সংবাদ শিরোনাম ::
ভান্ডারিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিছন্নতা অভিযান ও কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত মাথায় পিস্তল ঠেকিয়েও দমানো যায়নি, এবার সাংবাদিক আসলামকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ছক! বাবুগঞ্জে খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধন ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে, স্থানীয় নির্বাচনে থাকবে বিএনপির একক প্রার্থী” — অ্যাড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বরিশালে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ বাবুগঞ্জের দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার শাপলা চত্বরে হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজারে সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজে ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চুয়াডাঙ্গায় গণপরিবহন ষ্টাফদের ডোপ টেস্ট পটুয়াখালীতে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫

সৈয়দপুরে গৃহবধুকে গণধর্ষন করে হত্যা পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা,গ্রেপ্তার ২। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২৫:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২০ ১৫১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মহিনুল ইসলাম সুজন,ক্রাইম রিপোর্টার নীলফামারী।।নীলফামারীর সৈয়দপুরের গৃহবধূ আকলিমা বেগমকে (২৫) ধর্ষণের পর হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন হয়েছে সিগারেটের ফয়েল পেপারের সূত্র ধরে।ওই গৃহবধূর মরদেহের সঙ্গে পাওয়া একটি সুইসাইড নোটের সূত্র ধরে হত্যা রহস্য উম্মোচন হয়েছে।জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান(বিপিএম-পিপিএম) শনিবার(২৮ আগস্ট)দুপুরে তার সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত বলেন, জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের মৎস্য খামারের পেছনের বাঁশঝাড় থেকে গত ২৩ আগস্ট সকালে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হয়।মরদেহের কোমরে পাওয়া যায় একটি সুইসাইড নোট। ডার্বি সিগারেটের ফয়েল পেপারে ওই সুইসাইড নোটটিতে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না’।পরে পুলিশ জানতে পারে তার নাম আকলিমা বেগম (২৫)। তিনি কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত কামারপুকুর গ্রামের মৃত আবেদ আলীর মেয়ে। প্রায় আট বছর আগে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হাবরা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলামের (২৮) সঙ্গে বিয়ে হয় তার। তাদের রয়েছে এক ছেলে দুই মেয়ে। ছেলের বয়স ৬ বছর। এক মেয়ের বয়স ১৮ মাস, আরেক মেয়ের বয়স ২ মাস। পারিবারিক কলহের কারণে স্বামী শরিফুল ইসলাম সন্তানদের রেখে ঘটনার ১২ দিন আগে আকলিমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।এ অবস্থায় আকলিমা বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। বাবার বাড়িতেও পরিবারের লোকজন তাকে মেনে না নিয়ে গালমন্দ করে। এতে ক্ষোভে ও দুঃখে আকলিমা ২২ আগস্ট বাবার বাড়ি থেকে বের হয়ে কামারপুকুর মৎস্য খামার এলাকায় ঘুরতে থাকেন। সেখানে একই গ্রামের কাঙ্গালু পাড়ার আনারুল ইসলাম (৩৫), শুভ (২০) ও হৃদয় (১৮) তাকে ডেকে নিয়ে খাবার ও টাকা দিতে চাইলেও ওইগৃহবধু তাতে রাজি না হলে তারা তাকে জোরপুর্বক একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী বাঁশ ঝাড়ে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। আকলিমা ঘটনার কথা প্রকাশের হুমকি দিলে তারা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টা চালায়। সে চেষ্টায় আনারুল নিজ হাতে সুইসাইড নোট লিখে আকলিমার কোমরে গুঁজে দেয়।পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বলেন, নিহত আকলিমার মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে গত ২৩ আগস্ট নিহতের স্বামী শরিফুল ইসলামকে আসামি করে সৈয়দপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। আমরা তার স্বামীকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করি। এরপর সুইসাইড নোটের সূত্র ধরে ওই এলাকায় ডার্বি সিগারেট পান করেন এমন ৫০ থেকে ৬০ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করি। সুইসাইড নোটের লেখার সঙ্গে তাদের হাতের লেখা মেলানোর চেষ্টা করি। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করি। একপর্যায়ে আনারুল ইসলামের হাতের লেখার সঙ্গে সুইসাইড নোটের লেখা মিলে যায়। আমরা তাকে গ্রেপ্তার করলে তিনি ঘটনায় তিনজনের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে আমরা শুভকেও গ্রেপ্তার করি। তারা দু’জন গত শুক্রবার ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে। এ ঘটনায় জড়িত হৃদয়কেও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।তিনি বলেন, আকলিমা বেগমের এমন পরিণতির জন্য তার স্বামী শরিফুল ইসলামকেও দায়ী করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল বলেন, মেয়েটি স্বামীর বাড়িতে আশ্রয় পেল না, ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় পেল না, বাইরের সমাজও তাকে জায়গা দিল না। যে কারণে তাকে ওই নির্মম পরিণতির শিকার হতে হলো।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম আতিকুর রহমান, সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজমিরুজ্জামান প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সৈয়দপুরে গৃহবধুকে গণধর্ষন করে হত্যা পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা,গ্রেপ্তার ২। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৭:২৫:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২০

মহিনুল ইসলাম সুজন,ক্রাইম রিপোর্টার নীলফামারী।।নীলফামারীর সৈয়দপুরের গৃহবধূ আকলিমা বেগমকে (২৫) ধর্ষণের পর হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন হয়েছে সিগারেটের ফয়েল পেপারের সূত্র ধরে।ওই গৃহবধূর মরদেহের সঙ্গে পাওয়া একটি সুইসাইড নোটের সূত্র ধরে হত্যা রহস্য উম্মোচন হয়েছে।জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান(বিপিএম-পিপিএম) শনিবার(২৮ আগস্ট)দুপুরে তার সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত বলেন, জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের মৎস্য খামারের পেছনের বাঁশঝাড় থেকে গত ২৩ আগস্ট সকালে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হয়।মরদেহের কোমরে পাওয়া যায় একটি সুইসাইড নোট। ডার্বি সিগারেটের ফয়েল পেপারে ওই সুইসাইড নোটটিতে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না’।পরে পুলিশ জানতে পারে তার নাম আকলিমা বেগম (২৫)। তিনি কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত কামারপুকুর গ্রামের মৃত আবেদ আলীর মেয়ে। প্রায় আট বছর আগে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হাবরা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলামের (২৮) সঙ্গে বিয়ে হয় তার। তাদের রয়েছে এক ছেলে দুই মেয়ে। ছেলের বয়স ৬ বছর। এক মেয়ের বয়স ১৮ মাস, আরেক মেয়ের বয়স ২ মাস। পারিবারিক কলহের কারণে স্বামী শরিফুল ইসলাম সন্তানদের রেখে ঘটনার ১২ দিন আগে আকলিমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।এ অবস্থায় আকলিমা বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। বাবার বাড়িতেও পরিবারের লোকজন তাকে মেনে না নিয়ে গালমন্দ করে। এতে ক্ষোভে ও দুঃখে আকলিমা ২২ আগস্ট বাবার বাড়ি থেকে বের হয়ে কামারপুকুর মৎস্য খামার এলাকায় ঘুরতে থাকেন। সেখানে একই গ্রামের কাঙ্গালু পাড়ার আনারুল ইসলাম (৩৫), শুভ (২০) ও হৃদয় (১৮) তাকে ডেকে নিয়ে খাবার ও টাকা দিতে চাইলেও ওইগৃহবধু তাতে রাজি না হলে তারা তাকে জোরপুর্বক একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী বাঁশ ঝাড়ে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। আকলিমা ঘটনার কথা প্রকাশের হুমকি দিলে তারা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টা চালায়। সে চেষ্টায় আনারুল নিজ হাতে সুইসাইড নোট লিখে আকলিমার কোমরে গুঁজে দেয়।পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বলেন, নিহত আকলিমার মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে গত ২৩ আগস্ট নিহতের স্বামী শরিফুল ইসলামকে আসামি করে সৈয়দপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। আমরা তার স্বামীকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করি। এরপর সুইসাইড নোটের সূত্র ধরে ওই এলাকায় ডার্বি সিগারেট পান করেন এমন ৫০ থেকে ৬০ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করি। সুইসাইড নোটের লেখার সঙ্গে তাদের হাতের লেখা মেলানোর চেষ্টা করি। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করি। একপর্যায়ে আনারুল ইসলামের হাতের লেখার সঙ্গে সুইসাইড নোটের লেখা মিলে যায়। আমরা তাকে গ্রেপ্তার করলে তিনি ঘটনায় তিনজনের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে আমরা শুভকেও গ্রেপ্তার করি। তারা দু’জন গত শুক্রবার ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে। এ ঘটনায় জড়িত হৃদয়কেও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।তিনি বলেন, আকলিমা বেগমের এমন পরিণতির জন্য তার স্বামী শরিফুল ইসলামকেও দায়ী করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল বলেন, মেয়েটি স্বামীর বাড়িতে আশ্রয় পেল না, ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় পেল না, বাইরের সমাজও তাকে জায়গা দিল না। যে কারণে তাকে ওই নির্মম পরিণতির শিকার হতে হলো।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম আতিকুর রহমান, সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজমিরুজ্জামান প্রমুখ।