সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প ৫২ নম্বর রহমতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছির আরাফাত নলছিটিতে ২ ভূমি কর্মকর্তা শোকজ, কানুনগো বদলি গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার দুইজন গ্রেপ্তার, মানববন্ধন ঝালকাঠিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নলছিটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫টি দোকানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ: নির্বাচিত হলেন আলোচিত অন্তর বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা

প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ: উন্নত ব্র্যান্ডের ব্লেড উৎপাদন করবে সরকার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০২:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৩৮৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এতদিন নিম্নমানের ব্লেড উৎপাদন করলেও এবার উন্নত মানের ব্লেড তৈরি করবে সরকার। এজন্য ‘ডিসপোজাল রেজর ব্লেড প্লান্ট স্থাপন এবং বিদ্যমান মেশিনারিজ আধুনিকায়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন (বিএসইসি)।

এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জিলেট বা শিক ব্র্যান্ডের মতো উন্নত ব্লেড তৈরি করা হবে। গত ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির দ্বিতীয় সভা। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম। গত ২৪ সেপ্টেম্বর জারি করা স্টিয়ারিং কমিটির সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএসইসির অতিরিক্ত সচিব ও পরিচালক (বাণিজ্যিক) নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, দেশে ব্লেডের বাজার অনেক ভালো। এতদিন সরকারিভাবে শুধু সোর্ড ব্লেড তৈরি করা হতো। তবে এটি খুব বেশি উন্নত মানের ছিল না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রামে এবং হাসপাতালগুলোতে ব্যবহার হতো। এখন উন্নতমানের ব্লেড তৈরি হলে সরকারি ব্র্যান্ডকে কাজে লাগিয়ে বাজারে অবস্থান তৈরি করা সহজ হবে। তাছাড়া বর্তমান ব্লেডটিকেও উন্নত করা হবে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটিকে ডিসপোজাল রেজর ব্লেড অ্যাসেমব্লিং নতুন প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

এর মাধ্যমে দেশের শিল্পায়নে অবদান রাখা, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা এবং প্রায় ৩৪ বছরের বিদ্যমান পুরনো মেশিনারিজ আধুনিকায়নের মাধ্যমে কারখানার উৎপাদিত পণ্যের উৎপাদন ব্যয় ও অপচয় কমানো এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে লাভজনকভাবে পরিচালনা করার লক্ষ্য রয়েছে। সেই সঙ্গে বাজারে ব্লেডের মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করার জন্যই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্টিয়ারিং কমিটির সভায় প্রকল্প পরিচালক জানান, এ প্রকল্পের মূলত দুটি কার্যক্রম রয়েছে।

একটি হচ্ছে ৫ তলাবিশিষ্ট একটি অনাবাসিক ভবন নির্মাণ ও পুরনো কারখানা ভবন মেরামত এবং অন্যটি হচ্ছে যন্ত্রপাতি আমদানির মাধ্যমে সেগুলো স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় নিয়োগ করা পরামর্শক ইতিমধ্যেই প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এছাড়া পুরনো যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র যথাযথভাবে পাওয়া গেলে আগামী ৪ মাসের মধ্যে পুরনো যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, নতুন স্থাপিতব্য যন্ত্রপাতি স্পেশিফিকেশন প্রণয়নের জন্য বিএসইসি এবং ব্লেড ফ্যাক্টরির মোট চারজন কর্মকর্তা ইংল্যান্ড এবং জার্মানির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। এ পরিদর্শনের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন যন্ত্রপাতির স্পেসিফিকেশন প্রণয়ন করা হবে। বিএসইসি’র প্রতিনিধি সভায় জানান, জিলেট অথবা শিক ব্র্যান্ডের অনুরূপ ব্লেড প্রস্তুতের উপযোগী যন্ত্রপাতি সংগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিদর্শন সমাপ্তির দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে দাখিল ও তদানুযায়ী যন্ত্রপাতির আহ্বান নিশ্চিত করতে সভায় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) কয়েকটি খাতে কোড ভুল হয়েছে। কোড ভুলের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন বিঘ্নিত হবে। তাই কোড সংশোধনের জন্য ইতিমধ্যেই মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় দ্রুত কোড সংশোধনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন শিল্প সচিব। এছাড়া আরও জানানো হয়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
প্রথম কিস্তিতে ২৯ লাখ টাকা অবমুক্ত করা হয়েছে। গত আগস্ট মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৯ লাখ ৫১ হাজার টাকা। এ সময় এডিপিতে দেয়া বরাদ্দ অর্থের শতভাগ ব্যয় নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, প্রকল্পটির সঠিক বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রসের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে পুরনো যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনে আহ্বান করা দরপত্র যথাযথ মূল্যায়ন করে কার্যাদেশ প্রদান করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ: উন্নত ব্র্যান্ডের ব্লেড উৎপাদন করবে সরকার

আপডেট সময় : ০৭:০২:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

এতদিন নিম্নমানের ব্লেড উৎপাদন করলেও এবার উন্নত মানের ব্লেড তৈরি করবে সরকার। এজন্য ‘ডিসপোজাল রেজর ব্লেড প্লান্ট স্থাপন এবং বিদ্যমান মেশিনারিজ আধুনিকায়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন (বিএসইসি)।

এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জিলেট বা শিক ব্র্যান্ডের মতো উন্নত ব্লেড তৈরি করা হবে। গত ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির দ্বিতীয় সভা। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম। গত ২৪ সেপ্টেম্বর জারি করা স্টিয়ারিং কমিটির সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএসইসির অতিরিক্ত সচিব ও পরিচালক (বাণিজ্যিক) নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, দেশে ব্লেডের বাজার অনেক ভালো। এতদিন সরকারিভাবে শুধু সোর্ড ব্লেড তৈরি করা হতো। তবে এটি খুব বেশি উন্নত মানের ছিল না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রামে এবং হাসপাতালগুলোতে ব্যবহার হতো। এখন উন্নতমানের ব্লেড তৈরি হলে সরকারি ব্র্যান্ডকে কাজে লাগিয়ে বাজারে অবস্থান তৈরি করা সহজ হবে। তাছাড়া বর্তমান ব্লেডটিকেও উন্নত করা হবে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটিকে ডিসপোজাল রেজর ব্লেড অ্যাসেমব্লিং নতুন প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

এর মাধ্যমে দেশের শিল্পায়নে অবদান রাখা, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা এবং প্রায় ৩৪ বছরের বিদ্যমান পুরনো মেশিনারিজ আধুনিকায়নের মাধ্যমে কারখানার উৎপাদিত পণ্যের উৎপাদন ব্যয় ও অপচয় কমানো এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে লাভজনকভাবে পরিচালনা করার লক্ষ্য রয়েছে। সেই সঙ্গে বাজারে ব্লেডের মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করার জন্যই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্টিয়ারিং কমিটির সভায় প্রকল্প পরিচালক জানান, এ প্রকল্পের মূলত দুটি কার্যক্রম রয়েছে।

একটি হচ্ছে ৫ তলাবিশিষ্ট একটি অনাবাসিক ভবন নির্মাণ ও পুরনো কারখানা ভবন মেরামত এবং অন্যটি হচ্ছে যন্ত্রপাতি আমদানির মাধ্যমে সেগুলো স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় নিয়োগ করা পরামর্শক ইতিমধ্যেই প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এছাড়া পুরনো যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র যথাযথভাবে পাওয়া গেলে আগামী ৪ মাসের মধ্যে পুরনো যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, নতুন স্থাপিতব্য যন্ত্রপাতি স্পেশিফিকেশন প্রণয়নের জন্য বিএসইসি এবং ব্লেড ফ্যাক্টরির মোট চারজন কর্মকর্তা ইংল্যান্ড এবং জার্মানির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। এ পরিদর্শনের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন যন্ত্রপাতির স্পেসিফিকেশন প্রণয়ন করা হবে। বিএসইসি’র প্রতিনিধি সভায় জানান, জিলেট অথবা শিক ব্র্যান্ডের অনুরূপ ব্লেড প্রস্তুতের উপযোগী যন্ত্রপাতি সংগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিদর্শন সমাপ্তির দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে দাখিল ও তদানুযায়ী যন্ত্রপাতির আহ্বান নিশ্চিত করতে সভায় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) কয়েকটি খাতে কোড ভুল হয়েছে। কোড ভুলের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন বিঘ্নিত হবে। তাই কোড সংশোধনের জন্য ইতিমধ্যেই মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় দ্রুত কোড সংশোধনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন শিল্প সচিব। এছাড়া আরও জানানো হয়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
প্রথম কিস্তিতে ২৯ লাখ টাকা অবমুক্ত করা হয়েছে। গত আগস্ট মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৯ লাখ ৫১ হাজার টাকা। এ সময় এডিপিতে দেয়া বরাদ্দ অর্থের শতভাগ ব্যয় নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, প্রকল্পটির সঠিক বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রসের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে পুরনো যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনে আহ্বান করা দরপত্র যথাযথ মূল্যায়ন করে কার্যাদেশ প্রদান করতে হবে।