সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

স্বপ্নের পদ্মাসেতু এখন আর স্বপ্ন নয় বাস্তব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৮:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ১৫৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বি এম মনির হোসেন
স্টাফ রিপোর্টারঃ-

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে পদ্মাসেতুর মূল কাজ। স্বপ্নের এ সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। পদ্মা বহুমুখী সেতুর ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় জাজিরা প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ৯১ শতাংশ, মাওয়া প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ১০০ শতাংশ, সার্ভিস এরিয়া (২)-১০০ শতাংশ, মূল সেতু নির্মাণ কাজ ৮৫.৫০ শতাংশ এবং নদীশাসনের কাজ ৬৬ শতাংশ শেষ হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭৬.৫০ শতাংশ।

জানা যায়, পদ্মাসেতু প্রকল্পে বারবার ব্যয়-সময় বাড়ানোসহ নানা বিষয়ে চলমান নিবিড় পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে সরকার। কী কারণে সেতুর মেয়াদ-ব্যয় বাড়ানো হলো এ বিষয়ে নানা কারণও খুঁজে বের করা হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত চার মাসে এই মূল্যায়ন করা হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা যেমন অর্থায়নে বিলম্ব, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিলম্ব, ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা ও প্রকল্পের বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর কারণসহ অন্যান্য দিক বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সংশোধিত পদ্মাসেতু প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত চারবার সময় বাড়ানো হয়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের। এবার একধাপে সময় বাড়ছে দেড় বছর। অর্থাৎ, নতুন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে ২০২১ সালের জুন মাসে। আগে ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর সম্পন্ন হওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল।

প্রথমে ২০০৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। এরপর সময় বেড়ে দাঁড়ায় ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

আবারও ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পযর্ন্ত সময় বাড়ানো হয়। সবশেষ ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির সময় বাড়ানো হচ্ছে। ২০০৭ সালে একনেকে ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়। ২০১১ সালে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি হয়ে যায়। ২০১৮ সালে বাড়তি যুক্ত হয় আরও ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পদ্মাসেতু বাস্তবায়নে ত্রুটি-বিচ্যুতি ও সফলতাসহ সেতুর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল বিষয়ে মূল্যায়ন করা হবে।

এজন্য বাসস্থান ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনসালটেন্টস লিমিটেড এবং আইআরজি ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস লিমিটেড নামক দুটি ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চার মাসে সেতুর সব বিষয়ে মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করতে ফার্ম দুটিকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিবিড় পরীবিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য প্রকল্পের পটভূমি উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে প্রাপ্ত ধারনার ভিত্তিতে কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে পদ্মাসেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্পের কাজটির সঙ্গে একাধিক দেশি-বিদেশি সংস্থা, এজেন্ট ও প্রতিষ্ঠান জড়িত। এজন্য তথ্য দলিলাদি প্রাপ্তির জন্য অনেকের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে। যা সময় সাপেক্ষ। কিন্তু সরকার দ্রুত সেতু শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা সার্বিক চিত্র পেতে চায়। এই জন্যই দুটি ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানায় সরকারের একমাত্র প্রকল্প তদারকি সংস্থা বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি)।

আইএমইডি সূত্র জানায়, বুধবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) নগরীরর শেরে বাংলানগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আইএমইডি-য়ে ফার্ম নিয়োগের বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

অাইএমইডি’র মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, পদ্মাসেতুর বিষয়ে একটা মিটিং হয়েছে। সেতুর সকল কাজ মনিটরিং করার জন্য। ফার্মের মাধ্যমে মনিটারিং করা হবে। ফার্ম দুটি সব সময় সেতু এলাকায় থেকে চার মাসের মধ্যে একটা প্রতিবেদন জমা দেবে। পদ্মাসেতু বাস্তবায়ন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব চিত্র উঠে আসবে।

‘এছাড়া পদ্মাসেতু বাস্তবায়নে কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি ও সফলতা-সবই উঠে আসবে। আমরা দেশবাসী কী ধরনের সুফল পাবো পদ্মাসেতু থেকে এসব বিষয়ও জানতে পারবো। প্রকল্পের ব্যয়-সময় বৃদ্ধিসহ নানা বিষয়ে জানতে পারবো।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

স্বপ্নের পদ্মাসেতু এখন আর স্বপ্ন নয় বাস্তব

আপডেট সময় : ০৫:০৮:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

বি এম মনির হোসেন
স্টাফ রিপোর্টারঃ-

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে পদ্মাসেতুর মূল কাজ। স্বপ্নের এ সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। পদ্মা বহুমুখী সেতুর ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় জাজিরা প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ৯১ শতাংশ, মাওয়া প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ১০০ শতাংশ, সার্ভিস এরিয়া (২)-১০০ শতাংশ, মূল সেতু নির্মাণ কাজ ৮৫.৫০ শতাংশ এবং নদীশাসনের কাজ ৬৬ শতাংশ শেষ হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭৬.৫০ শতাংশ।

জানা যায়, পদ্মাসেতু প্রকল্পে বারবার ব্যয়-সময় বাড়ানোসহ নানা বিষয়ে চলমান নিবিড় পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে সরকার। কী কারণে সেতুর মেয়াদ-ব্যয় বাড়ানো হলো এ বিষয়ে নানা কারণও খুঁজে বের করা হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত চার মাসে এই মূল্যায়ন করা হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা যেমন অর্থায়নে বিলম্ব, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিলম্ব, ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা ও প্রকল্পের বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর কারণসহ অন্যান্য দিক বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সংশোধিত পদ্মাসেতু প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত চারবার সময় বাড়ানো হয়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের। এবার একধাপে সময় বাড়ছে দেড় বছর। অর্থাৎ, নতুন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে ২০২১ সালের জুন মাসে। আগে ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর সম্পন্ন হওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল।

প্রথমে ২০০৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। এরপর সময় বেড়ে দাঁড়ায় ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

আবারও ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পযর্ন্ত সময় বাড়ানো হয়। সবশেষ ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির সময় বাড়ানো হচ্ছে। ২০০৭ সালে একনেকে ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়। ২০১১ সালে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি হয়ে যায়। ২০১৮ সালে বাড়তি যুক্ত হয় আরও ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পদ্মাসেতু বাস্তবায়নে ত্রুটি-বিচ্যুতি ও সফলতাসহ সেতুর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল বিষয়ে মূল্যায়ন করা হবে।

এজন্য বাসস্থান ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনসালটেন্টস লিমিটেড এবং আইআরজি ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস লিমিটেড নামক দুটি ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চার মাসে সেতুর সব বিষয়ে মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করতে ফার্ম দুটিকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিবিড় পরীবিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য প্রকল্পের পটভূমি উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে প্রাপ্ত ধারনার ভিত্তিতে কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে পদ্মাসেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্পের কাজটির সঙ্গে একাধিক দেশি-বিদেশি সংস্থা, এজেন্ট ও প্রতিষ্ঠান জড়িত। এজন্য তথ্য দলিলাদি প্রাপ্তির জন্য অনেকের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে। যা সময় সাপেক্ষ। কিন্তু সরকার দ্রুত সেতু শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা সার্বিক চিত্র পেতে চায়। এই জন্যই দুটি ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানায় সরকারের একমাত্র প্রকল্প তদারকি সংস্থা বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি)।

আইএমইডি সূত্র জানায়, বুধবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) নগরীরর শেরে বাংলানগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আইএমইডি-য়ে ফার্ম নিয়োগের বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

অাইএমইডি’র মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, পদ্মাসেতুর বিষয়ে একটা মিটিং হয়েছে। সেতুর সকল কাজ মনিটরিং করার জন্য। ফার্মের মাধ্যমে মনিটারিং করা হবে। ফার্ম দুটি সব সময় সেতু এলাকায় থেকে চার মাসের মধ্যে একটা প্রতিবেদন জমা দেবে। পদ্মাসেতু বাস্তবায়ন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব চিত্র উঠে আসবে।

‘এছাড়া পদ্মাসেতু বাস্তবায়নে কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি ও সফলতা-সবই উঠে আসবে। আমরা দেশবাসী কী ধরনের সুফল পাবো পদ্মাসেতু থেকে এসব বিষয়ও জানতে পারবো। প্রকল্পের ব্যয়-সময় বৃদ্ধিসহ নানা বিষয়ে জানতে পারবো।’