সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ, রাজাপুরে মাদকের আখড়ায় অভিযান: ইয়াবাসহ আটক ২, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ঝালকাঠিতে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স খাদ্যে পড়ে আহত ১, পা ভাঙল রোগীর দামুড়হুদার মদনায় বিস্কুট ফ্যাক্টারিতে আগুন ক্ষতি প্রায় ৮ লক্ষাধিক ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা।

কারামুক্ত হয়েই সাংবাদিকদের দেখে নেবে রিফাত হত্যা মামলার আসামিরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২০ ১৯৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টার

বহুল আলোচিত বরগুনা রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ধার্য তারিখে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আসামিদের হুমকির শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা। জেল থেকে বেরিয়েই রাজপথে সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামি রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজী, কামরুল ইসলাম সাইমুন এবং আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকনসহ কয়েকজন।

এ সময় তারা সাংবাদিকদের অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করার পাশাপাশি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন এবং প্রিজনভ্যানের ভিতর থেকে সাংবাদিকদের জুতা দেখান। আজ রোববার (২৬ জানুয়ারি) বেলা পৌনে বারোটার দিকে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত থাকা আসামিদের স্বজনরা তাদের ছেলেদের নিবৃত্ত না করে হাসাহাসি করছিলেন। একই সময় আদালত প্রাঙ্গণে ধূমপান করছিলেন এ মামলার প্রধান আসামি রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজী বাবা বাবা দুলাল ফরাজী।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আসামিদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ বরগুনার সাংবাদিক সমাজ। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত বরগুনার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্বপালনরত দেশের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমের কর্মীরা বলেন, আজ রিফাত হত্যা মামলার ২২, ২৩ এবং ২৪ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এছাড়াও এ মামলার অন্যতম আসামি নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন বাতিল আবেদনের শুনানির দিনও ধার্য ছিল। এ উপলক্ষে প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন।

বেলা পৌনে বারোটার দিকে আদালতের কার্যক্রম শেষে কারাগারে থাকা এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আট আসামিকে আদালত থেকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন শুরু করলেন প্রাপ্তবয়স্ক প্রধান আসামি রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজী সাংবাদিকদের বলেন “আমাদের বোম মেরে উড়িয়ে দেন।”

এরপর রিফাত ফরাজী, আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন এবং কামরুল ইসলাম সাইমুনসহ আরো কয়েকজন রিফাত হত্যা মামলার আসামি সাংবাদিকদের অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন। এর একপর্যায়ে প্রিজন ভ্যানের ভেতর থেকে জুতা খুলে সাংবাদিকদের দেখান রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজী।

আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালন করা একাত্তর টেলিভিশনের বরগুনা প্রতিনিধি ইমরান হোসাইন টিটু বলেন, আমিসহ অন্য গণমাধ্যমের কর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময় রিফাত হত্যা মামলার আসামিরা জেল থেকে বেরিয়েই আমাদের রাজপথে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করার পাশাপাশি আমাদের জুতা দেখান। আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিয়েই এখন শংকিত।

যমুনা টেলিভিশনের বরগুনা প্রতিনিধি ফেরদৌস খান ইমন বলেন, “আসামিরা হুমকি দেয়ায় পাশাপাশি যখন আমাদের গালমন্দ আর অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করছিলেন তখন তাদের স্বজনরা কেউ তাদের নিবৃত্ত করতে কোন কথা বলেনি। আসামিদের স্বজনরা তখন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য দেখছিলেন আর হাসছিলেন। আদালত প্রাঙ্গণে সিগারেট ফুকতে ফুকতে এ দৃশ্য দেখছেন রিফাত ফরাজীর বাবা দুলাল ফরাজীও। তার ছেলেকে নিবৃত্ত করতে তিনিও কোন কথা বলেননি।

এদিকে সাংবাদিকদের হুমকি প্রদানের সঙ্গে আসামিদের এমন অশোভনীয় আচরণের সময় উপস্থিত ছিলেন অপরিচিত এক নারী। তখন তিনি বলেন, এরা কেমন ছেলে? একটা ছেলেকে খুন করে জেলে গেছে, আর এখন আবার সাংবাদিকদের গালি-গালাজ করছে, হুমকি দিচ্ছে। এদের কি কোন ডর ভয় নেই?”

এ বিষয়ে দীপ্ত টেলিভিশনের বরগুনা প্রতিনিধি শাহ আলী বলেন, “একটি আলোচিত নির্মম হত্যাকাণ্ডের তথ্য দেশবাসীকে জানাতে গিয়ে আমরা এখন হুমকির সম্মুখীন। আমরা তো কোন অপরাধ করিনি। আমরা আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করছি মাত্র। যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।

এ বিষয়ে বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি সঞ্জীব দাস বলেন, রিফাত হত্যা মামলার আসামিদের দ্বারা সাংবাদিকদের হুমকি হচ্ছে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি অশনি সংকেত। আমাদের প্রত্যাশা রিফাত হত্যা মামলার ধার্য তারিখগুলোতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় কোর্ট ইনস্পেক্টর আরো দায়িত্বশীল ভাবে তার দায়িত্ব পালন করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কারামুক্ত হয়েই সাংবাদিকদের দেখে নেবে রিফাত হত্যা মামলার আসামিরা

আপডেট সময় : ১২:২১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার

বহুল আলোচিত বরগুনা রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ধার্য তারিখে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আসামিদের হুমকির শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা। জেল থেকে বেরিয়েই রাজপথে সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামি রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজী, কামরুল ইসলাম সাইমুন এবং আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকনসহ কয়েকজন।

এ সময় তারা সাংবাদিকদের অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করার পাশাপাশি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন এবং প্রিজনভ্যানের ভিতর থেকে সাংবাদিকদের জুতা দেখান। আজ রোববার (২৬ জানুয়ারি) বেলা পৌনে বারোটার দিকে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত থাকা আসামিদের স্বজনরা তাদের ছেলেদের নিবৃত্ত না করে হাসাহাসি করছিলেন। একই সময় আদালত প্রাঙ্গণে ধূমপান করছিলেন এ মামলার প্রধান আসামি রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজী বাবা বাবা দুলাল ফরাজী।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আসামিদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ বরগুনার সাংবাদিক সমাজ। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত বরগুনার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্বপালনরত দেশের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমের কর্মীরা বলেন, আজ রিফাত হত্যা মামলার ২২, ২৩ এবং ২৪ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এছাড়াও এ মামলার অন্যতম আসামি নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন বাতিল আবেদনের শুনানির দিনও ধার্য ছিল। এ উপলক্ষে প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন।

বেলা পৌনে বারোটার দিকে আদালতের কার্যক্রম শেষে কারাগারে থাকা এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আট আসামিকে আদালত থেকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন শুরু করলেন প্রাপ্তবয়স্ক প্রধান আসামি রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজী সাংবাদিকদের বলেন “আমাদের বোম মেরে উড়িয়ে দেন।”

এরপর রিফাত ফরাজী, আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন এবং কামরুল ইসলাম সাইমুনসহ আরো কয়েকজন রিফাত হত্যা মামলার আসামি সাংবাদিকদের অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন। এর একপর্যায়ে প্রিজন ভ্যানের ভেতর থেকে জুতা খুলে সাংবাদিকদের দেখান রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজী।

আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালন করা একাত্তর টেলিভিশনের বরগুনা প্রতিনিধি ইমরান হোসাইন টিটু বলেন, আমিসহ অন্য গণমাধ্যমের কর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময় রিফাত হত্যা মামলার আসামিরা জেল থেকে বেরিয়েই আমাদের রাজপথে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করার পাশাপাশি আমাদের জুতা দেখান। আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিয়েই এখন শংকিত।

যমুনা টেলিভিশনের বরগুনা প্রতিনিধি ফেরদৌস খান ইমন বলেন, “আসামিরা হুমকি দেয়ায় পাশাপাশি যখন আমাদের গালমন্দ আর অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করছিলেন তখন তাদের স্বজনরা কেউ তাদের নিবৃত্ত করতে কোন কথা বলেনি। আসামিদের স্বজনরা তখন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য দেখছিলেন আর হাসছিলেন। আদালত প্রাঙ্গণে সিগারেট ফুকতে ফুকতে এ দৃশ্য দেখছেন রিফাত ফরাজীর বাবা দুলাল ফরাজীও। তার ছেলেকে নিবৃত্ত করতে তিনিও কোন কথা বলেননি।

এদিকে সাংবাদিকদের হুমকি প্রদানের সঙ্গে আসামিদের এমন অশোভনীয় আচরণের সময় উপস্থিত ছিলেন অপরিচিত এক নারী। তখন তিনি বলেন, এরা কেমন ছেলে? একটা ছেলেকে খুন করে জেলে গেছে, আর এখন আবার সাংবাদিকদের গালি-গালাজ করছে, হুমকি দিচ্ছে। এদের কি কোন ডর ভয় নেই?”

এ বিষয়ে দীপ্ত টেলিভিশনের বরগুনা প্রতিনিধি শাহ আলী বলেন, “একটি আলোচিত নির্মম হত্যাকাণ্ডের তথ্য দেশবাসীকে জানাতে গিয়ে আমরা এখন হুমকির সম্মুখীন। আমরা তো কোন অপরাধ করিনি। আমরা আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করছি মাত্র। যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।

এ বিষয়ে বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি সঞ্জীব দাস বলেন, রিফাত হত্যা মামলার আসামিদের দ্বারা সাংবাদিকদের হুমকি হচ্ছে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি অশনি সংকেত। আমাদের প্রত্যাশা রিফাত হত্যা মামলার ধার্য তারিখগুলোতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় কোর্ট ইনস্পেক্টর আরো দায়িত্বশীল ভাবে তার দায়িত্ব পালন করবেন।