সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ যুবদলের ৫ শতাধিক তাল বীজ রোপন ঘোড়াঘাটে ৪ পদজয়ী ও বৃত্তিপ্রাপ্ত ৫২ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা বিরামপুরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে র‍্যালী ও আলোচনা সভা‎‎ অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস উদযাপন, চালকদের সম্মাননা ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা চুয়াডাঙ্গায় ঝন্টু হত্যা মামলার ১৭ বছর পর দুজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড চুয়াডাঙ্গায় ঝন্টু হত্যা মামলার ১৭ বছর পর দুজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড বরিশালে ডেলটা লাইফ ইনসিওরেন্সের একক বীমার বিশেষ উন্নয়ন সভা অনুণ্ঠিত নানা আয়োজনে ঝালকাঠিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত ঝালকাঠি জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুরের বিরামপুরে দিনব্যাপী জব কেয়ার চাকুরী মেলা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বিআরটিএ চুয়াডাঙ্গা টাকা দিলে ২ দিনের মধ্যে লাইসেন্স। ধারাবাহিক নিউজ পর্ব ( ২ )

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২০ ২৯৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চুয়াডাঙ্গায় বিআরটিএ অফিস থেকে ফিরে ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি মোঃ মিনারুল ইসলাম ও মোঃ আমিনুল ইসলাম দামুড়হুদা বিশেষ প্রতিনিধি::-

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বিআরটিএ চুয়াডাঙ্গা সার্কেল অফিসে টাকা দিলে সব মিলে। মোটরযান আইনের কোন নিয়মনীতি এখানে মানা হয় না। দুই মাস পরে ডেলিভারী দেয়া শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা ছাড়াই মিলছে দুইদিনে।
দালাল উপ-দালালে ভরে গেছে বিআরটিএ চুয়াডাঙ্গা সার্কেল অফিস। ৩০/৩২ বছর বয়সী জনি নামের একযুবকই পুরো বিআরটিএ অফিসের নিয়ন্ত্রক। দালালের মাধ্যমে টাকা দিলেই মোটরযান আইন উপেক্ষা করে সব অনিয়মকে এখানে নিয়মে পরিণত করেছে অফিসের দুই জন কর্মকর্তা। একজন সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আতিয়ার রহমান অপরজন উচ্চমান সহকারী মোঃ রফিকুল ইসলাম। তবে দালাল হিসেবে চিহ্নিত লোকজনকে অফিসের প্রয়োজনে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আতিয়ার রহমান। বিভিন্ন অনিয়ম আর দুর্নীতির বিষয়ে মোটরযান মালিক শ্রমিক বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। অভিযোগে জানা গেছে সরকারী সেবামুলক প্রতিষ্টান বিআরটিএ চুয়াডাঙ্গা সার্কেল অফিস অনিয়ম দুর্নীতি আর ঘুষ বাণিজ্যের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন জমা দেয়ার সময় উচ্চমান সহকারী মোঃ রফিকুল ইসলাম গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩ শত টাকা হারে নেন। টাকা না দিলে আবেনটি সহকারী পরিচালকের কাছে পাঠান। আবার তিনি পাঠান জনির কাছে। এভাবে ৩ শত টাকার জন্য ঘুরতে হয় সপ্তাহের পর সপ্তাহ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মোটরযান শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার শ্রমিক বা অন্যান্য যানবাহনে যারা চালক আছেন তারা খুব কষ্ট রয়েছেন। লাইসেন্সের জন্য আবেদনের পর পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা সরকারি টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে ফিংগার প্রিন্টের জন্য ফাইল জমা দেন উচ্চমান সহকারী মোঃ রফিকুল ইসলাম এর কাছে। বিদেশ যাবার ক্ষেত্রে বিদেশী লাইসেন্সের জন্য জরুরী আবেদনের নামে ২০ হাজার টাকা নেয়া হয় আর ডেলিভারী দেন ১৫ দিন পর। অথচ মোটর যান আইনে জরুরী কোন লাইসেন্স ইস্যুর নিয়ম নেই। ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের পর জনির কাছে ১৫/২০ হাজার টাকা দিলে একদিনের মধ্যে লাইসেন্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দেয়ার অহরহ অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম আছে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স পেতে পরীক্ষার পর ২ মাস শিক্ষানবীশ কাল অতিবাহিত করতে হয়। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যে লাইসেন্স পর্যন্ত ব্যবস্থা করে দেয়া হয় এখানে। এতে করে অদক্ষ চালকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাশাপাশি বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রাণহানির ঘটনাও। দালাল জনির হাতে টাকা দিলেই অতিদ্রুত সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ডেলিভারী, লাইসেন্স রেন্যু করে দেন উচ্চমান সহকারী ও সহকারী পরিচালক। বিআরটিএ অফিসের ড্রাইভিং বোর্ডের সদস্য সচিব ও মোটরযান পরির্দশক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন শিক্ষানবিশ লাইসেন্স পেতে প্রথমে আবেদন জমা দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। উত্তীর্ণদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। মোটরযান আইন অনুসারে দুই মাস কমপক্ষে শিক্ষানবিশ কাল অতিক্রম করতে হয় এবং এরপর শিক্ষানবীশ লাইসেন্স সরবরাহ দেয়া হয়। এরপর ড্রাইভিং কম্পিটেন্সি টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে হয় প্রার্থীকে। এরপর টেস্ট বোর্ডের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স ইস্যু করে বিআরটিএ এখানে কোন অনিয়ম হয় না। ( চলবে )

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বিআরটিএ চুয়াডাঙ্গা টাকা দিলে ২ দিনের মধ্যে লাইসেন্স। ধারাবাহিক নিউজ পর্ব ( ২ )

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২০

চুয়াডাঙ্গায় বিআরটিএ অফিস থেকে ফিরে ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি মোঃ মিনারুল ইসলাম ও মোঃ আমিনুল ইসলাম দামুড়হুদা বিশেষ প্রতিনিধি::-

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বিআরটিএ চুয়াডাঙ্গা সার্কেল অফিসে টাকা দিলে সব মিলে। মোটরযান আইনের কোন নিয়মনীতি এখানে মানা হয় না। দুই মাস পরে ডেলিভারী দেয়া শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা ছাড়াই মিলছে দুইদিনে।
দালাল উপ-দালালে ভরে গেছে বিআরটিএ চুয়াডাঙ্গা সার্কেল অফিস। ৩০/৩২ বছর বয়সী জনি নামের একযুবকই পুরো বিআরটিএ অফিসের নিয়ন্ত্রক। দালালের মাধ্যমে টাকা দিলেই মোটরযান আইন উপেক্ষা করে সব অনিয়মকে এখানে নিয়মে পরিণত করেছে অফিসের দুই জন কর্মকর্তা। একজন সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আতিয়ার রহমান অপরজন উচ্চমান সহকারী মোঃ রফিকুল ইসলাম। তবে দালাল হিসেবে চিহ্নিত লোকজনকে অফিসের প্রয়োজনে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আতিয়ার রহমান। বিভিন্ন অনিয়ম আর দুর্নীতির বিষয়ে মোটরযান মালিক শ্রমিক বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। অভিযোগে জানা গেছে সরকারী সেবামুলক প্রতিষ্টান বিআরটিএ চুয়াডাঙ্গা সার্কেল অফিস অনিয়ম দুর্নীতি আর ঘুষ বাণিজ্যের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন জমা দেয়ার সময় উচ্চমান সহকারী মোঃ রফিকুল ইসলাম গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩ শত টাকা হারে নেন। টাকা না দিলে আবেনটি সহকারী পরিচালকের কাছে পাঠান। আবার তিনি পাঠান জনির কাছে। এভাবে ৩ শত টাকার জন্য ঘুরতে হয় সপ্তাহের পর সপ্তাহ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মোটরযান শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার শ্রমিক বা অন্যান্য যানবাহনে যারা চালক আছেন তারা খুব কষ্ট রয়েছেন। লাইসেন্সের জন্য আবেদনের পর পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা সরকারি টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে ফিংগার প্রিন্টের জন্য ফাইল জমা দেন উচ্চমান সহকারী মোঃ রফিকুল ইসলাম এর কাছে। বিদেশ যাবার ক্ষেত্রে বিদেশী লাইসেন্সের জন্য জরুরী আবেদনের নামে ২০ হাজার টাকা নেয়া হয় আর ডেলিভারী দেন ১৫ দিন পর। অথচ মোটর যান আইনে জরুরী কোন লাইসেন্স ইস্যুর নিয়ম নেই। ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের পর জনির কাছে ১৫/২০ হাজার টাকা দিলে একদিনের মধ্যে লাইসেন্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দেয়ার অহরহ অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম আছে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স পেতে পরীক্ষার পর ২ মাস শিক্ষানবীশ কাল অতিবাহিত করতে হয়। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যে লাইসেন্স পর্যন্ত ব্যবস্থা করে দেয়া হয় এখানে। এতে করে অদক্ষ চালকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাশাপাশি বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রাণহানির ঘটনাও। দালাল জনির হাতে টাকা দিলেই অতিদ্রুত সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ডেলিভারী, লাইসেন্স রেন্যু করে দেন উচ্চমান সহকারী ও সহকারী পরিচালক। বিআরটিএ অফিসের ড্রাইভিং বোর্ডের সদস্য সচিব ও মোটরযান পরির্দশক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন শিক্ষানবিশ লাইসেন্স পেতে প্রথমে আবেদন জমা দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। উত্তীর্ণদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। মোটরযান আইন অনুসারে দুই মাস কমপক্ষে শিক্ষানবিশ কাল অতিক্রম করতে হয় এবং এরপর শিক্ষানবীশ লাইসেন্স সরবরাহ দেয়া হয়। এরপর ড্রাইভিং কম্পিটেন্সি টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে হয় প্রার্থীকে। এরপর টেস্ট বোর্ডের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স ইস্যু করে বিআরটিএ এখানে কোন অনিয়ম হয় না। ( চলবে )