শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- আপডেট সময় : ০৮:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৫৩ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ আলী,
বাবুগঞ্জ ( বরিশাল) ঃ দীর্ঘ ৫৪৪ দিন পর শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রোববার সকাল থেকেই অভিভাবকেরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা শুরু করেন।
বরিশালের বাবুগঞ্জের প্রানকেন্দ্র রহমতপুর ইউনিয়নে অবস্থিত সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নন-মেডিকেল থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা পরিমাপ করে মাস্ক পরিহিত শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশ করানো হচ্ছে।
এছাড়াও স্কুলের ভিতরে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশদ্বারে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলায় সবার মনে উৎসবের আমেজ লক্ষ করা গেছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক সবাই আনন্দের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠানে আসছেন। এ এক অন্য রকম অনুভূতি। ৫৪৪ দিন বন্ধ থাকার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত।
বাবুগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে উপস্থিত অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের স্কুলে প্রবেশ করিয়ে নানা গল্পে মশগুল হয়ে গেছেন। অনেকে আবার স্কুলে প্রবেশ করিয়ে নিজের কাজে চলে যাচ্ছেন।
গতকাল সকাল ১০ টায় একই চিত্র দেখা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে, মাস্ক , হ্যান্ড স্যানেটাইজার ও নন-মেডিকেল থার্মোমিটার দ্বারা তাপমাত্রা মেপে ছাত্র ছাত্রীদের বরন করছেন শিক্ষকরা।
জানা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৩৪ টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩৫ টি, মাদ্রাসা ১৮টি ও কলেজ রয়েছে ৪ টি। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার আনন্দে ভাসছেন শিক্ষার্থীরা।
তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রেণীকক্ষে পাঠদান শুরু করলেও সেখানে বেশ কিছু নিয়ম-কানুন এবং নির্দেশনা মানার কথা রয়েছে। যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্কুলে স্যানেটাইজার, মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তাছাড়া চলতি বছর এবং সামনের বছর যারা এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রতিদিনই ক্লাস নেয়া। প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাসও চলবে প্রতিদিন। প্রাথমিক স্কুলে প্রথম হতে চতুর্থ শ্রেণী এবং হাইস্কুলে ষষ্ঠ হতে অষ্টম শ্রেণীর ক্লাস চলবে সপ্তাহে একদিন করে। স্কুলে খেলাধূলা স্বল্প পরিসরে হলেও কোন অ্যাসেম্বলি হবে না। লাইন বেঁধে ক্লাসে ঢুকতে হবে এবং বেরুতে হবে। শুরুতে দিনে ৪ হতে ৫ ঘণ্টা করে ক্লাস নেয়া হবে।
বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার বাড়ৈ আজকের পত্রিকার প্রতিনিধিকে বলেন, সরকারের বিধিনিষেধের প্রতি লক্ষ রেখে ছাত্র ছাত্রীদের নিয়মের ভিতরে রেখে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ক্লাস নিতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। আমি সরকারের সিদ্ধান্ত কে সাধুবাদ জানাই। তাছাড়া আমাদের উর্ধ্বতন কর্মকতাদের প্রতিও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আশা করছি নিয়মের ভিতরে রেখে আমরা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে যেতে পারবো।
বাবুগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নূরুল হক বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেয়ে বিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছত্রীদের স্বাস্থ্য বিধি পরিপালনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু করতে পেরে আমি অভিভূত।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আকবর কবির জানান, বাবুগঞ্জ উপজেলার ১৩৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সরকারি বিধিনিষেধ মেনে ও স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনের মাধ্যম পাঠদান শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


























