সংবাদ শিরোনাম ::
কাঠালিয়া আমুয়া জিরো পয়েন্ট থেকে মনস্বিতা কলেজ সড়ক সংস্কার কাজের উদ্বোধন, রফিকুল ইসলাম জামাল এমপি। বাবুগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, গাছের সঙ্গে ধাক্কা। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা যাত্রীরা দর্শনায় কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেফতার কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের জরুরি বৈঠক: অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন ও ঐক্যের সংকল্প ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা সভা কাঠালিয়াতে অটোকে সাইড দিতে গিয়ে দেবে গেল বিআরটিসি বাস, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা সুমন হত্যার বিচার ও খুনির ফাঁসির দাবিতে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির মানববন্ধন ঘোড়াঘাটের পাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চুয়াডাঙ্গার সকল সরকারী দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বিনিময় সভা,

পতিতালয়ে যেতে না চাওয়ায় স্ত্রীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে বাথরুমে লোহার রড দিয়ে পিটিয়েছে স্বামী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ১৮৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক :: ভারতের মুম্বায়ের পতিতালয়ে যেতে না চাওয়ায় গভীর রাতে স্ত্রীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে বাথরুমে লোহার রড দিয়ে পিটিয়েছে স্বামী (৩৭)। এমনকি মারধরের পর ঘরে আটকে রাখা হয় ওই গৃহবধূকে।

প্রতিবেশিদের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাবার বাড়ির লোকজন গত সোমবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করে গৃহবধূকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ওই গৃহবধূর স্বামীর বাড়ি নড়াইল সীমান্তবর্তী খুলনার ফুলতলা উপজেলার যুগ্নীপাশা গ্রামে।

জানা গেছে, রোববার রাত ৩ টার দিকে ওই গৃহবধূর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতন চালায় নিষ্ঠুর স্বামী। এ ঘটনায় স্ত্রীর মাথা ও কপালে একাধিক সেলাই দেয়া হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে নড়াইল সদরের রুখালী গ্রামের দরিদ্র ঘরের মেয়েকে ভালোবেসে বিয়ে করেন পাশের ফুলতলা উপজেলার যুগ্নীপাশা গ্রামের এক তরকারি বিক্রেতা। তবে তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি। স্বামী তার স্ত্রীকে প্রায়ই মারধর করে ভারতে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়। একপর্যায়ে ওই গৃহবধূকে তার স্বামী ২০১৪ সালে মুম্বাই নিয়ে যায়। প্রায় ৩ বছর আগে সেখান থেকে ওই গৃহবধূ স্বামীসহ বাড়িতে চলে আসেন। এরপর আবারও গৃহবধূর ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এ নিয়ে অন্তত ৫ বার এলাকায় শালিসও হয়েছে। এরই মধ্যে ওই স্বামীর বিরুদ্ধে এলো রড দিয়ে পেটানোর অভিযোগ।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ জানান, আমার স্বামী আবারও আমাকে জোর করে ভারতে নিয়ে দেহব্যবসা করাতে চায়। যেতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে আমাকে মারধর করা হয়েছে। ওর (স্বামী) নামে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বুধবার মামলা দায়ের করব। তাদের একটি মেয়ে সন্তান আছে।

তবে অভিযুক্ত স্বামী বলছেন, স্ত্রীকে ভারতে যেতে বাধা দেয়ায় প্রায়ই আমার সঙ্গে তার ঝগড়া-বিবাদ হয়। এ নিয়ে পারিবারিক এবং গ্রাম্য পর্যায়ে অনেক শালিস হয়েছে। এলাকার লোকজনের কাছে খোঁজখবর নিলে আমার কথার সত্যতা মিলবে। আমি আগে কাঁচামাল বিক্রি করতাম। এখন ইটভাটায় কাজ করে কষ্টের মধ্যে সংসার চালালেও স্ত্রীকে ভারতে যেতে দিতে রাজি না। তবে স্ত্রীকে সামলাতে না পেরে আমাদের মেয়ের বয়স যখন আড়াই বছর, তখন আমরা ভারতে যাই। প্রায় ৩ বছর ওইখানে (ভারত) থাকার পর স্ত্রীকে বুঝিয়ে বাড়িতে চলে আসি। এখন আমার স্ত্রী আবার ভারতে যেতে চায়। নিষেধ করায় আমাদের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ হয়েছে। রাগের মাথায় তাকে আমি মারধর করেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পতিতালয়ে যেতে না চাওয়ায় স্ত্রীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে বাথরুমে লোহার রড দিয়ে পিটিয়েছে স্বামী

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২০

অনলাইন ডেস্ক :: ভারতের মুম্বায়ের পতিতালয়ে যেতে না চাওয়ায় গভীর রাতে স্ত্রীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে বাথরুমে লোহার রড দিয়ে পিটিয়েছে স্বামী (৩৭)। এমনকি মারধরের পর ঘরে আটকে রাখা হয় ওই গৃহবধূকে।

প্রতিবেশিদের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাবার বাড়ির লোকজন গত সোমবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করে গৃহবধূকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ওই গৃহবধূর স্বামীর বাড়ি নড়াইল সীমান্তবর্তী খুলনার ফুলতলা উপজেলার যুগ্নীপাশা গ্রামে।

জানা গেছে, রোববার রাত ৩ টার দিকে ওই গৃহবধূর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতন চালায় নিষ্ঠুর স্বামী। এ ঘটনায় স্ত্রীর মাথা ও কপালে একাধিক সেলাই দেয়া হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে নড়াইল সদরের রুখালী গ্রামের দরিদ্র ঘরের মেয়েকে ভালোবেসে বিয়ে করেন পাশের ফুলতলা উপজেলার যুগ্নীপাশা গ্রামের এক তরকারি বিক্রেতা। তবে তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি। স্বামী তার স্ত্রীকে প্রায়ই মারধর করে ভারতে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়। একপর্যায়ে ওই গৃহবধূকে তার স্বামী ২০১৪ সালে মুম্বাই নিয়ে যায়। প্রায় ৩ বছর আগে সেখান থেকে ওই গৃহবধূ স্বামীসহ বাড়িতে চলে আসেন। এরপর আবারও গৃহবধূর ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এ নিয়ে অন্তত ৫ বার এলাকায় শালিসও হয়েছে। এরই মধ্যে ওই স্বামীর বিরুদ্ধে এলো রড দিয়ে পেটানোর অভিযোগ।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ জানান, আমার স্বামী আবারও আমাকে জোর করে ভারতে নিয়ে দেহব্যবসা করাতে চায়। যেতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে আমাকে মারধর করা হয়েছে। ওর (স্বামী) নামে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বুধবার মামলা দায়ের করব। তাদের একটি মেয়ে সন্তান আছে।

তবে অভিযুক্ত স্বামী বলছেন, স্ত্রীকে ভারতে যেতে বাধা দেয়ায় প্রায়ই আমার সঙ্গে তার ঝগড়া-বিবাদ হয়। এ নিয়ে পারিবারিক এবং গ্রাম্য পর্যায়ে অনেক শালিস হয়েছে। এলাকার লোকজনের কাছে খোঁজখবর নিলে আমার কথার সত্যতা মিলবে। আমি আগে কাঁচামাল বিক্রি করতাম। এখন ইটভাটায় কাজ করে কষ্টের মধ্যে সংসার চালালেও স্ত্রীকে ভারতে যেতে দিতে রাজি না। তবে স্ত্রীকে সামলাতে না পেরে আমাদের মেয়ের বয়স যখন আড়াই বছর, তখন আমরা ভারতে যাই। প্রায় ৩ বছর ওইখানে (ভারত) থাকার পর স্ত্রীকে বুঝিয়ে বাড়িতে চলে আসি। এখন আমার স্ত্রী আবার ভারতে যেতে চায়। নিষেধ করায় আমাদের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ হয়েছে। রাগের মাথায় তাকে আমি মারধর করেছি।