বিউটি সুপার মার্কেটের পিছু ছাড়ছে না সিটি কর্পোরেশন। শুক্রবার দুপুরে আবারও ভাঙা শুরু
- আপডেট সময় : ০৫:৪৯:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২০ ১৩৭ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেস্ক
বরিশালে নির্মাণাধীন বিউটি সুপার মার্কেটের পিছু ছাড়ছে না সিটি কর্পোরেশন। শুক্রবার দুপুরে আবারও ভাঙা শুরু করেছে। উচ্চ আদালত সুরহা না হওয়া পর্যন্ত ভবনটি নির্মাণ বা উচ্ছেদ না করার বরিশালে আদেশ আসার এক দিনের মাথায় সিটি কর্পোরেশনের একদল কর্মী শুক্রবার আচমকা ভাঙচুর শুরু করে। এসময় সেখানে যাতায়াতের দুই প্রান্তের প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়
উল্লেখ- শহরের দক্ষিণ চকবাজার এলাকার ঐতিহ্যবাহী অধুনালুপ্ত বিউটি সিনেমা হলের স্থানে একই নামকরণে বছর দুয়েক পূর্বে একটি বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণ শুরু করে। একাধিক বক্তির অর্থায়নে মার্কেটটির অংশিদার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ড্রাগ সমিতির নেতা কাজী মফিজুল ইসলাম কামাল অন্যতম। বিরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও কাজী মফিজুল ইসলাম কামাল সম্পর্কে আপন মামা ভাগনে। সাদিক আব্দুল্লাহ মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ওই বহুতলা বিশিষ্ট ভবনটির সম্পত্তির বৈধতা এবং নকশা বহির্ভুত বলে দাবি করে। এনিয়ে মার্কেট মালিক পক্ষ ও সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে টানাপোড়ন দেখা দেয়। মেয়র দায়িত্বভার নেওয়ার পর এক আদেশে ভবনটি নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। এভাবে এক বছর অতিক্রান্ত হয়।
মার্কেট কর্তৃপক্ষের অনুযোগ- চলতি মাসে হঠাৎ করে কোন নোটিশ ছাড়াই নির্মাণাধীন মার্কেটের অর্ধাংশ ভেঙে গুড়িয়ে দেয় এবং পুনরায় কোনরুপ কাজ না করার মৌখিক আদেশ দিয়ে যায়। সিটি কর্পোরেশনের একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী এই অভিযানে অংশ নেন। মার্কেট মালিক পক্ষের একজন কাজী কামাল সিটি মেয়রের মামা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নগরীতে আলোচনার সৃষ্টি করে। পাশাপাশি নানা প্রশ্নও দেখা দেয়।
জানা গেছে- মার্কেটের অংশিদাররা সমস্যার সুরহা টানতে সিটি কর্পোরেশনের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তির নানাভাবে যোগাযোগ নমনীয় করতে ব্যর্থ হন। এর পরেই গত সপ্তাহে তারা উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করেন।
সূত্র জানায়- গত মঙ্গলবার উচ্চ আদালতের দুই বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও মো. মাসুদ হাসান তালুকদারের দ্বৈত বেঞ্চ এক আদেশে মার্কেটটি ভেঙে ফেলার যৌক্তিক কারণ এবং কেন বৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একই সাথে সাতদিনের সময়সীমা বেধে দিয়ে কৈফিয়তের জবাব চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এবং বরিশাল সিটি মেয়রসহ কর্পোরেশনের ৫ কর্মকর্তাকে শোকজ করেন। গত বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের এই আদেশ বরিশালে এসে পৌছায় বলে জানা গেছে। এসময় বরিশাল সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ রাজধানী ঢাকা সিটি নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়ে অবস্থান করছেন।
কাজী মফিজুল ইসলাম আজকের ক্রাইম-নিউজ কে জানান- রুল জারির বিষয়টি লিখিত ও মৌখিকভাবে সিটি কর্পোরেশন অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু এর একদিন না যেতেই সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার দুপুরে সিটি কর্পোরেশনের একটি টিম পুনরায় মার্কেটটির বাকি অংশ ভাঙতে উদ্যোগ নেয়। ছুটির দিনে কীভাবে সিটি কর্পোরেশন উচ্ছেদ অভিযান এবং উচ্চ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে ভবন ভাঙার কাজ শুরু করলো তা প্রশ্নবিদ্ধ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেনের সাথে। তার মন্তব্য আরও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। তিনি জানান- মার্কেট ভাঙার বিষয়টি তার যেমন জানা নেই, তেমন উচ্চ আদালতের আদেশ সম্পর্কিত বিষয়টিও তিনি ওয়াকিবহাল নন। নিজেই প্রশ্ন রাখলেন শুক্রবার ছুটির দিনে কীভাবে বা কারা এই উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নিল তা বোধগম্য নয়।
সিটি মেয়র অথবা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কারও কোন আদেশ নেই, তাহলে কোন ভৌতিক নির্দেশে এই ভাঙার কাজ শুরু হল তা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় নানা কথা উঠে আসছে।
সুতরাং বিউটি সুপার মার্কেট নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তির ইচ্ছা অনিচ্ছার বিষয়টি এখানে নিহিত রয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না, এমন মন্তব্য মার্কেট কর্তৃপক্ষের।’


























