স্বপ্ন পূরণের লক্ষে ব্যস্ত আমন চাষিরা।
- আপডেট সময় : ০৯:০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অগাস্ট ২০২১ ৮১ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মাদ আলী
বাবুগঞ্জ ( বরিশাল) ঃ আমন কৃষকের কাছে একটি নিশ্চিত ফসল বা আমানত হিসেবে পরিচিত ছিল। আবহমান কাল থেকে এ ধানেই কৃষকের গোলা ভরে, যা দিয়ে কৃষক তার পরিবারের ভরণ-পোষণ, পিঠাপুলি, আতিথেয়তাসহ সংসারের অন্যান্য খরচ মিটিয়ে থাকেন।
আর সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষে বরিশালের বাবুগঞ্জে আমন ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। শ্রাবণের শেষে জমি তৈরি, বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ ও জমিতে ধান রোপণে ব্যস্ত কৃষক। প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে এই অঞ্চলের কৃষকেরা আমন ধান চাষ করে থাকেন।
তবে এ বছর আষাঢ়ের শুরু থেকেই বিরামহীন বৃষ্টি ও সন্ধা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বীজতলা ও জমি পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে রোপা আমন চাষে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান কৃষকেরা।
সরেজমিনে কয়েকজন চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেরি হলেও মাঠ জুড়ে যেন উচ্চ ফলনশীল জাতের আমন ধান রোপণের প্রতিযোগিতা চলছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে জমি ডুবে থাকায় আমন ধান রোপণে কিছুটা দেরি হয়েছে। এ ছাড়া চলতি মৌসুমে আমন ধান চাষের খরচ অন্য বছরের চেয়ে বেশি হওয়ায় অনেক কৃষকই তাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান চাষ করতে পারছে না।
বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া এলাকার কৃষক মোঃ গফুর মোল্লা বলেন, এবার উচ্চ ফলনশীল ( হাইব্রিড) জাতের ধান লাগিয়েছি। দেড় বিঘা জমিতে ধান লাগাতে ২০-৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের চাষি জয়নাল হাওলাদার বলেন, আমাদের এই অঞ্চলের প্রায় কৃষকই বর্গা চাষি, এদের নিজেদের জমি নেই। এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে অন্যের জমি লিজ নিয়ে চাষ করে থাকে। যে টাকা খরচ করে ধানের চাষ করা হয়, ধান বিক্রয় করলে সে টাকা উঠে না।
চাষি আরিফ হোসেন বলেন, প্রতিবছর শ্রাবণ মাসের শুরু থেকে মাঠে মাঠে আমন ধান রোপণ শুরু হয়। কিন্তু এই বছর জমিতে পানি বেশি থাকায় আমাদের ধানের চারা রোপণ করতে বিলম্ব হচ্ছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো.তারিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর ৯ হাজার ৫শত ৫৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এখন পর্যন্ত উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৬৫ ভাগ জমিতে আমন চারা রোপণ করা সম্ভব হয়েছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ নাসির উদ্দীন
বলেন, এবছর ৯ হাজার ৫শত ৫৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে চাষিরা ৬৫ ভাগ জমিতে আমন ধান রোপণ করেছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

























