সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক। ঘোড়াঘাটে রাঘব, বোয়ালদের বাদ দিয়ে অভিযোগ গঠন, পৌর বিএনপির মানব বন্ধন গৌরনদীতে স্কুলের টিফিনের রুটিতে ব্লেড কান্ডে তদন্ত কমিটি গঠন আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব কেদারপুর ইউনিয়ন গঠনের অঙ্গীকার পারভেজ মৃধার। বানারীপাড়ায় বিশ্ব নবীকে নিয়ে কটুক্তি করায় যুবককে জুতার মালা পড়িয়ে ঘুরানো হলো

চরমোনাই পীরের ছেলেসহ 5 জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০১৯ ২৪৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এমএলএম কোম্পানির নামে গ্রাহকদের প্রায় ৩৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ফাঁসলেন চরমোনাইয়ের পীরের ছেলেসহ ৫ জন। তাদের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত শেষে এই বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া তাদেরকে আসামি করে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার প্রধান কার্যালয়ে বৈঠকে ওই চার্জশিট অনুমোদন দেয় কমিশন। তাই অল্প কয়েকদিনের মধ্যে চার্জশিট আদালতে ও সংশ্লিষ্ট থানায় দাখিল করবেন দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মালটিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি এইমওয়ে করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও চরমোনাইয়ের মরহুম পীরের ছেলে সাইয়েদ রিদওয়ান বিন ইসহাকসহ চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- এইমওয়ে করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও আলোর দিশারী ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি লিমিটেডের সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, এইমওয়ের পরিচালক (অর্থ) ও আলোর দিশারী ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি লিমিটেডের যুগ্ম-সম্পাদক মো. মশিউর রহমান এবং এইমওয়ের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জি এম সালাউদ্দিন।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ঢাকাসহ দেশব্যাপী তৎপর ছিল এইমওয়ে করপোরেশন লিমিটেড। প্রতিদিন চল্লিশ হাজার থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের অভাবনীয় প্রস্তাব প্রচার করে সিলভার, প্লাটিনাম, গোল্ড ও ডায়মন্ডের নামে কয়েক লাখ অ্যাকাউন্ট হোল্ডার সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি। অ্যাকাউন্ট হোল্ডাররা প্রতারিত/ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে মাথাপিছু পাঁচ হাজার থেকে ত্রিশ লাখ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করেন। আর এসব টাকা জোগাড় করতে গ্রাহকদের অনেকেই তাদের মূল্যবান সম্পদ বিক্রি করেন বলেও দুদকের তদন্তে পাওয়া গেছে। এছাড়াও তারা আলোর দিশারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামের অপর একটি প্রতিষ্ঠানের ৪০ হাজার সদস্যদের হিসাব থেকেও লাভজনক বিনিয়োগের কথা বলে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

আসামিরা প্রায় ৯ কোটি ২৪ লাখ ৫২ হাজার ৫৮৯ টাকা স্থানান্তরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। এছাড়া কথিত হারবাল পণ্য বিপণন করে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্র্যাক ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় জমা এবং পরবর্তী সময়ে তা নিজেদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছেন। পরে তারা আরও ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৩৬ টাকা আত্মসাৎ করেন এইমওয়ে নামক প্রতিষ্ঠান থেকে। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩২ কোটি ৭০ লাখ ৮০ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে আত্মসাৎ করে বলে দুদকের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

দুদক সূত্র আরও জানায়, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধানে নামে দুদক। এরপর অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করে দুদক। উপ-পরিচালক মোজাহার আলী সরদার বাদী হয়ে মামলাটি (মামলা নং- ২০) দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে উপপরিচালক মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক শেখ আব্দুস ছালামের প্রায় দেড় বছর তদন্ত শেষে মামলার বিষয়টি প্রমানিত হওয়ায় তাদেরকে আসামি করে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। খুব শিগগিরই মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন- ২০০৯ এর ৪(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন- ২০১২ এর ৪(২) (৩) ধারায় মামলাটির চার্জশিটটি মহামান্য আদালতে ও সংশ্লিষ্ট থানায় দাখিল করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চরমোনাই পীরের ছেলেসহ 5 জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

আপডেট সময় : ১২:২১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০১৯

এমএলএম কোম্পানির নামে গ্রাহকদের প্রায় ৩৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ফাঁসলেন চরমোনাইয়ের পীরের ছেলেসহ ৫ জন। তাদের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত শেষে এই বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া তাদেরকে আসামি করে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার প্রধান কার্যালয়ে বৈঠকে ওই চার্জশিট অনুমোদন দেয় কমিশন। তাই অল্প কয়েকদিনের মধ্যে চার্জশিট আদালতে ও সংশ্লিষ্ট থানায় দাখিল করবেন দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মালটিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি এইমওয়ে করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও চরমোনাইয়ের মরহুম পীরের ছেলে সাইয়েদ রিদওয়ান বিন ইসহাকসহ চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- এইমওয়ে করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও আলোর দিশারী ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি লিমিটেডের সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, এইমওয়ের পরিচালক (অর্থ) ও আলোর দিশারী ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি লিমিটেডের যুগ্ম-সম্পাদক মো. মশিউর রহমান এবং এইমওয়ের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জি এম সালাউদ্দিন।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ঢাকাসহ দেশব্যাপী তৎপর ছিল এইমওয়ে করপোরেশন লিমিটেড। প্রতিদিন চল্লিশ হাজার থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের অভাবনীয় প্রস্তাব প্রচার করে সিলভার, প্লাটিনাম, গোল্ড ও ডায়মন্ডের নামে কয়েক লাখ অ্যাকাউন্ট হোল্ডার সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি। অ্যাকাউন্ট হোল্ডাররা প্রতারিত/ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে মাথাপিছু পাঁচ হাজার থেকে ত্রিশ লাখ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করেন। আর এসব টাকা জোগাড় করতে গ্রাহকদের অনেকেই তাদের মূল্যবান সম্পদ বিক্রি করেন বলেও দুদকের তদন্তে পাওয়া গেছে। এছাড়াও তারা আলোর দিশারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামের অপর একটি প্রতিষ্ঠানের ৪০ হাজার সদস্যদের হিসাব থেকেও লাভজনক বিনিয়োগের কথা বলে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

আসামিরা প্রায় ৯ কোটি ২৪ লাখ ৫২ হাজার ৫৮৯ টাকা স্থানান্তরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। এছাড়া কথিত হারবাল পণ্য বিপণন করে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্র্যাক ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় জমা এবং পরবর্তী সময়ে তা নিজেদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছেন। পরে তারা আরও ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৩৬ টাকা আত্মসাৎ করেন এইমওয়ে নামক প্রতিষ্ঠান থেকে। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩২ কোটি ৭০ লাখ ৮০ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে আত্মসাৎ করে বলে দুদকের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

দুদক সূত্র আরও জানায়, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধানে নামে দুদক। এরপর অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করে দুদক। উপ-পরিচালক মোজাহার আলী সরদার বাদী হয়ে মামলাটি (মামলা নং- ২০) দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে উপপরিচালক মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক শেখ আব্দুস ছালামের প্রায় দেড় বছর তদন্ত শেষে মামলার বিষয়টি প্রমানিত হওয়ায় তাদেরকে আসামি করে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। খুব শিগগিরই মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন- ২০০৯ এর ৪(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন- ২০১২ এর ৪(২) (৩) ধারায় মামলাটির চার্জশিটটি মহামান্য আদালতে ও সংশ্লিষ্ট থানায় দাখিল করা হবে।