সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঝালকাঠিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মারক সংবর্ধনা বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে জামায়াতকর্মী আটক সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান চুয়াডাঙ্গার আদালত মামলা পরিচালনা করতে যেয়ে ভুয়া আইনজীবীসহ আটক ২ গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা, সকল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গা থানা মোড়ে ৩০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নলছিটিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে ওজন কম পাওয়ার অভিযোগ, ডিলার ও কর্মকর্তার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

বাবুগঞ্জে ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৯:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ মার্চ ২০২২ ৮২ বার পড়া হয়েছে

Exif_JPEG_420

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোহাম্মদ আলী, বাবুগঞ্জঃ বরিশালের বাবুগঞ্জে ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুকুল আবহাওয়া ও পরিমিত বৃষ্টি ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় এবার ভুট্ট চাষ বেড়েছে।

উপজেলার প্রধান ফসল ধান হলেও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় দিন-দিন বাড়ছে ভুট্টা চাষের প্রবণতা। এর আগের বছরগুলোতে ইরি-বোরো ধানের মৌসুমে চাষিরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় ধান গমের পাশাপাশি ভুট্টা চাষে মনোযোগ দিয়েছেন। এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশাবাদী কৃষকরা।

কৃষকরা এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন পাবে বলে উপজেলা কৃষি অফিস ও এলাকার ভুট্টা চাষীরা ধারণা করছেন।
এবার ভুট্টা চাষে এলাকার কৃষকরা বেশি ঝুঁকে পড়েছেন। ভুট্টা চাষে খরচ কম, ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকদের এ ফসল চাষের আগ্রহ বেশি দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৩০০হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আবাদ হয়েছে ৩৩০ হেক্টর জমিতে। গত বছর লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল ৩০০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছিল ৩১০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের চেয়ে এবছর ২০ হেক্টর জমিতে বেশি ভুট্টা আবাদ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্র জানায়, প্রথমে ২০ কেজি পটাস, ২৫ কেজি ফসফেট, ১০ কেজি জিপ সার, ১ কেজি বরন, ১ কেজি দানাদার ও ১ কেজি সালফার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে জমি তৈরি করে বিঘাপ্রতি ৩ কেজি ভুট্টার বীজ বোপন করতে হয়। ১ মাস পর বিঘাপ্রতি ২৫ কেজি ইউরিয়া, ২০ কেজি ড্যাপ ও ২ কেজি থিওভিট ছিটিয়ে ক্ষেতে পানি সেচ দিতে হয়। বীজ বপনের ৯০ দিনের মধ্য ভুট্টা কাটা-মাড়াই করে থাকেন কৃষকরা।

ভুট্টার বীজ বপন থেকে কাটা-মাড়াই পর্যন্ত বিঘাপ্রতি খরচ হয় ১০ হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ মণ ভুট্টা উৎপাদন হয়।

উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের কৃষক মাসুদ বলেন, নদী ভাঙ্গনের ফলে আমাদের গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের জমিজমা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। কয়েক বছর পর চর জেগে ওঠার ফলে ওই জমিতে ভুট্ট্ চাষ করা হয়। এলাকার যে সব জমিতে পূর্বে বোরোচাষ করা হত,সে সব জমির অনেকগুলোতেই এবার ভুট্টা চাষ করেছি। ভুট্টার উৎপাদন খরচ যেমন কম দামও তেমন বেশি থাকে। এ জন্য ভুট্টা চাষে এবার মনোযোগ দিয়েছি।

গতবার আমি ৪ বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেছিলাম, দামও ভালো পাইছি। তাই এ বছর আমি ৬ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করছি। আশা করছি ভাল ফলন পাবো।

উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের মোঃ বাবলু বলেন আলুর মধ্যে ভুট্টা চাষ করা হয়। আলু উত্তোলনের পর ভুট্টার পরিচর্যা করা হয়। আলুতে সার প্রয়োগের ফলে ভুট্টআ চাষে সার কম লাগে। কম সেচ দিলেও চলে। আশা করি ফলনও ভাল হবে। তবে ন্যায্য দাম পেলে লাভবান হওয়া যাবে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ছাদেকুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন জানান,

এবার গত বছরের তুলনায় বাবুগঞ্জ উপজেলায় ভুট্টার আবাদ অনেক বেশি হয়েছে। আশা করছি ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে। কৃষকরা যাতে স্বল্প খরচে উচ্চ ফলনশীল ভুট্টা উৎপাদন করতে পারে এজন্য আমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের নিকট গিয়ে পরামর্শ প্রদান করছি।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আমরা সরকারিভাবে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের ভুট্টা বীজ,ড্যাব সার এবং এমপিও সার বিতরণ করা হয়েছে। সব ধরনের ফসল উৎপাদনে আমরা কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছি। যাতে করে কৃষকরা সহজভাবে কৃষি উপকরণ পায়। বিশেষ করে বীজ, সার ও তেলের জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। এবার ভুট্টার ফলন ভালো হয়েছে এবং বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাবুগঞ্জে ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ১১:২৯:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ মার্চ ২০২২

মোহাম্মদ আলী, বাবুগঞ্জঃ বরিশালের বাবুগঞ্জে ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুকুল আবহাওয়া ও পরিমিত বৃষ্টি ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় এবার ভুট্ট চাষ বেড়েছে।

উপজেলার প্রধান ফসল ধান হলেও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় দিন-দিন বাড়ছে ভুট্টা চাষের প্রবণতা। এর আগের বছরগুলোতে ইরি-বোরো ধানের মৌসুমে চাষিরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় ধান গমের পাশাপাশি ভুট্টা চাষে মনোযোগ দিয়েছেন। এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশাবাদী কৃষকরা।

কৃষকরা এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন পাবে বলে উপজেলা কৃষি অফিস ও এলাকার ভুট্টা চাষীরা ধারণা করছেন।
এবার ভুট্টা চাষে এলাকার কৃষকরা বেশি ঝুঁকে পড়েছেন। ভুট্টা চাষে খরচ কম, ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকদের এ ফসল চাষের আগ্রহ বেশি দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৩০০হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আবাদ হয়েছে ৩৩০ হেক্টর জমিতে। গত বছর লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল ৩০০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছিল ৩১০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের চেয়ে এবছর ২০ হেক্টর জমিতে বেশি ভুট্টা আবাদ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্র জানায়, প্রথমে ২০ কেজি পটাস, ২৫ কেজি ফসফেট, ১০ কেজি জিপ সার, ১ কেজি বরন, ১ কেজি দানাদার ও ১ কেজি সালফার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে জমি তৈরি করে বিঘাপ্রতি ৩ কেজি ভুট্টার বীজ বোপন করতে হয়। ১ মাস পর বিঘাপ্রতি ২৫ কেজি ইউরিয়া, ২০ কেজি ড্যাপ ও ২ কেজি থিওভিট ছিটিয়ে ক্ষেতে পানি সেচ দিতে হয়। বীজ বপনের ৯০ দিনের মধ্য ভুট্টা কাটা-মাড়াই করে থাকেন কৃষকরা।

ভুট্টার বীজ বপন থেকে কাটা-মাড়াই পর্যন্ত বিঘাপ্রতি খরচ হয় ১০ হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ মণ ভুট্টা উৎপাদন হয়।

উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের কৃষক মাসুদ বলেন, নদী ভাঙ্গনের ফলে আমাদের গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের জমিজমা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। কয়েক বছর পর চর জেগে ওঠার ফলে ওই জমিতে ভুট্ট্ চাষ করা হয়। এলাকার যে সব জমিতে পূর্বে বোরোচাষ করা হত,সে সব জমির অনেকগুলোতেই এবার ভুট্টা চাষ করেছি। ভুট্টার উৎপাদন খরচ যেমন কম দামও তেমন বেশি থাকে। এ জন্য ভুট্টা চাষে এবার মনোযোগ দিয়েছি।

গতবার আমি ৪ বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেছিলাম, দামও ভালো পাইছি। তাই এ বছর আমি ৬ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করছি। আশা করছি ভাল ফলন পাবো।

উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের মোঃ বাবলু বলেন আলুর মধ্যে ভুট্টা চাষ করা হয়। আলু উত্তোলনের পর ভুট্টার পরিচর্যা করা হয়। আলুতে সার প্রয়োগের ফলে ভুট্টআ চাষে সার কম লাগে। কম সেচ দিলেও চলে। আশা করি ফলনও ভাল হবে। তবে ন্যায্য দাম পেলে লাভবান হওয়া যাবে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ছাদেকুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন জানান,

এবার গত বছরের তুলনায় বাবুগঞ্জ উপজেলায় ভুট্টার আবাদ অনেক বেশি হয়েছে। আশা করছি ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে। কৃষকরা যাতে স্বল্প খরচে উচ্চ ফলনশীল ভুট্টা উৎপাদন করতে পারে এজন্য আমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের নিকট গিয়ে পরামর্শ প্রদান করছি।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আমরা সরকারিভাবে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের ভুট্টা বীজ,ড্যাব সার এবং এমপিও সার বিতরণ করা হয়েছে। সব ধরনের ফসল উৎপাদনে আমরা কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছি। যাতে করে কৃষকরা সহজভাবে কৃষি উপকরণ পায়। বিশেষ করে বীজ, সার ও তেলের জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। এবার ভুট্টার ফলন ভালো হয়েছে এবং বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।