সংবাদ শিরোনাম ::
সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান চুয়াডাঙ্গার আদালত মামলা পরিচালনা করতে যেয়ে ভুয়া আইনজীবীসহ আটক ২ গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা, সকল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গা থানা মোড়ে ৩০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নলছিটিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে ওজন কম পাওয়ার অভিযোগ, ডিলার ও কর্মকর্তার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প

মাস্ক ছাড়াই ক্যাম্পেইন পরিদর্শনে গেলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ অগাস্ট ২০২১ ৯১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক :: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইনে বিভিন্ন কেন্দ্রে সামাজিক সুরক্ষার কোনো বালাই নেই। কেউ কোনো নিয়ম মানছেন না। যে যার মতো আসছেন আর জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে টিকা নিয়ে যাচ্ছন। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, স্বয়ং সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফুজ্জান নিজেও মাস্ক ছাড়া টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন।

সরেজমিনে দেয়া যায়, উপজেলার উপজেলার ১০ নম্বর বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন দুর্গপুর শাহজাহান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সকাল ৯টায় অনুষ্টিত হয়। তবে টিকাদান কেন্দ্রে অধিকাংশকেই সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি। অনেকের মুখে মাস্কও ছিল না। বিষয়টি সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিনকে মোবাইল ফোনে জানানো হয়।

এর কিছুক্ষণ পর এই কেন্দ্রে আসেন সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পা কর্মকর্তা ডা. আরিফুজ্জামান। তিনি এসে কেন্দ্রে নারী ও পুরুষদের বুথগুলো পরিদর্শন করেন। কিন্তু এসময় তার মুখে মাস্ক ছিল না। এতে উপস্থিত অনেকেই এর সমালোচনা করেন।

দুর্গাপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ বলেন, ‘হামরা গরিব মানুষ, হামরা মাস্ক কিনবার পারি না বলে মাস্ক পরি না। তবে যার ওপর আমাদের দেখভালের দায়িত্ব তার মুখেও তো মাস্ক নেই। এটা কেমন কথা?’

বোনারপাড়া ইউনিয়নের জিহাদ সরকার বলেন, ‘একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাস্ক ছাড়া কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন, তাহলে সাধারণ জনগণ সচেতন হবে কিভাবে?’

কোভিড-১৯ টিকা নিতে আসা যুবক শওকত আলী বললেন, ‘মাস্ক ছাড়াই করোনার টিকা নিলাম। কেউ বাধা দেয়নি। টিকা নেয়ার পর কী করণীয় এ বিষয়েও কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি।’

নিয়ম অনুযায়ী, টিকা নেয়ার পর কেন্দ্রে আধাঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। এসময় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট টিকাদানকর্মীকে জানাতে হবে। তবে দেখা গেছে, অনেকেই কেন্দ্রে অবস্থান না করেই চলে যাচ্ছেন।

এমন দৃশ্য দেখার পর পুরুষদের টিকাদান বুথে দায়িত্বরত সরোয়ার হোসেন নামের একজন স্বাস্থ্যকর্মীকে বিষয়টি জানালে তিনি সাংবাদিকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ছবি তুলতে বাধা দেন।

মাস্ক ছাড়া কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন পরিদর্শনের বিষয়ে জানতে চাইলে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, ‘আসলে সবাই মাস্ক পরুক এটা আমি আশা করি। আমারও মাস্ক পরা দরকার ছিল।’

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, ‘ওনারাই করোনাকালীন প্রথমসারির যোদ্ধা। হয়তো অনিচ্ছাকৃতভাবে এটা হয়েছে। তবে এমন ঘটনা আসলেই দুঃখজনক।’

এ বিষয়ে মন্তব্য নিতে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন আ খ ম আকতারুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি ।

উলেখ্য, শনিবার সকাল ৯টায় করোনা প্রতিরোধে দেশব্যাপী গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গাইবান্ধায় টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন। এসময় পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম, সিভিল সার্জন আ খ ম আখতারুজ্জামান, পৌরমেয়র মতলুবর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গাইবান্ধা জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার সাত উপজেলার ৮২টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভায় প্রতিটি কেন্দ্র ৬০০ জন করে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মাস্ক ছাড়াই ক্যাম্পেইন পরিদর্শনে গেলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

আপডেট সময় : ১০:১২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ অগাস্ট ২০২১

অনলাইন ডেস্ক :: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইনে বিভিন্ন কেন্দ্রে সামাজিক সুরক্ষার কোনো বালাই নেই। কেউ কোনো নিয়ম মানছেন না। যে যার মতো আসছেন আর জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে টিকা নিয়ে যাচ্ছন। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, স্বয়ং সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফুজ্জান নিজেও মাস্ক ছাড়া টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন।

সরেজমিনে দেয়া যায়, উপজেলার উপজেলার ১০ নম্বর বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন দুর্গপুর শাহজাহান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সকাল ৯টায় অনুষ্টিত হয়। তবে টিকাদান কেন্দ্রে অধিকাংশকেই সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি। অনেকের মুখে মাস্কও ছিল না। বিষয়টি সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিনকে মোবাইল ফোনে জানানো হয়।

এর কিছুক্ষণ পর এই কেন্দ্রে আসেন সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পা কর্মকর্তা ডা. আরিফুজ্জামান। তিনি এসে কেন্দ্রে নারী ও পুরুষদের বুথগুলো পরিদর্শন করেন। কিন্তু এসময় তার মুখে মাস্ক ছিল না। এতে উপস্থিত অনেকেই এর সমালোচনা করেন।

দুর্গাপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ বলেন, ‘হামরা গরিব মানুষ, হামরা মাস্ক কিনবার পারি না বলে মাস্ক পরি না। তবে যার ওপর আমাদের দেখভালের দায়িত্ব তার মুখেও তো মাস্ক নেই। এটা কেমন কথা?’

বোনারপাড়া ইউনিয়নের জিহাদ সরকার বলেন, ‘একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাস্ক ছাড়া কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন, তাহলে সাধারণ জনগণ সচেতন হবে কিভাবে?’

কোভিড-১৯ টিকা নিতে আসা যুবক শওকত আলী বললেন, ‘মাস্ক ছাড়াই করোনার টিকা নিলাম। কেউ বাধা দেয়নি। টিকা নেয়ার পর কী করণীয় এ বিষয়েও কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি।’

নিয়ম অনুযায়ী, টিকা নেয়ার পর কেন্দ্রে আধাঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। এসময় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট টিকাদানকর্মীকে জানাতে হবে। তবে দেখা গেছে, অনেকেই কেন্দ্রে অবস্থান না করেই চলে যাচ্ছেন।

এমন দৃশ্য দেখার পর পুরুষদের টিকাদান বুথে দায়িত্বরত সরোয়ার হোসেন নামের একজন স্বাস্থ্যকর্মীকে বিষয়টি জানালে তিনি সাংবাদিকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ছবি তুলতে বাধা দেন।

মাস্ক ছাড়া কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন পরিদর্শনের বিষয়ে জানতে চাইলে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, ‘আসলে সবাই মাস্ক পরুক এটা আমি আশা করি। আমারও মাস্ক পরা দরকার ছিল।’

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, ‘ওনারাই করোনাকালীন প্রথমসারির যোদ্ধা। হয়তো অনিচ্ছাকৃতভাবে এটা হয়েছে। তবে এমন ঘটনা আসলেই দুঃখজনক।’

এ বিষয়ে মন্তব্য নিতে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন আ খ ম আকতারুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি ।

উলেখ্য, শনিবার সকাল ৯টায় করোনা প্রতিরোধে দেশব্যাপী গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গাইবান্ধায় টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন। এসময় পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম, সিভিল সার্জন আ খ ম আখতারুজ্জামান, পৌরমেয়র মতলুবর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গাইবান্ধা জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার সাত উপজেলার ৮২টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভায় প্রতিটি কেন্দ্র ৬০০ জন করে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলে।