সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

দলবেঁধে ধর্ষণ চেষ্টাকালে হাতেনাতে আটক। আজকের ক্রাইম নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৮৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক::১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার। রাত আনুমানিক ৮টা। গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন টঙ্গী বাজার এলাকায় বসবাসরত ফুফাতো ভাই মো. জয়নাল মিয়া (৩২)-র সাথে দেখা করতে আসে দুই কিশোরী। তাঁদের একজনের বয়স ১৭, একজনের ১৮। টঙ্গী বাজার আসার পর তাঁরা জয়নাল মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পেলে তুরাগ নদীর পাশে তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। তখন তাঁদের একা দেখে সেখানে হাজির হয় মো.নাঈম (২২), মো. রাসেল, মো. শরীফসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জন। এ সময় তারা তাদের সাথে যাওয়ার জন্য দুই কিশোরীকে বলে এবং তাঁরা রাজি না-হওয়ায় তাঁদের চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে এবং প্রাণনাশের হুমকি দে

পরবর্তীতে অপরাধীরা দুই কিশোরীকে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন হাজীর মাজার বস্তিসংলগ্ন পিংকী গার্মেন্ট এর পেছনে দক্ষিণ পাশে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় ভিকটিম (১৮) বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে ছায়া তদন্তে নামে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ১ এর একটি বিশেষ তদন্তদল। ধর্ষণকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে তদন্তদলটি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং অভিযানের প্রস্তুতি নেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাত সাড়ে ১১টার সময় র‌্যাব ১ এর আভিযানিক দলটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন হাজীর মাজার বস্তিসংলগ্ন কবরস্থানের পাশে অভিযান চালিয়ে বর্ণিত ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত আসামি মো. শরীফ (২২) ও মো. মমিন মিয়া (২৪) কে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গতকাল ভিকটিম কিশোরী (১৮) ও তার ছোট বোন কিশোরী (১৭) দুজনকে আটক আসামি শরীফ ও মমিন এবং পলাতক সহযোগী নাঈম, রাসেল, আবুল হোসেন ও আরাফাত মিলে দলবেঁধে ধর্ষণ করে। এর আগে তারা দুই কিশোরীকে তুরাগ নদীর পাড় থেকে জোরপূর্বক নৌকায় তুলে টঙ্গী ইজতেমা মাঠের নির্জন জায়গায় নেয়। আসামিরা প্রথমে জোরপূর্বক ভিকটিমদ্বয়কে দেশীয় চোলাই মদ এবং মদের সাথে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট খাওয়ায়। পরবর্তীতে ভিকটিমদ্বয় যখন স্বাভাবিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে তখন সকল আসামি মিলে তাঁদের উপর্যুপরি জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় ভিকটিমদের চিৎকারে আশপাশের এলাকার লোকজন জড়ো হলে আসামিরা দুই ভিকটিমকে ঘটনাস্থলে ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

আটককৃতরা আরো জানায়, আসামি শরীফের টঙ্গী ইজতেমা মাঠের ১ নম্বর গেটের পাশে একটি মুদি দোকান আছে। সে দীর্ঘ ৮/৯ বছর যাবৎ সেখানে ব্যবসা করে। আসামি মমিন ৬/৭ বছর যাবৎ আব্দুল্লাহপুর মাছের আড়তে ব্যবসা করে। পলাতক আসামি নাঈম, রাসেল, আবুল হোসেন ও আরাফাত তাদের বন্ধু।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দলবেঁধে ধর্ষণ চেষ্টাকালে হাতেনাতে আটক। আজকের ক্রাইম নিউজ

আপডেট সময় : ০২:১১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক::১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার। রাত আনুমানিক ৮টা। গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন টঙ্গী বাজার এলাকায় বসবাসরত ফুফাতো ভাই মো. জয়নাল মিয়া (৩২)-র সাথে দেখা করতে আসে দুই কিশোরী। তাঁদের একজনের বয়স ১৭, একজনের ১৮। টঙ্গী বাজার আসার পর তাঁরা জয়নাল মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পেলে তুরাগ নদীর পাশে তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। তখন তাঁদের একা দেখে সেখানে হাজির হয় মো.নাঈম (২২), মো. রাসেল, মো. শরীফসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জন। এ সময় তারা তাদের সাথে যাওয়ার জন্য দুই কিশোরীকে বলে এবং তাঁরা রাজি না-হওয়ায় তাঁদের চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে এবং প্রাণনাশের হুমকি দে

পরবর্তীতে অপরাধীরা দুই কিশোরীকে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন হাজীর মাজার বস্তিসংলগ্ন পিংকী গার্মেন্ট এর পেছনে দক্ষিণ পাশে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় ভিকটিম (১৮) বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে ছায়া তদন্তে নামে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ১ এর একটি বিশেষ তদন্তদল। ধর্ষণকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে তদন্তদলটি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং অভিযানের প্রস্তুতি নেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাত সাড়ে ১১টার সময় র‌্যাব ১ এর আভিযানিক দলটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন হাজীর মাজার বস্তিসংলগ্ন কবরস্থানের পাশে অভিযান চালিয়ে বর্ণিত ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত আসামি মো. শরীফ (২২) ও মো. মমিন মিয়া (২৪) কে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গতকাল ভিকটিম কিশোরী (১৮) ও তার ছোট বোন কিশোরী (১৭) দুজনকে আটক আসামি শরীফ ও মমিন এবং পলাতক সহযোগী নাঈম, রাসেল, আবুল হোসেন ও আরাফাত মিলে দলবেঁধে ধর্ষণ করে। এর আগে তারা দুই কিশোরীকে তুরাগ নদীর পাড় থেকে জোরপূর্বক নৌকায় তুলে টঙ্গী ইজতেমা মাঠের নির্জন জায়গায় নেয়। আসামিরা প্রথমে জোরপূর্বক ভিকটিমদ্বয়কে দেশীয় চোলাই মদ এবং মদের সাথে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট খাওয়ায়। পরবর্তীতে ভিকটিমদ্বয় যখন স্বাভাবিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে তখন সকল আসামি মিলে তাঁদের উপর্যুপরি জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় ভিকটিমদের চিৎকারে আশপাশের এলাকার লোকজন জড়ো হলে আসামিরা দুই ভিকটিমকে ঘটনাস্থলে ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

আটককৃতরা আরো জানায়, আসামি শরীফের টঙ্গী ইজতেমা মাঠের ১ নম্বর গেটের পাশে একটি মুদি দোকান আছে। সে দীর্ঘ ৮/৯ বছর যাবৎ সেখানে ব্যবসা করে। আসামি মমিন ৬/৭ বছর যাবৎ আব্দুল্লাহপুর মাছের আড়তে ব্যবসা করে। পলাতক আসামি নাঈম, রাসেল, আবুল হোসেন ও আরাফাত তাদের বন্ধু।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানা গেছে।