাট সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়। শহরের সার্কিট হাউস
এলাকায় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করা হয়। এ ছাড়া পিরোজপুর-পাড়েরহাট সড়কেরর
কয়েকটি স্থানে গাছের গুড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়। এছাড়া দুপুর
একটার দিকে শহরের গোপাল কৃষ্ণ টাউন ক্লাব সড়কে প্রতিবাদ মিছিল করে আউয়ালের
অনুসারীরা।

এ আদেশের মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে তাকে বদলি করে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত
করেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) খান মো. আলাউদ্দিন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন বলেন, পিরোজপুর দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ
আদালতের বিচারক নাহিদ নাসরিনের আদালতে আউয়াল দম্পতির জামিন বাতিলের আদেশ
পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হলে জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মুনসুর উদ্দিন আহমেদ বলেন, আউয়াল দম্পতির
জামিন বাতিলের আদেশ দেয়ার পরপরই জেলা জজ আদালতের বিচারক আবদুল মান্নানকে বদলি
করে আইন মন্ত্রণালয়। এরপর যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পান। তিনি বসেই আউয়াল দম্পতিকে
জামিন দেন।

দুদকের আইনজীবী মুনসুর উদ্দিন আরও বলেন, কোনো বিচারক বর্তমানে জেলায় নেই, যিনি
দায়িত্ব বুঝে নিতে পারবেন। এজন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) খান মো. আলাউদ্দিন বলেন, রায়ের পরপরই মঙ্গলবার
বিকেল ৩টার দিকে পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবদুল মান্নানকে
বদলির আদেশ দেয়া হয়। এ বিষয়ে লিখিত কোনো কাগজপত্র আমরা এখনও পাইনি। এটি
মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেখতে হবে। তবে জজকে বদলির বিষয়টি নিশ্চিত।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক খান পান্না বলেন, সাবেক এমপি
আউয়ালের বিরুদ্ধে দুদক যে মামলা করেছে তাতে কোনো ক্রিমিনাল অফেন্স না থাকায়
আমরা জামিনের আবেদন করি। জেলা ও দায়রা জজ সম্ভবত আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে জামিনের
আবেদন নাকচ করেছেন। কিছুক্ষণ পরই জানতে পারি জেলা ও দায়রা জজ আবদুল মান্নানের
স্থলে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ হয়েছেন দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ নাহিদ নাসরিন।
এরপরই জামিন বাতিলের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়। ভারপ্রাপ্ত জেলা ও
দায়রা জজ নাহিদ নাসরিন শুনানি শেষে আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীনের দুই
মাসের জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়, দুদকের তিন মামলায় উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের নেয়া
জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার পিরোজপুর জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন
আবেদন করেন আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা। পরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক
তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, জালিয়াতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পিরোজপুর-১
আসনের সাবেক এমপি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল এবং তার স্ত্রী
পিরোজপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লায়লা পারভীনের বিরুদ্ধে গত বছরের ৩০
ডিসেম্বর পৃথকভাবে তিনটি মামলা করে দুদক।গত ৭ জানুয়ারি আউয়াল ও লায়লা পারভীন
হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের অন্তবর্তী জামিন নেন।

মামলাগুলোর মধ্যে একটিতে আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীনকে আসামি করা হয়েছে।
বাকি দুটিতে এককভাবে আউয়ালকে আসামি করা হয়। তিনটি মামলারই বাদী দুদক প্রধান
কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আলী আকবর।

মামলায় আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীন মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন
করেন। জেলা জজ আদালতের বিচারক আবদুল মান্নান আবেদন খারিজ করে তাদের কারাগারে
পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর আসামিরা মেডিকেল ওয়ার্ডে যাওয়ার আবেদন করেন। বিচারক
তাদের চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দেয়ার আদেশ