সংবাদ শিরোনাম ::
উজিরপুরে বসতঘরে ঢুকে বৃদ্ধকে মারধর ও জিম্মি করে লুটপাট, থানায় অভিযোগ বাবুগঞ্জে গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার দর্শনা সীমান্তের ওপারে যাওয়ার পথে মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেফতার এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জের দায়িত্ব পেলেন ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম ঘোড়াঘাটে প্রাথমিক বৃত্তি প্রাপ্ত ৭৬ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ঝালকাঠিতে ডোপ টেস্টেপজেটিভ আসায় ২ মাদকসেবী আটক মামলা তেঁতুলিয়ায় পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে জনবল সংকট ছয় পদের বিপরীতে দায়িত্বে একজন জুলহাস উদ্দীন, তেঁতুলিয়ায় ড্রেজারকাণ্ডে মৃত ৫ জনসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা দাবীতে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ মামরা প্রত্যারের দাবী উজিরপুরে উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে দুদকে আভিযোগ চুয়াডাঙ্গায় ভোরে নামাজ পড়ে ফেরার পথে সাপে কামড়ে এক মুসুল্লির মৃত্যু

মায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাদকসম্রাজ্ঞী বহিষ্কারকৃত যুব মহিলালীগের তানিয়া-

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২০ ২৯৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর উপজেলার বিলকেন্দুয়া গ্রামের জহিরুল হকের মেয়ে ও সদর উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাবেক সদস্য তানিয়া খন্দকার (৩৩) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল ৯অক্টোবর (শুক্রবার) সকালে তাকে গ্রেফতারের পর দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়। তানিয়ার বিরুদ্ধে বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন তার মা রিনা বেগম। তিনি তার মামলায় তানিয়াকে চোর, মাদকাসক্ত, বেহাইয়া ও উচ্চ বিলাসী হয়ে বেপরোয়া চলাফেরার কথা উল্লেখ্য করেছেন।

মামলার এজহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে তানিয়াকে জেলার বিজয়নগর উপজেলায় বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর তানিয়া ৩ মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের মা হন। এরই মাঝে তানিয়া বেপরোয়া হয়ে উঠে। সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় মাদকের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। ফলে স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ীর সাথে খারাপ আচরণ শুরু হলে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ হলে ৪সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয় তানিয়া। বাবার বাড়িতে আশ্র‍য় নিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে সে। মায়ের কাছে ৪সন্তান রেখে খারাপ প্রকৃতির লোকজনের সাথে মিশে বেহাইয়াপনা ও উচ্চ বিলাসী চলাফেরা শুরু করে তানিয়া। তানিয়ার মা রিনা বেগম তাকে বাধা দিলেও কোন কাজ হয়নি। রাতের পর রাত বাড়িতে না ফেরে বাইরে কাটিয়েছে। বাবা ও ভাইয়েরা প্রবাসে থাকার সুবাদে তার পুরুষ সঙ্গীদের নিয়ে খালি বাড়ির দুতলার কয়েকটি কক্ষ দখলে নিয়ে সেখানে মাদক সেবনের আস্তানা গড়ে তুলেন। সেই কক্ষ গুলোতে বসতো ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক সেবনের আসর। সেই আসরে বাইরের লোকজনের আসা যাওয়ায় ও তানিয়ার বেহায়াপনায় অতিষ্ঠ হয়ে তার মা এবং ভাইয়ের স্ত্রী বাধা দিলেও আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে সে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে তানিয়ার নোংরামি ও তার সঙ্গীদের যন্ত্রণায় প্রবাসে থাকা ভাই আশার স্ত্রী হাফসা বেগম প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ করায় ভাইয়ের স্ত্রী হাফসাকে মারধর করে জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে স্বার্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। এসময় তানিয়ার মা রিনা বেগম বাধা দিলে নিজের মাকেও কাঠের রোল দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধোর করে ও চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে দেয়। তাদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাড়িতে তাদের কাউকে ঢুকতে দেয়নি তানিয়া। এর কিছুদিন পর তানিয়া বাড়ির ২৪ টি কাঠগাছ ৮০হাজার টাকায় বিক্রয় করে ও ঘরে থাকা প্রায় দুইলক্ষ টাকা এবং জরুরী কাগজ পত্র সরিয়ে ফেলে। এসব ঘটনায় তানিয়ার মা রিনা বেগম আদালতে মামলা করলে সদর মডেল থানা মামলাটি নথিভুক্ত করতে নির্দেশ দেন। এই মামলায় তানিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়।

শুক্রবারে তানিয়াকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা ওসি (অপারেশন) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, তানিয়ার মা তার বিরুদ্ধে বাদি হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তানিয়াকে গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠালে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাদকসম্রাজ্ঞী বহিষ্কারকৃত যুব মহিলালীগের তানিয়া-

আপডেট সময় : ১০:০০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২০

অনলাইন ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর উপজেলার বিলকেন্দুয়া গ্রামের জহিরুল হকের মেয়ে ও সদর উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাবেক সদস্য তানিয়া খন্দকার (৩৩) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল ৯অক্টোবর (শুক্রবার) সকালে তাকে গ্রেফতারের পর দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়। তানিয়ার বিরুদ্ধে বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন তার মা রিনা বেগম। তিনি তার মামলায় তানিয়াকে চোর, মাদকাসক্ত, বেহাইয়া ও উচ্চ বিলাসী হয়ে বেপরোয়া চলাফেরার কথা উল্লেখ্য করেছেন।

মামলার এজহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে তানিয়াকে জেলার বিজয়নগর উপজেলায় বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর তানিয়া ৩ মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের মা হন। এরই মাঝে তানিয়া বেপরোয়া হয়ে উঠে। সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় মাদকের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। ফলে স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ীর সাথে খারাপ আচরণ শুরু হলে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ হলে ৪সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয় তানিয়া। বাবার বাড়িতে আশ্র‍য় নিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে সে। মায়ের কাছে ৪সন্তান রেখে খারাপ প্রকৃতির লোকজনের সাথে মিশে বেহাইয়াপনা ও উচ্চ বিলাসী চলাফেরা শুরু করে তানিয়া। তানিয়ার মা রিনা বেগম তাকে বাধা দিলেও কোন কাজ হয়নি। রাতের পর রাত বাড়িতে না ফেরে বাইরে কাটিয়েছে। বাবা ও ভাইয়েরা প্রবাসে থাকার সুবাদে তার পুরুষ সঙ্গীদের নিয়ে খালি বাড়ির দুতলার কয়েকটি কক্ষ দখলে নিয়ে সেখানে মাদক সেবনের আস্তানা গড়ে তুলেন। সেই কক্ষ গুলোতে বসতো ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক সেবনের আসর। সেই আসরে বাইরের লোকজনের আসা যাওয়ায় ও তানিয়ার বেহায়াপনায় অতিষ্ঠ হয়ে তার মা এবং ভাইয়ের স্ত্রী বাধা দিলেও আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে সে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে তানিয়ার নোংরামি ও তার সঙ্গীদের যন্ত্রণায় প্রবাসে থাকা ভাই আশার স্ত্রী হাফসা বেগম প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদ করায় ভাইয়ের স্ত্রী হাফসাকে মারধর করে জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে স্বার্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। এসময় তানিয়ার মা রিনা বেগম বাধা দিলে নিজের মাকেও কাঠের রোল দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধোর করে ও চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে দেয়। তাদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাড়িতে তাদের কাউকে ঢুকতে দেয়নি তানিয়া। এর কিছুদিন পর তানিয়া বাড়ির ২৪ টি কাঠগাছ ৮০হাজার টাকায় বিক্রয় করে ও ঘরে থাকা প্রায় দুইলক্ষ টাকা এবং জরুরী কাগজ পত্র সরিয়ে ফেলে। এসব ঘটনায় তানিয়ার মা রিনা বেগম আদালতে মামলা করলে সদর মডেল থানা মামলাটি নথিভুক্ত করতে নির্দেশ দেন। এই মামলায় তানিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়।

শুক্রবারে তানিয়াকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা ওসি (অপারেশন) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, তানিয়ার মা তার বিরুদ্ধে বাদি হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তানিয়াকে গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠালে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করে।