সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঝালকাঠিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মারক সংবর্ধনা বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে জামায়াতকর্মী আটক সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান চুয়াডাঙ্গার আদালত মামলা পরিচালনা করতে যেয়ে ভুয়া আইনজীবীসহ আটক ২ গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা, সকল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গা থানা মোড়ে ৩০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নলছিটিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে ওজন কম পাওয়ার অভিযোগ, ডিলার ও কর্মকর্তার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

ভান্ডারিয়ায় মৃত ঘোষণার পর কবর দিতে গিয়ে কেঁদে উঠল নবজাতক।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ অগাস্ট ২০২১ ৯২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স :: পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় নবজাতক শিশুকে মৃত ঘোষণার পর কবর দিতে গিয়ে বেঁচে উঠেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এখন তাকে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে জন্ম হওয়ার কিছুক্ষণ পর নবজাতকটিকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত নার্স ও চিকিৎসকরা।

এরপর শিশুটিকে কবর দিতে কার্টনে করে নিয়ে আসা হয় বাড়ীতে । কার্টনে থাকার দুই ঘন্টা পরে নবজাতক শিশুকে সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে কবরস্থানে নেওয়ার আগে স্থানীয় এক আলেম মৃত নবজাতককে দেখার জন্য বাঁধা কার্টনটি খোলেন। আর তখনই কেঁদে ওঠে নবজাতক।

‘অলৌকিকভাবে বেচেঁ উঠার খবর পেয়ে শিশুটিকে এক নজর দেখার জন্য শত শত মানুষ ছুটে আসে। বৃহস্পতিবার উপজেলার কানুদাশকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিশুটির বাবা মো. ফোরকান মৃধা। কেঁদে ওঠার পর নবজাতকে দ্রুত ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এর পরার্মশে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঠানো হয়। ওই হাসপাতালেই বর্তমানে সে শিশু বিভাগের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শিশুটির বাবা মো. ফোরকান মৃধা ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের একটি ভাড়াটিয়া দোকানে ফ্রিজ মেকারের কাজ করেন। তার গ্রামের বাড়ী ভাণ্ডারিয়া উপজেলার পার্শবর্তি রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের কানুদাশকাঠী গ্রামে। ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তার স্ত্রী বিলকিসের পেটে ব্যাথা শুরু হলে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে তাঁকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানের সিনিয়র নার্স ফাহিমার কাছে নিয়ে গেলে তিনি স্ত্রীর অবস্থা জানতে একটি আল্টাসোনোগ্রাম করে ডাক্তরকে দেখাতে বলে। আমি স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতাল সংলগ্ন লাবন্য ক্লিনিকে আল্টাসোনোগ্রাম করতে গেলে স্ত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হয় এবং সেখানেই নরমালে একটি পুত্র সন্তান প্রসব হয়। তখন ওই ক্লিনিকের চিকিৎসকরা আমাদের শিশুকে মৃত ঘোষনা করে এবং স্ত্রী বিলকিসকে ঔষুধপত্র লিখে দেয়। পরে ওইখানের নার্সদের সহযোগিতায় নবজাতকটিকে একটি কাগজের কার্টনে ভরে কবর দেওয়ার জন্য বাড়ী নিয়ে যাই। প্রায় দু ঘন্টা পরে সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে কবরস্থানে নেওয়ার আগে স্থানীয় এক আলেম (হুজুর) মৃত নবজাতককে দেখার জন্য কার্টনটি খোলেন। আর তখনই কেঁদে ওঠে শিশুটি।

সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে প্রথমে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি।

ওই ক্লিনিকরে সামনে ঔষুধ কিনতে আসেন রোগী নাসিমা বেগম। তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি বলেন, জন্মের কিছুক্ষণ পরে ওই ক্লিনিকের নার্স ও কর্তব্যরত চিকিৎসকরা কোন প্রকার পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে একটি কার্টনে ভরে দেন।

শিশুটির বাবা মো. ফোরকান মৃধা বলেন, মা ও শিশু উভয়ই এখন সুস্থ্য। আমার ছেলেকে মহান আল্লাহ রক্ষা করেছে তাই সকলের কাছে দোয়া চাই।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে লাবন্য ক্লিনিকের ম্যানেজার ফিরোজ বলেন, রোগী আল্টাসোনোগ্রাম করতে এসে হটাৎ সন্তান প্রসব করে। নার্সরা শিশুটি জন্মের পরে রক্তের মাখামাখি অবস্থায় তার পালস ও হার্টবিট চেষ্টা করেও পায়নি। নবজাতকের মা আমাদের ভর্তি রোগী নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, শিশুটি ৭ মাসে জন্ম হয়েছে এবং শ্বাস কষ্ট দেখে মনে হয়েছে ওকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা গেলে বেঁচে যেতে পারে। তাই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভান্ডারিয়ায় মৃত ঘোষণার পর কবর দিতে গিয়ে কেঁদে উঠল নবজাতক।

আপডেট সময় : ১২:৪৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ অগাস্ট ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স :: পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় নবজাতক শিশুকে মৃত ঘোষণার পর কবর দিতে গিয়ে বেঁচে উঠেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এখন তাকে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে জন্ম হওয়ার কিছুক্ষণ পর নবজাতকটিকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত নার্স ও চিকিৎসকরা।

এরপর শিশুটিকে কবর দিতে কার্টনে করে নিয়ে আসা হয় বাড়ীতে । কার্টনে থাকার দুই ঘন্টা পরে নবজাতক শিশুকে সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে কবরস্থানে নেওয়ার আগে স্থানীয় এক আলেম মৃত নবজাতককে দেখার জন্য বাঁধা কার্টনটি খোলেন। আর তখনই কেঁদে ওঠে নবজাতক।

‘অলৌকিকভাবে বেচেঁ উঠার খবর পেয়ে শিশুটিকে এক নজর দেখার জন্য শত শত মানুষ ছুটে আসে। বৃহস্পতিবার উপজেলার কানুদাশকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিশুটির বাবা মো. ফোরকান মৃধা। কেঁদে ওঠার পর নবজাতকে দ্রুত ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এর পরার্মশে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঠানো হয়। ওই হাসপাতালেই বর্তমানে সে শিশু বিভাগের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শিশুটির বাবা মো. ফোরকান মৃধা ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের একটি ভাড়াটিয়া দোকানে ফ্রিজ মেকারের কাজ করেন। তার গ্রামের বাড়ী ভাণ্ডারিয়া উপজেলার পার্শবর্তি রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের কানুদাশকাঠী গ্রামে। ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তার স্ত্রী বিলকিসের পেটে ব্যাথা শুরু হলে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে তাঁকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানের সিনিয়র নার্স ফাহিমার কাছে নিয়ে গেলে তিনি স্ত্রীর অবস্থা জানতে একটি আল্টাসোনোগ্রাম করে ডাক্তরকে দেখাতে বলে। আমি স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতাল সংলগ্ন লাবন্য ক্লিনিকে আল্টাসোনোগ্রাম করতে গেলে স্ত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হয় এবং সেখানেই নরমালে একটি পুত্র সন্তান প্রসব হয়। তখন ওই ক্লিনিকের চিকিৎসকরা আমাদের শিশুকে মৃত ঘোষনা করে এবং স্ত্রী বিলকিসকে ঔষুধপত্র লিখে দেয়। পরে ওইখানের নার্সদের সহযোগিতায় নবজাতকটিকে একটি কাগজের কার্টনে ভরে কবর দেওয়ার জন্য বাড়ী নিয়ে যাই। প্রায় দু ঘন্টা পরে সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে কবরস্থানে নেওয়ার আগে স্থানীয় এক আলেম (হুজুর) মৃত নবজাতককে দেখার জন্য কার্টনটি খোলেন। আর তখনই কেঁদে ওঠে শিশুটি।

সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে প্রথমে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি।

ওই ক্লিনিকরে সামনে ঔষুধ কিনতে আসেন রোগী নাসিমা বেগম। তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি বলেন, জন্মের কিছুক্ষণ পরে ওই ক্লিনিকের নার্স ও কর্তব্যরত চিকিৎসকরা কোন প্রকার পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে একটি কার্টনে ভরে দেন।

শিশুটির বাবা মো. ফোরকান মৃধা বলেন, মা ও শিশু উভয়ই এখন সুস্থ্য। আমার ছেলেকে মহান আল্লাহ রক্ষা করেছে তাই সকলের কাছে দোয়া চাই।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে লাবন্য ক্লিনিকের ম্যানেজার ফিরোজ বলেন, রোগী আল্টাসোনোগ্রাম করতে এসে হটাৎ সন্তান প্রসব করে। নার্সরা শিশুটি জন্মের পরে রক্তের মাখামাখি অবস্থায় তার পালস ও হার্টবিট চেষ্টা করেও পায়নি। নবজাতকের মা আমাদের ভর্তি রোগী নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, শিশুটি ৭ মাসে জন্ম হয়েছে এবং শ্বাস কষ্ট দেখে মনে হয়েছে ওকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা গেলে বেঁচে যেতে পারে। তাই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছি।