সংবাদ শিরোনাম ::
ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেখার যেন কেউ নেই ! বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কে খানাখন্দে অন্তহীণ জনদুর্ভোগ বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩জনকে আসামি করে মামলা কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা বরিশালে পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন: সম্প্রীতির আহ্বান, গুণীজনদের সম্মাননা মোরেলগঞ্জে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় সংলাপ মোরেলগঞ্জে দুদকের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

রাজাপুরে জাল দলিল করে জমিসহ বসতঘর দখল, ৪ প্রতারক কারাগারে। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২০ ১২১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :: ঝালকাঠির রাজাপুরের জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া দলিল করে ১৩ শতাংশ জমিসহ বসতঘর দখলে নেয়ার মামলায় জালিয়াত চক্রের মূলহোতা হুময়ুন কবির সবুজ ওরফে সৈয়দ সবুজসহ ৪ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তিন বছর পূর্বে জালিয়াতি করে রেজিস্ট্রি ও বসতবাড়ি দখলের অভিযোগে এদের ৫ জনকে আসমী করে ঝালকাঠি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (সিআর নং ৪৮/২০২০) করেন উপজেলার কেওতা গ্রামের মো. মাহবুবুর রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলাম জুয়েল।

কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের মৃত মাহাবুবুর রহমানের ছেলে দলিল জালিয়াত চক্রের মূল হোতা দলিলের স্বাক্ষী ও দলিল লেখরে সহাকারী মাদক ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির সবুজ ওরফে সৈয়দ সবুজ, রাজাপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মো. কাওসার হোসেন মোল্লা, দাতা উপজেলার কানুনিয়া গ্রামের জয়নাল খান, গ্রহিতা কেওতা গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম ফকির। অপর আসামি উপজেলার বাঘরী গ্রামের মৃত মো. আকব্বর আলীর ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান পলাতক রয়েছেন।

মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ২০০৫ সালে তার বাবা মো. মাহবুবুর রহমান তার ভাই, বোন ও মায়ের কাছ থেকে ৬২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। উপজেলার সাব রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরের দলিল লেখক কাওসার হোসেন মোল্লা ওরফে কাওসার হোসেন মল্লিকের সহকারী দলিল জালিয়াত চক্রের মূল হোতা হুময়ুন কবির সবুজসহ এ চক্রটি জয়নাল খানকে ভুয়া দাতা হিসাবে সাজিয়ে রফিকুল ইসলামকে ওই জমি থেকে ১৩ শতাংশ জমির দলিল বের করে দেয় ২০১৭ সালে। দলিল জালিয়াত চক্রের মূল হোতা হুময়ুন কবির সবুজ ও মোস্তাফিজুর রহমান ওই জাল দলিলে সাক্ষী হিসাবে স্বাক্ষর দেয়।

জালিয়াতি মামলা পেনাল কোর্ড-৪৬৫/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় রাজাপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি হওয়া ২৪৯২ নং দলিলে উপজেলার কেওতা মৌজার এসএ ১৩৪, বিএস ১১৪৭ খতিয়ানের ৪২৮ দাগের ১৩ শতাংশ সম্পত্তি জাল দলিলের মাধ্যমে বসতবাড়ী দখলের সিআর ৪৮/২০২০ নং মামলায় তদন্ত কারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক মং চেনলা গত মাসের ৯ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করলে ৩০ নভেম্বর বিজ্ঞ আদালত শুনানি শেষে চারজনকে কারাগারে নির্দেশ দেন।

দাখিলকৃত প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন জাল জালিয়াতি, ভুয়া, বানোয়াট, রেকর্ড সৃষ্টি করিয়া সাব-রেজিষ্টার রাজাপুর এর নিকট ভুল তথ্য উপস্থাপন করিয়া প্রতারনার মাধ্যমে আসামীরা দলিল সৃষ্টি করিয়াছেন। অপরদিকে জাল জালিয়াতি, ভুয়া, বানোয়াট, রেকর্ড সৃষ্টি করিয়া রেজিষ্ট্রি করা দলিল হালাল করিবার জন্য গ্রহিতা রফিক ইতিপূর্বে বিজ্ঞ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, ঝালকাঠি মামলা দাখিল (নং ৪০৫/২০১৭) করলে তৎকালীন বিজ্ঞ বিচারক মো. সিহাবুল ইসলাম মামলার সামগ্রীক সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে মামলাটি খারিজ করেন।

মামলার বাদী জুয়েল তার নিজ বসতবাড়িতে ২০১৪ সালে বৃদ্ধা দাদীকে দেখাশোনা করার জাল দলিলের গ্রহিতা ও বসতবাড়ী দখলদার আসামী রফিকুল ইসলামের মা কহিনুর বেগমকে ওই বাড়িতে আশ্রয় দেয়। এর পরে আসামী রফিক ঐ সম্পত্বির অপর এক ওয়ারিশের নিকট থেকে ক্রয় করা ৫ শতাংশ জমিতে পরিবারসহ বসবাস করতে শুরু করে।

মামলার বাদী জুয়েল পরিবারসহ ব্যবসায়ীক কারনে বরিশালে বসবাস করার সুয়োগ নিয়ে আসামী রফিক জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জুয়েলের দাদীরবসত বাড়ির ১৩ শতাংশ জমি রেজিষ্ট্রি করে ২০১৪ সালে দাদীর বসতঘর দখল করে নেয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির যুগ্ম সচিব রাজাপুরে সাব রেজিষ্ট্রী অফিসের সিনিয়র দলিল লেখক আলহাজ মো. জাকির হোসেন মিনু জানান, দলিল লেখক কাওসার হোসেন মোল্লা ওরফে কাওসার হোসেন মল্লিকের সহকারী জাড়–দার হুমায়ুন কবির সবুজ দলিল জালিয়াতসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছে। এর কঠিন বিচার হওয়া উচিত। এদের জন্য পেশাদার দলিল লেখকসহ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের সুনাম ক্ষুন্ন হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাজাপুরে জাল দলিল করে জমিসহ বসতঘর দখল, ৪ প্রতারক কারাগারে। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৫:৪১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২০

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :: ঝালকাঠির রাজাপুরের জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া দলিল করে ১৩ শতাংশ জমিসহ বসতঘর দখলে নেয়ার মামলায় জালিয়াত চক্রের মূলহোতা হুময়ুন কবির সবুজ ওরফে সৈয়দ সবুজসহ ৪ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তিন বছর পূর্বে জালিয়াতি করে রেজিস্ট্রি ও বসতবাড়ি দখলের অভিযোগে এদের ৫ জনকে আসমী করে ঝালকাঠি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (সিআর নং ৪৮/২০২০) করেন উপজেলার কেওতা গ্রামের মো. মাহবুবুর রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলাম জুয়েল।

কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের মৃত মাহাবুবুর রহমানের ছেলে দলিল জালিয়াত চক্রের মূল হোতা দলিলের স্বাক্ষী ও দলিল লেখরে সহাকারী মাদক ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির সবুজ ওরফে সৈয়দ সবুজ, রাজাপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মো. কাওসার হোসেন মোল্লা, দাতা উপজেলার কানুনিয়া গ্রামের জয়নাল খান, গ্রহিতা কেওতা গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম ফকির। অপর আসামি উপজেলার বাঘরী গ্রামের মৃত মো. আকব্বর আলীর ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান পলাতক রয়েছেন।

মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ২০০৫ সালে তার বাবা মো. মাহবুবুর রহমান তার ভাই, বোন ও মায়ের কাছ থেকে ৬২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। উপজেলার সাব রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরের দলিল লেখক কাওসার হোসেন মোল্লা ওরফে কাওসার হোসেন মল্লিকের সহকারী দলিল জালিয়াত চক্রের মূল হোতা হুময়ুন কবির সবুজসহ এ চক্রটি জয়নাল খানকে ভুয়া দাতা হিসাবে সাজিয়ে রফিকুল ইসলামকে ওই জমি থেকে ১৩ শতাংশ জমির দলিল বের করে দেয় ২০১৭ সালে। দলিল জালিয়াত চক্রের মূল হোতা হুময়ুন কবির সবুজ ও মোস্তাফিজুর রহমান ওই জাল দলিলে সাক্ষী হিসাবে স্বাক্ষর দেয়।

জালিয়াতি মামলা পেনাল কোর্ড-৪৬৫/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় রাজাপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি হওয়া ২৪৯২ নং দলিলে উপজেলার কেওতা মৌজার এসএ ১৩৪, বিএস ১১৪৭ খতিয়ানের ৪২৮ দাগের ১৩ শতাংশ সম্পত্তি জাল দলিলের মাধ্যমে বসতবাড়ী দখলের সিআর ৪৮/২০২০ নং মামলায় তদন্ত কারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক মং চেনলা গত মাসের ৯ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করলে ৩০ নভেম্বর বিজ্ঞ আদালত শুনানি শেষে চারজনকে কারাগারে নির্দেশ দেন।

দাখিলকৃত প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন জাল জালিয়াতি, ভুয়া, বানোয়াট, রেকর্ড সৃষ্টি করিয়া সাব-রেজিষ্টার রাজাপুর এর নিকট ভুল তথ্য উপস্থাপন করিয়া প্রতারনার মাধ্যমে আসামীরা দলিল সৃষ্টি করিয়াছেন। অপরদিকে জাল জালিয়াতি, ভুয়া, বানোয়াট, রেকর্ড সৃষ্টি করিয়া রেজিষ্ট্রি করা দলিল হালাল করিবার জন্য গ্রহিতা রফিক ইতিপূর্বে বিজ্ঞ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, ঝালকাঠি মামলা দাখিল (নং ৪০৫/২০১৭) করলে তৎকালীন বিজ্ঞ বিচারক মো. সিহাবুল ইসলাম মামলার সামগ্রীক সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে মামলাটি খারিজ করেন।

মামলার বাদী জুয়েল তার নিজ বসতবাড়িতে ২০১৪ সালে বৃদ্ধা দাদীকে দেখাশোনা করার জাল দলিলের গ্রহিতা ও বসতবাড়ী দখলদার আসামী রফিকুল ইসলামের মা কহিনুর বেগমকে ওই বাড়িতে আশ্রয় দেয়। এর পরে আসামী রফিক ঐ সম্পত্বির অপর এক ওয়ারিশের নিকট থেকে ক্রয় করা ৫ শতাংশ জমিতে পরিবারসহ বসবাস করতে শুরু করে।

মামলার বাদী জুয়েল পরিবারসহ ব্যবসায়ীক কারনে বরিশালে বসবাস করার সুয়োগ নিয়ে আসামী রফিক জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জুয়েলের দাদীরবসত বাড়ির ১৩ শতাংশ জমি রেজিষ্ট্রি করে ২০১৪ সালে দাদীর বসতঘর দখল করে নেয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির যুগ্ম সচিব রাজাপুরে সাব রেজিষ্ট্রী অফিসের সিনিয়র দলিল লেখক আলহাজ মো. জাকির হোসেন মিনু জানান, দলিল লেখক কাওসার হোসেন মোল্লা ওরফে কাওসার হোসেন মল্লিকের সহকারী জাড়–দার হুমায়ুন কবির সবুজ দলিল জালিয়াতসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছে। এর কঠিন বিচার হওয়া উচিত। এদের জন্য পেশাদার দলিল লেখকসহ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের সুনাম ক্ষুন্ন হয়।