ফ্রান্সে করোনাকালে অবদান রাখায় বিদেশীকর্মীদের নাগরিকত্ব।
- আপডেট সময় : ০৪:৫১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০৫ বার পড়া হয়েছে

সৈয়দ মুন্তাছির রিমন ফ্রান্স থেকে: বিশ্বে প্রতিটি দেশের একাংশ জনগণ অভিবাসী প্রত্যাশা করে। তাদের কেউ রাজনৈতিক, সামাজিক, যুদ্ধবিবাদ, অথর্নৈতিক ও কাজের মাধ্যমে দেশান্তরিত হয়। কিন্ত সব গুলোর সমস্যার জন্য প্রতিটি রাষ্ট জেনেভা কনভেনশনের আওতায় বিভিন্ন মেয়াদে আশ্রয় প্রদান করেন। তবে কোন দেশ তার রাষ্টের নাগরিক হিসেবে সরাসরি নাগরিকত্ব প্রদান করে না। তাই এই নাগরিকত্ব পেতে হলে অনেকটা সময় ব্যয় ও সেদেশের সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ভাষার জ্ঞান থাকতে হয়। তারপর একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে হয়।
ফ্রান্সে যারা নাগরিকত্বহীন বসবাস করছেন তাদের অনেকের স্বপ্ন হলো ফরাসি নাগরিক বা জাতীয়তা পাওয়া। ফ্রান্সে নাগরিকত্ব পাওয়ার অনেক কারণের মাঝে তিনটি নীতিবাক্য রয়েছে। ফরাসীতে তা হলো ” লিবের্তে, এগালিতে, ফ্রাতের্নিতে”। বাংলা যার অর্থ: স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্ব।
কিন্ত করোনাকালে বিশেষ অবদান রাখার কারণে ফরাসী সরকার বিদেশীকর্মীদের নাগরিকত্ব প্রদান করেছেন। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাগরিকত্ব বিষয়ক প্রতিনিধি মার্লিন শিয়াপ্পা জানিয়েছেন ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে সামনের লাইনে ১২ হাজারেও বেশি বিদেশীকর্মীদের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে।
এর আগে তিনি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে কোভিড-১৯ সংকটের সময় বিদেশীকর্মীদের জন্য যারা প্রথম সারিতে কাজ করেছে তাদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত ও সহজ করা হবে। বিদেশী শ্রমিক যারা করোনাভাইরাস মহামারী চলাকালীন সময়ে কাজ করেছেন “প্রথম সারিতে” ও “জাতির প্রতি তাদের সংযুক্তি দেখিয়েছেন” সেই সকল বিদেশী নাগরিকদের ন্যাচুরালাইজেশন করা হবে বলে জানান।
সূত্র জানায় এই আবেদন গ্রহন প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর থেকে ফ্রান্সজুড়ে ১৬৩৮১টি ফাইল প্রিফেকচারে জমা পড়েছে। ইতিমধ্যে ১২০১২ বিদেশী ফরাসি নাগরিকত্ব পেয়েছেন। যা ফ্রান্সের মানবতা নামক রাজধানীর খেতাবটি আরো সমৃদ্ধ হলো।
এছাড়া নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদন গুলো দেখার ক্ষেত্রে বসবাসের সময়কাল দুই বছরের কমানো হয়েছে। কিন্তু নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আইনে ৫ বছর বসবাস করার নিয়ম দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া সময় ৫ বছর হ্রাস করে ২ বছর সময়ে ফরাসী জাতীয়তা বা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আরো জানাযায় যে সকলকর্মীদের জাতীয়তা দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তা, শিশুদের দেখা শুনাকারী, ক্যাশিয়ার, হোমহেল্পার, আবর্জনা সংগ্রহকারী।
অন্যদিকে রাষ্ট্রহীনতা বিশ্বব্যাপি একটি মহামারির সামিল। নাগরিকত্ব পাওয়া একজন রাষ্টহীন মানুষের জন্য বিভীষিকাময় অন্ধকারের মতো সমস্যা। যেখানে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় বিশ্বের ১০ কোটিরও বেশি মানুষ নাগরিকত্বহীন ভাবে বিভিন্ন দেশে বসবাস করছে। যেখানে লক্ষ লক্ষ শিশু দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আরও লক্ষ্য করেছেন যে তীব্র সীমান্তের অভিবাসন এবং ব্যাপক শরণার্থী প্রবাহের জন্য রাষ্ট্রহীন ব্যক্তির সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
প্রেরক
প্যারিস-ফ্রান্স


























