সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশ সেজে সিগন্যাল দিয়ে গাড়ি থামিয়ে ছিনতাই আটক ৪
- আপডেট সময় : ০৭:১৭:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ১১৯ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক:: গায়ে পুলিশের জ্যাকেট। সড়কে বসায় চেকপোস্ট। পরে পুলিশ সেজে সিগন্যাল দিয়ে গাড়ি থামিয়ে ছিনতাই শুরু করে একটি চক্র। অবশেষে বিষয়টি টের পেয়ে চারজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ও একটি পুলিশের জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে তাদের সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে রাজশাহীর পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর দুপুরেই আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ পরিচয়ে আটক চার ছিনতাইকারী হলেন- রাজশাহী মহানগরীর কাটাখালি থানার সুচারণ এলাকার আবদুল মতিনের ছেলে রুহুল আমিন, একই এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে সাগর হোসেন, মোকবুল হোসেনের ছেলে নিলয় এবং রূপসিডাঙ্গা এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে প্রাবণ হোসেন।
রাজশাহীর কাটাখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, ঘটনাটি শুক্রবার সন্ধ্যার। ওই দিন সন্ধ্যায় শহর থেকে চার বন্ধুকে নিয়ে এক যুবক কাটাখালির সুচারণ এলাকায় যান। সেখানে তার খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় রুহুল আমিনের সঙ্গে ওই পাঁচ যুবকের পরিচয় হয়। পরে তারা খেজুরের রস পান করার উদ্দেশে গাড়ি নিয়ে রুহুলের সঙ্গেই পাশের এক বাগানে যান। কিন্তু রস পানের সময় নিলয়, শ্রাবণ ও সাগর সেখানে গিয়ে হাজির হন।
তাদের মধ্যে একজন পুলিশের জ্যাকেট পরিহিত ছিলেন। ওই চারজন নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেন। এরপর ওই পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে রস পানের অভিযোগ এনে তাদের আটক করেন। এ সময় প্রত্যেকের হাতে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। আটকের সময় ওই পাঁচ যুবক জানতে চান ওই পুলিশ সদস্যরা মহানগরীর কোন থানার। এতে পুলিশ পরিচয় দেওয়া চার ছিনতাইকারী আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাদের মারধর করেন।
ওসি জানান, এর পর ‘স্যারকে’ ডাকতে এবং পিকআপ আনার কথা বলে রুহুল ছাড়া অন্য তিন ছিনতাইকারী সটকে পড়েন। এ সময় ওই পাঁচ যুবকের সন্দেহ হয় যে তারা পুলিশ নন। তারা পুলিশ রুহুলকে ধরে কাটাখালি থানায় নিয়ে যান। এ সময় সত্যতা বেরিয়ে আসে।
ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রুহুল স্বীকার করে যে তারা পুলিশ সেজে ছিনতাই করে থাকে। পরে রুহুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জনগণের সহায়তায় এক এক করে অন্য তিন ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়।
এ সময় ছিনতাই করা পাঁচটি মোবাইল ও পুলিশের একটি জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পাঁচজনের একজন মামলা করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার দুপুরে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ওসি জিল্লুর।


























