সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প ৫২ নম্বর রহমতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছির আরাফাত নলছিটিতে ২ ভূমি কর্মকর্তা শোকজ, কানুনগো বদলি গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার দুইজন গ্রেপ্তার, মানববন্ধন ঝালকাঠিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নলছিটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫টি দোকানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ: নির্বাচিত হলেন আলোচিত অন্তর বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা

শিক্ষকের গলায় জুতার মালা: চলছে প্রতিবাদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুন ২০২২ ১০৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স
নড়াইলে এক কলেজ অধ্যক্ষকে পুলিশের সামনে গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনায় ক্ষোভ চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

প্রতিবাদকারীদের প্রশ্ন, পুলিশের সামনে কী করে একজন শিক্ষকের গলায় জুতার মালা পরানো হলো?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ছে রাজপথেও।

আগামী সোমবার (২৭ জুন) বিকেলে ঢাকার শাহবাগে এ ঘটনায় একটি প্রতিবাদ সমাবেশ ডাকা হয়েছে।
সেই সমাবেশের সংগঠক রবীন আহসান বলেন, শিক্ষক নির্যাতনের ঘটনায় সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে। ওই ঘটনায় শিক্ষকের কোনো ভূমিকাই নেই। উনাকে না বাঁচিয়ে পুলিশ তাকে বের করেছে। প্রশাসন যারা চালায় তারা কী চাইছে?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিক আরিফুজ্জামান তুহিন লিখেন, এই দেশে হিন্দুরা থাকতে চাইলে জিজিয়া কর দেন। আর হাতে হলুদ ব্যান্ড পরা শুরু করেন। সংখ্যালঘুর স্বাধীনতা একটা কথার কথা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও লিখেন, শিক্ষার্থীদের কাছে এমন অপমান সহ্য করতে হয়-তাহলে সাধারণ শিক্ষার দরকার নেই। এই জাতির জন্য বিজ্ঞান, মেডিকেল সায়েন্স শেখার দরকার নেই। অর্ধেক নারী ঘরে থাক, যেমনটি আফগানিস্তানে আছে। বাংলাদেশ এই অগ্যস্ত যাত্রার দিকেই আছে।

কলেজ অধ্যক্ষকে আটক করা প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে নড়াইল সদর থানার ওসি মোহাম্মদ শওকত কবীর বলেন, কলেজ অধ্যক্ষ কোনো ধর্ম অবমাননা করেননি। তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার কথাও ঠিক নয়। সেদিন তাকে নিরাপদে বের করা হয়েছিল। যেহেতু তিনি অপরাধ করেননি, তার বিরুদ্ধে মামলা করারও বিষয় নেই।

পুলিশের সামনে জুতার মালা পরানোর ঘটনা অস্বীকার করে তিনি বলেন, জুতার মালা পরানোর কোনো ঘটনা আমি দেখিনি। সেরকম কিছু আমার জানা নেই।

ওই শিক্ষকের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশ্ন করলে ওসি বলেন, উনি আমাদের এরকম কিছু বলেননি, বললে নিশ্চয়ই নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আটক ছাত্রকে গ্রেফতার করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়ে ওসি বলেন, সে এখন হাজতে আছে। এ নিয়ে তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য সমালোচনায় থাকা ভারতের বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার ছবি দিয়ে ফেসবুকে নড়াইলের কলেজের এক ছাত্র পোস্ট করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন নড়াইলের ওই কলেজের ছাত্র পোস্ট দেওয়ার পরদিন কলেজে গেলে কিছু ছাত্র তাকে সেটি মুছে ফেলতে বলেন।

ওই সময় ‘অধ্যক্ষ ওই ছাত্রের পক্ষ নিয়েছেন’ এমন কথা রটানো হলে উত্তেজনা তৈরি হয়। অধ্যক্ষ ও দুজন শিক্ষকের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে তাদেরও সংঘর্ষ বাঁধে।

ওই সময় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে কলেজের ছাত্র ও স্থানীয়রা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন। ওই ঘটনার কিছু ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে আসে, যাতে পুলিশের উপস্থিতিও দেখা যায়। এ ঘটনায় পরে পুলিশ ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া ওই যুবককে গ্রেফতার করে।

এই ঘটনার পর থেকে ওই অধ্যক্ষ কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না। জানা গেছে, ওই শিক্ষক আতঙ্কে বাড়িতে থাকছেন না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শিক্ষকের গলায় জুতার মালা: চলছে প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুন ২০২২

আজকের ক্রাইম ডেক্স
নড়াইলে এক কলেজ অধ্যক্ষকে পুলিশের সামনে গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনায় ক্ষোভ চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

প্রতিবাদকারীদের প্রশ্ন, পুলিশের সামনে কী করে একজন শিক্ষকের গলায় জুতার মালা পরানো হলো?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ছে রাজপথেও।

আগামী সোমবার (২৭ জুন) বিকেলে ঢাকার শাহবাগে এ ঘটনায় একটি প্রতিবাদ সমাবেশ ডাকা হয়েছে।
সেই সমাবেশের সংগঠক রবীন আহসান বলেন, শিক্ষক নির্যাতনের ঘটনায় সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে। ওই ঘটনায় শিক্ষকের কোনো ভূমিকাই নেই। উনাকে না বাঁচিয়ে পুলিশ তাকে বের করেছে। প্রশাসন যারা চালায় তারা কী চাইছে?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিক আরিফুজ্জামান তুহিন লিখেন, এই দেশে হিন্দুরা থাকতে চাইলে জিজিয়া কর দেন। আর হাতে হলুদ ব্যান্ড পরা শুরু করেন। সংখ্যালঘুর স্বাধীনতা একটা কথার কথা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও লিখেন, শিক্ষার্থীদের কাছে এমন অপমান সহ্য করতে হয়-তাহলে সাধারণ শিক্ষার দরকার নেই। এই জাতির জন্য বিজ্ঞান, মেডিকেল সায়েন্স শেখার দরকার নেই। অর্ধেক নারী ঘরে থাক, যেমনটি আফগানিস্তানে আছে। বাংলাদেশ এই অগ্যস্ত যাত্রার দিকেই আছে।

কলেজ অধ্যক্ষকে আটক করা প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে নড়াইল সদর থানার ওসি মোহাম্মদ শওকত কবীর বলেন, কলেজ অধ্যক্ষ কোনো ধর্ম অবমাননা করেননি। তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার কথাও ঠিক নয়। সেদিন তাকে নিরাপদে বের করা হয়েছিল। যেহেতু তিনি অপরাধ করেননি, তার বিরুদ্ধে মামলা করারও বিষয় নেই।

পুলিশের সামনে জুতার মালা পরানোর ঘটনা অস্বীকার করে তিনি বলেন, জুতার মালা পরানোর কোনো ঘটনা আমি দেখিনি। সেরকম কিছু আমার জানা নেই।

ওই শিক্ষকের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশ্ন করলে ওসি বলেন, উনি আমাদের এরকম কিছু বলেননি, বললে নিশ্চয়ই নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আটক ছাত্রকে গ্রেফতার করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়ে ওসি বলেন, সে এখন হাজতে আছে। এ নিয়ে তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য সমালোচনায় থাকা ভারতের বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার ছবি দিয়ে ফেসবুকে নড়াইলের কলেজের এক ছাত্র পোস্ট করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন নড়াইলের ওই কলেজের ছাত্র পোস্ট দেওয়ার পরদিন কলেজে গেলে কিছু ছাত্র তাকে সেটি মুছে ফেলতে বলেন।

ওই সময় ‘অধ্যক্ষ ওই ছাত্রের পক্ষ নিয়েছেন’ এমন কথা রটানো হলে উত্তেজনা তৈরি হয়। অধ্যক্ষ ও দুজন শিক্ষকের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে তাদেরও সংঘর্ষ বাঁধে।

ওই সময় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে কলেজের ছাত্র ও স্থানীয়রা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন। ওই ঘটনার কিছু ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে আসে, যাতে পুলিশের উপস্থিতিও দেখা যায়। এ ঘটনায় পরে পুলিশ ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া ওই যুবককে গ্রেফতার করে।

এই ঘটনার পর থেকে ওই অধ্যক্ষ কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না। জানা গেছে, ওই শিক্ষক আতঙ্কে বাড়িতে থাকছেন না।