পাবজি নিয়ে দ্বন্দ্বে কিশোরের হাতে কিশোর খুন।
- আপডেট সময় : ১১:১৪:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ অগাস্ট ২০২১ ৮৮ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স
সব অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে অবিলম্বে পাবজি, ফ্রি ফায়ারসহ ক্ষতিকর গেম বন্ধে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি তিন মাসের জন্য এসব গেম অনলাইনে বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে হাইকোর্টের আদেশে। তবে হাইকোর্টের এমন নির্দেশনার মধ্যেই পাবজি, ফ্রি ফায়ার গেমকে কেন্দ্র করে কিশোরের হাতে কিশোর খুনের তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত ২৭ জুলাই দিবাগত রাতে মাগুরা সদর থানাধীন বেরইল পলিতা দক্ষিণপাড়া গ্রামে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেম নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোর বন্ধু গোলাম রসুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে আরেক কিশোর মো. সজিব মিয়া।
নিহতের নাম কাজী গোলাম রসুল। তার বাবার নাম কাজী রওনক হোসেন। গোলাম রসুল স্বানীয় কাজী আব্দুল ওয়াহেদ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।
মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ফ্রি-ফায়ার, পাবজি খেলা ও অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং নিয়ে অভিযুক্ত কিশোর মাগুরা সদরের বেরইল পলিতা দক্ষিণপাড়া গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে সজিব মিয়ার সঙ্গে ভিকটিম কাজী গোলাম রসূলের বিরোধ তৈরি হয়। বিরোধের জেরে গত ২৭ জুলাই রাত পৌনে ৮টায় ওই গ্রামের নূর আলমের বাড়ির সামনে রসুলকে একা পেয়ে সজিব ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাগুরা সদর থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা হয়।
ঘটনাটি সিআইডির দৃষ্টিগোচর হল সিআইডির এলআইসি শাখা তথ্যাদি যাচাই-বাছাইপূর্বক পর্যালোচনা করে আত্মগোপনে থাকা সজীব মিয়াকে গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করে। গত ১৮ আগস্ট নরসিংদী সদর থানা এলাকা হতে এলআইসির একটি চৌকস টিম তাকে গ্রেফতার করে।
এলআইসির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, সামাজিক সচেতনতা বেশি দরকার। আমাদের অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ সন্তানদের দিকে খেয়াল রাখুন। সন্তানকরা যাতে ক্ষতিকর এসব গেম পাবজি, ফ্রি-ফায়ারে আসক্ত না হয়ে পড়ে। ভারতে ইতোমধ্যে এগুলো বন্ধ করা হয়েছে। আমাদের দেশেও হাইকোর্ট একটা নির্দেশনা দিয়েছে। আশা করছি- তিন মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহারে বাংলাদেশে ব্যবহৃত হচ্ছে ক্ষতিকর গেম ও বিভিন্ন অ্যাপস। এসব ক্ষেত্রে সিআইডি’র কোনো নজরদারি রয়েছে কিনা জানতে চাইলে মুক্তা ধর বলেন, ‘আমাদের চৌকষ সাইবার টিম এ ব্যাপারে কাজ করছে। নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।’


























