সংবাদ শিরোনাম ::
সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান চুয়াডাঙ্গার আদালত মামলা পরিচালনা করতে যেয়ে ভুয়া আইনজীবীসহ আটক ২ গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা, সকল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গা থানা মোড়ে ৩০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নলছিটিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে ওজন কম পাওয়ার অভিযোগ, ডিলার ও কর্মকর্তার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প

টাকা ছাড়া সেবা মেলে না শেবাচিমের করোনা ওয়ার্ডে।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১ ১১১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাহাত খান : টাকা ছাড়া সেবা মেলে না বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে।বখশিসের নামে প্রতিটি পদে পদে ঠকিয়ে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। নতুন রোগীকে ওয়ার্ডে নেয়া, অক্সিজেন সিলিন্ডার দেয়া, খালী সিলিন্ডার পাল্টে দেয়া, আইসিইউ ম্যানেজ করে দেয়া, শয্যার আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা ময়লা অপসারণ, সুস্থ রোগীকে ওয়ার্ডের বাইরে বের করে দেয়া সহ সব কিছুই অর্থ দিতে হয় সংশ্লিষ্টদের।

এমনকি করোনা ওয়ার্ড থেকে বের হওয়া লাশের কফিন ঘিরেও ব্যবসা জমজমাট সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের। এসব প্রকাশ্য হলেও চোখে পড়ে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। হাসপাতালের পরিচালক, উপ-পরিচালক ও সহকারী পরিচালকরা সব শেষ কবে করোনা ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেন সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি সহ অর্থ আদায়ের অভিযোগ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক।

করোনা ওয়ার্ডে ভুক্তভোগীরা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, অ্যাম্বুলেন্সে মুমূর্ষু রোগীকে করোনা ওয়ার্ডের সামনে নিয়ে গেলে পড়ে থাকতে হয় দীর্ঘক্ষণ। টিকিট কাটাসহ ভর্তি প্রক্রিয়ায় চলে যায় অন্তত ৪০ মিনিট। এরপর রোগীকে স্ট্রেচারে করোনা ওয়ার্ডে নিতে সহায়তা লাগে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের। এ ক্ষেত্রে অর্থ দিতে হয় তাদের।

ওয়ার্ডে যাওয়ার পরে রোগীর শ্বাস কষ্ট হলে অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বয় কিংবা আয়াদের অর্থ না দিলে মেলে না সিলিন্ডার। আবার সিলিন্ডার দেয়া হলেও খালী সিলিন্ডার পাল্টে দেয়ার সময় দিতে হয় অর্থ। শয্যার তুলনায় রোগী বেশী হওয়ায় শয্যা ম্যানেজ করার নামেও অর্থ হাতিয়ে নেয় তারা। আবার আইসিইউ শয্যা ম্যানেজের নামেও রোগীদের ঠকিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে ওয়ার্ড মাস্টার সহ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। রোগীর বর্জ্য অপসারণ সহ শয্যার আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতেও দিতে হয় অর্থ।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, করোনা ওয়ার্ডে সাড়ে ৫শ’ অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে। একই সাথে ১৭০ জন রোগী অক্সিজেন সেবা পাবার কথা। প্রতিদিন দুই বেলা সিলিন্ডার রিফিল করে দেয় সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। কিন্তু তারপরও অক্সিজেন সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। করোনা ওয়ার্ডে প্রতি পদে পদে অর্থ নেয়ার অভিযোগ গতকাল বৃহস্পতিবার শুনেছেন তিনি।

এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য শনিবার বেলা ১২টায় করোনা ওয়ার্ডের ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা আহ্বান করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যাবে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। শীঘ্রই করোনা ওয়ার্ড বখশিস মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন পরিচালক। সুত্র:বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

টাকা ছাড়া সেবা মেলে না শেবাচিমের করোনা ওয়ার্ডে।

আপডেট সময় : ১০:০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১

রাহাত খান : টাকা ছাড়া সেবা মেলে না বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে।বখশিসের নামে প্রতিটি পদে পদে ঠকিয়ে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। নতুন রোগীকে ওয়ার্ডে নেয়া, অক্সিজেন সিলিন্ডার দেয়া, খালী সিলিন্ডার পাল্টে দেয়া, আইসিইউ ম্যানেজ করে দেয়া, শয্যার আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা ময়লা অপসারণ, সুস্থ রোগীকে ওয়ার্ডের বাইরে বের করে দেয়া সহ সব কিছুই অর্থ দিতে হয় সংশ্লিষ্টদের।

এমনকি করোনা ওয়ার্ড থেকে বের হওয়া লাশের কফিন ঘিরেও ব্যবসা জমজমাট সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের। এসব প্রকাশ্য হলেও চোখে পড়ে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। হাসপাতালের পরিচালক, উপ-পরিচালক ও সহকারী পরিচালকরা সব শেষ কবে করোনা ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেন সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি সহ অর্থ আদায়ের অভিযোগ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক।

করোনা ওয়ার্ডে ভুক্তভোগীরা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, অ্যাম্বুলেন্সে মুমূর্ষু রোগীকে করোনা ওয়ার্ডের সামনে নিয়ে গেলে পড়ে থাকতে হয় দীর্ঘক্ষণ। টিকিট কাটাসহ ভর্তি প্রক্রিয়ায় চলে যায় অন্তত ৪০ মিনিট। এরপর রোগীকে স্ট্রেচারে করোনা ওয়ার্ডে নিতে সহায়তা লাগে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের। এ ক্ষেত্রে অর্থ দিতে হয় তাদের।

ওয়ার্ডে যাওয়ার পরে রোগীর শ্বাস কষ্ট হলে অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বয় কিংবা আয়াদের অর্থ না দিলে মেলে না সিলিন্ডার। আবার সিলিন্ডার দেয়া হলেও খালী সিলিন্ডার পাল্টে দেয়ার সময় দিতে হয় অর্থ। শয্যার তুলনায় রোগী বেশী হওয়ায় শয্যা ম্যানেজ করার নামেও অর্থ হাতিয়ে নেয় তারা। আবার আইসিইউ শয্যা ম্যানেজের নামেও রোগীদের ঠকিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে ওয়ার্ড মাস্টার সহ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। রোগীর বর্জ্য অপসারণ সহ শয্যার আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতেও দিতে হয় অর্থ।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, করোনা ওয়ার্ডে সাড়ে ৫শ’ অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে। একই সাথে ১৭০ জন রোগী অক্সিজেন সেবা পাবার কথা। প্রতিদিন দুই বেলা সিলিন্ডার রিফিল করে দেয় সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। কিন্তু তারপরও অক্সিজেন সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। করোনা ওয়ার্ডে প্রতি পদে পদে অর্থ নেয়ার অভিযোগ গতকাল বৃহস্পতিবার শুনেছেন তিনি।

এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য শনিবার বেলা ১২টায় করোনা ওয়ার্ডের ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা আহ্বান করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যাবে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। শীঘ্রই করোনা ওয়ার্ড বখশিস মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন পরিচালক। সুত্র:বাংলাদেশ প্রতিদিন