সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয় নগরে ১২২ কেজি গাজা সহ গ্রেপ্তারে ১জন চুয়াডাঙ্গা গার্লস স্কুলে প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তের মাঝপথে ভর্তি জালিয়াতি, স্বাক্ষর জালসহ নানা অপকর্মের হোতা অফিস সহায়ক আটক রাজাপুরে খাল থেকে উদ্ধার মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করল সিআইডি বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্নের পর সনদ ও বই বিতরণ ঘোড়াঘাটের কোটি টাকার রানীগঞ্জ হাটসহ প্রতিটি হাটে সড়কের ওপর দোকান! বাবুগঞ্জে ভি-ডব্লিউ-বি কর্মসূচির চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোড়াঘাটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ যুবদলের ৫ শতাধিক তাল বীজ রোপন ঘোড়াঘাটে ৪ পদজয়ী ও বৃত্তিপ্রাপ্ত ৫২ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা বিরামপুরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে র‍্যালী ও আলোচনা সভা‎‎ অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস উদযাপন, চালকদের সম্মাননা ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা

বানারীপাড়ায় সম্পত্তি ক্রয় করেও দলিল রেজিষ্ট্রি ও ভোগ দখল করতে না পারায় আদালতে মামলা দায়ের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ১৫৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি\
বরিশালে বেঙ্গল বিস্কুট কোম্পানীতে কর্মরত বানারীপাড়ার মাদারকাঠি গ্রামের সৈয়দ আ.স.ম মাঈনুল হক সম্পত্তি ক্রয় করেও দলিল রেজিষ্ট্রি ও ভোগ দখল করতে না পারার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। রোববার তিনি বরিশাল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের মাদারকাঠি গ্রামের সৈয়দ এনায়েত ও মীর ইউনুচকে আসামী করে এ মামলা দায়ের করেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে মাদারকাঠি গ্রামের সৈয়দ মাঈনুল হক ২০০২ সালের ১৮ জুলাই প্রতিবেশী সৈয়দ এনায়েত হোসেনের কাছ থেকে প্রথমে ২৯ শতক সম্পত্তি ৫ হাজার টাকায় বন্ধক রাখেন। পরবর্তীতে ওই সম্পত্তি বন্ধক থাকা অবস্থায় তিনি ২০০৩ সালের ১৫ জুলাই ১০ বছরের জন্য লীজ চুক্তিবদ্ধ হন। ২ নং বিবাদী মীর ইউনুচের উপস্থিতে ওই সময় সৈয়দ এনায়েত নগদ ৫ হাজার টাকা ও ৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরে বাকী ৫ হাজার টাকা গ্রহণ করার ওয়াদায় চুক্তিবদ্ধ হয়। বন্ধক ও লীজের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে সৈয়দ এনায়েতের নগদ টাকার প্রয়োজনে ওই ২৯ শতক সম্পত্তি থেকে ১৪ শতক সম্পত্তি সাব কবলা বিক্রির কথা বলে সৈয়দ মাঈনুল হকের কাছ থেকে ২০০৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ১২ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরে সৈয়দ এনায়েত,তার মা পারুল বেগম ও বোন সৈয়দা সেলিনা পারভীনের সঙ্গে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে ওয়ারিশী সম্পত্তির ১৪ শতাংশ প্রতি শতাংশ ৩ হাজার টাকা করে মোট ৪২ হাজার টাকায় ক্রয় করার উদ্দেশ্যে সৈয়দ মাঈনুল হক অ-রেজিষ্ট্রকৃত লিখিত বায়না চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। ২০০৪ সালের ৫ জানুয়ারী তারা ওই সম্পত্তি বাবদ ১৫ হাজার টাকা গ্রহণ করে সৈয়দ মাঈনুল হককে ১৪ শতক সম্পত্তি দখল বুঝিয়ে দেন। এরপর একই বছরের ১৫ জুন ২ নং বিবাদী মীর ইউনুচের মারফত তারা আরও ১৭ হাজার ও ২০ জুলাই ১০ হাজার টাকা নেন। ওই টাকা গ্রহণের সময় পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সাব কবলা রেজিষ্ট্রি দলিল সম্পাদনের অঙ্গীকার করেন তারা। কিন্তু দলিল রেজিষ্ট্রী না করে দিয়ে ওই সম্পত্তি বাবদ আরও বেশী মূল্য দাবী করে ৫৪ হাজার টাকা নেয়ার পরে সৈয়দ মাঈনুল হককে না জানিয়ে সৈয়দ এনায়েত গোপনে বিদেশে চলে যায়। সৈয়দ মাঈনুল হক বায়নাকৃত ও লীজকৃত মোট ২৯ শতক সম্পত্তি ২ নং বিবাদী মীর ইউনুচের কাছে ২০০৪ সালের ৭ জানুয়ারী বার্ষিক ১৫শত টাকা হারে ১৫ বছরের জন্য লীজ দেন। কিন্তু লীজের ২২ হাজার ৫শত টাকা মীর ইউনুচ পরিশোধ করেননি। এরমধ্যে সৈয়দ এনায়েতের মা পারুল বেগম ও বোন সৈয়দা সেলিনা পারভীন আলাদাভাবে সৈয়দ মাঈনুল হকের কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার টাকা গ্রহণ করে তাদের প্রাপ্ত ৬ শতক ভিটা সম্পত্তি ২০০৫ সালের ৩০ মে সাব কবলা দলিল রেজিষ্ট্রি করে দেন। যার সঙ্গে সৈয়দ এনায়েতের পূর্বে নেওয়া ৫৪ হাজার টাকার কোন সম্পর্ক নেই। ২০১৬ সালে ১ নং আসামী সৈয়দ এনায়েত বিদেশ থেকে দেশে আসলে সৈয়দ মাঈনুল হক তাকে বার বার দলিল সম্পাদন করে দেওয়ার জন্য তাগাদা দিলেও তাতে সে কর্ণপাত করেনি। ফলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি সৈয়দ এনায়েতের বাড়িতে গিয়ে দলিল সম্পাদন করে ও মীর ইউনুসের বাড়িতে গিয়ে ২২ হাজার ৫শত টাকা পরিশোধ করার জন্য বললে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে জমির দখল থেকে উৎখাত ও প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। এ ব্যপারে সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে অভিযোগ করা হলে সৈয়দ এনায়েত ক্ষিপ্ত হয়ে অপর আসামী মীর ইউনুচের সহায়তায় ওই সম্পত্তি জবর দখল করে নিয়ে সেখানে পানের বরজ তৈরী করেন। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক মিন্টু এ বিষয়ে সৈয়দ মাঈনুল হককে উচ্চ আদালতে যেতে বলেন। ফলে তিনি নিরুপায় হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। ###

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বানারীপাড়ায় সম্পত্তি ক্রয় করেও দলিল রেজিষ্ট্রি ও ভোগ দখল করতে না পারায় আদালতে মামলা দায়ের

আপডেট সময় : ১২:১২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি\
বরিশালে বেঙ্গল বিস্কুট কোম্পানীতে কর্মরত বানারীপাড়ার মাদারকাঠি গ্রামের সৈয়দ আ.স.ম মাঈনুল হক সম্পত্তি ক্রয় করেও দলিল রেজিষ্ট্রি ও ভোগ দখল করতে না পারার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। রোববার তিনি বরিশাল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের মাদারকাঠি গ্রামের সৈয়দ এনায়েত ও মীর ইউনুচকে আসামী করে এ মামলা দায়ের করেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে মাদারকাঠি গ্রামের সৈয়দ মাঈনুল হক ২০০২ সালের ১৮ জুলাই প্রতিবেশী সৈয়দ এনায়েত হোসেনের কাছ থেকে প্রথমে ২৯ শতক সম্পত্তি ৫ হাজার টাকায় বন্ধক রাখেন। পরবর্তীতে ওই সম্পত্তি বন্ধক থাকা অবস্থায় তিনি ২০০৩ সালের ১৫ জুলাই ১০ বছরের জন্য লীজ চুক্তিবদ্ধ হন। ২ নং বিবাদী মীর ইউনুচের উপস্থিতে ওই সময় সৈয়দ এনায়েত নগদ ৫ হাজার টাকা ও ৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরে বাকী ৫ হাজার টাকা গ্রহণ করার ওয়াদায় চুক্তিবদ্ধ হয়। বন্ধক ও লীজের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে সৈয়দ এনায়েতের নগদ টাকার প্রয়োজনে ওই ২৯ শতক সম্পত্তি থেকে ১৪ শতক সম্পত্তি সাব কবলা বিক্রির কথা বলে সৈয়দ মাঈনুল হকের কাছ থেকে ২০০৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ১২ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরে সৈয়দ এনায়েত,তার মা পারুল বেগম ও বোন সৈয়দা সেলিনা পারভীনের সঙ্গে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে ওয়ারিশী সম্পত্তির ১৪ শতাংশ প্রতি শতাংশ ৩ হাজার টাকা করে মোট ৪২ হাজার টাকায় ক্রয় করার উদ্দেশ্যে সৈয়দ মাঈনুল হক অ-রেজিষ্ট্রকৃত লিখিত বায়না চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। ২০০৪ সালের ৫ জানুয়ারী তারা ওই সম্পত্তি বাবদ ১৫ হাজার টাকা গ্রহণ করে সৈয়দ মাঈনুল হককে ১৪ শতক সম্পত্তি দখল বুঝিয়ে দেন। এরপর একই বছরের ১৫ জুন ২ নং বিবাদী মীর ইউনুচের মারফত তারা আরও ১৭ হাজার ও ২০ জুলাই ১০ হাজার টাকা নেন। ওই টাকা গ্রহণের সময় পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সাব কবলা রেজিষ্ট্রি দলিল সম্পাদনের অঙ্গীকার করেন তারা। কিন্তু দলিল রেজিষ্ট্রী না করে দিয়ে ওই সম্পত্তি বাবদ আরও বেশী মূল্য দাবী করে ৫৪ হাজার টাকা নেয়ার পরে সৈয়দ মাঈনুল হককে না জানিয়ে সৈয়দ এনায়েত গোপনে বিদেশে চলে যায়। সৈয়দ মাঈনুল হক বায়নাকৃত ও লীজকৃত মোট ২৯ শতক সম্পত্তি ২ নং বিবাদী মীর ইউনুচের কাছে ২০০৪ সালের ৭ জানুয়ারী বার্ষিক ১৫শত টাকা হারে ১৫ বছরের জন্য লীজ দেন। কিন্তু লীজের ২২ হাজার ৫শত টাকা মীর ইউনুচ পরিশোধ করেননি। এরমধ্যে সৈয়দ এনায়েতের মা পারুল বেগম ও বোন সৈয়দা সেলিনা পারভীন আলাদাভাবে সৈয়দ মাঈনুল হকের কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার টাকা গ্রহণ করে তাদের প্রাপ্ত ৬ শতক ভিটা সম্পত্তি ২০০৫ সালের ৩০ মে সাব কবলা দলিল রেজিষ্ট্রি করে দেন। যার সঙ্গে সৈয়দ এনায়েতের পূর্বে নেওয়া ৫৪ হাজার টাকার কোন সম্পর্ক নেই। ২০১৬ সালে ১ নং আসামী সৈয়দ এনায়েত বিদেশ থেকে দেশে আসলে সৈয়দ মাঈনুল হক তাকে বার বার দলিল সম্পাদন করে দেওয়ার জন্য তাগাদা দিলেও তাতে সে কর্ণপাত করেনি। ফলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি সৈয়দ এনায়েতের বাড়িতে গিয়ে দলিল সম্পাদন করে ও মীর ইউনুসের বাড়িতে গিয়ে ২২ হাজার ৫শত টাকা পরিশোধ করার জন্য বললে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে জমির দখল থেকে উৎখাত ও প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। এ ব্যপারে সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে অভিযোগ করা হলে সৈয়দ এনায়েত ক্ষিপ্ত হয়ে অপর আসামী মীর ইউনুচের সহায়তায় ওই সম্পত্তি জবর দখল করে নিয়ে সেখানে পানের বরজ তৈরী করেন। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক মিন্টু এ বিষয়ে সৈয়দ মাঈনুল হককে উচ্চ আদালতে যেতে বলেন। ফলে তিনি নিরুপায় হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। ###