সংবাদ শিরোনাম ::
আদালত চত্বরে ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু বাবুগঞ্জে গৃহবধূর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় কলেজ শিক্ষক আটক, সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানচর্চার বাতিঘর স্পিকার আ. জব্বার খান স্মৃতি পাবলিক লাইব্রেরি আমার কী অপরাধ?”—পদ স্থগিতাদেশে ঝালকাঠি শহরজুড়ে নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ ঝালকাঠির রাজাপুর ও নলছিটিতে ইয়াবা ও গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৩ সাংবাদিকদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের অন্যায় -অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবান সাংবাদিককে চোখ উপড়ে হত্যার হুমকির অভিযোগ, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে.. মসজিদের কাজেও পার্সেন্টেজ দিতেহয় অফিস সহকারীকে ঘোড়াঘাটে ফুটবল খেলার মাঠ রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদ ঘোড়াঘাট একাধিক মাদক মামলার আসামি সুজনের মুক্তির দাবিতে হট্টগোল করে পুলিশের কাজে বাধা,গ্রেপ্তার ৩৪

আমার কী অপরাধ?"—পদ স্থগিতাদেশে ঝালকাঠি শহরজুড়ে নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ

আমার কী অপরাধ?”—পদ স্থগিতাদেশে ঝালকাঠি শহরজুড়ে নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ

মোঃ মনির হোসেন ঝালকাঠি :
  • আপডেট সময় : ১২:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৭৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দলীয় পদ স্থগিত হওয়ার খবরে ঝালকাঠি শহরজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজপথের সক্রিয় কর্মী রমজানুল মোর্শেদের পদ স্থগিতের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সাধারণ নেতাকর্মী থেকে শুরু করে শুভানুধ্যায়ীরা তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

ঝালকাঠি শহরের প্রাণকেন্দ্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘আবেদীন মঞ্জিল’-এ বেড়ে ওঠা রমজানুল মোর্শেদ প্রখ্যাত আইনজীবী জয়নাল আবেদীনের চতুর্থ সন্তান। ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে বিএনপির মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন তিনি। তার পরিবারের ছয় ভাই-বোনই আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, রমজানুলের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রাজনীতির মাঠে অবিচল রয়েছে। তার বাবা আইনজীবী জয়নাল আবেদীন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। পরিবারের দাবি, রমজানুলের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই বিভিন্ন সময় তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি রমজানুলের বড় ভাই সার্জেন্ট রিয়াজ ঢাকার পান্থপথে এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি মারা যান। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঝালকাঠিতে এসে শোকসন্তপ্ত পিতা জয়নাল আবেদীনকে সমবেদনা জানান এবং তাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও পরিবারের একজনকে চাকরির আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু রমজানুলের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ। বর্তমানে অসুস্থ ও শয্যাশায়ী আইনজীবী জয়নাল আবেদীন তার জীবনের শেষ সময়ে এই ত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতির প্রত্যাশা করছেন।

যে রাজনৈতিক আদর্শ ও দলের জন্য পরিবারটি এত ত্যাগ স্বীকার করেছে, সেই দলের পক্ষ থেকেই রমজানুলের পদ স্থগিত হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে—”কী ছিল তার অপরাধ?”
পদ স্থগিত হওয়ার পর রমজানুল মোর্শেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে ‘আমার কী অপরাধ?’—এই প্রশ্নটি তুলেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মন্তব্য, রমজানুলের মতো ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীকে দূরে সরিয়ে না দিয়ে দলের স্বার্থেই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রমজানুলকে নিয়ে অসংখ্য পোস্ট ও স্ট্যাটাস এলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য লক্ষ্য করা যায়নি। ঝালকাঠির তৃণমূল নেতাকর্মীদের এখন একটাই প্রত্যাশা—দলীয় হাইকমান্ড বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে রমজানুল মোর্শেদকে পুনরায় দলের কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আমার কী অপরাধ?"—পদ স্থগিতাদেশে ঝালকাঠি শহরজুড়ে নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ

আমার কী অপরাধ?”—পদ স্থগিতাদেশে ঝালকাঠি শহরজুড়ে নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ

আপডেট সময় : ১২:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

দলীয় পদ স্থগিত হওয়ার খবরে ঝালকাঠি শহরজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজপথের সক্রিয় কর্মী রমজানুল মোর্শেদের পদ স্থগিতের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সাধারণ নেতাকর্মী থেকে শুরু করে শুভানুধ্যায়ীরা তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

ঝালকাঠি শহরের প্রাণকেন্দ্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘আবেদীন মঞ্জিল’-এ বেড়ে ওঠা রমজানুল মোর্শেদ প্রখ্যাত আইনজীবী জয়নাল আবেদীনের চতুর্থ সন্তান। ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে বিএনপির মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন তিনি। তার পরিবারের ছয় ভাই-বোনই আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, রমজানুলের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রাজনীতির মাঠে অবিচল রয়েছে। তার বাবা আইনজীবী জয়নাল আবেদীন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। পরিবারের দাবি, রমজানুলের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই বিভিন্ন সময় তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি রমজানুলের বড় ভাই সার্জেন্ট রিয়াজ ঢাকার পান্থপথে এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি মারা যান। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঝালকাঠিতে এসে শোকসন্তপ্ত পিতা জয়নাল আবেদীনকে সমবেদনা জানান এবং তাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও পরিবারের একজনকে চাকরির আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু রমজানুলের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ। বর্তমানে অসুস্থ ও শয্যাশায়ী আইনজীবী জয়নাল আবেদীন তার জীবনের শেষ সময়ে এই ত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতির প্রত্যাশা করছেন।

যে রাজনৈতিক আদর্শ ও দলের জন্য পরিবারটি এত ত্যাগ স্বীকার করেছে, সেই দলের পক্ষ থেকেই রমজানুলের পদ স্থগিত হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে—”কী ছিল তার অপরাধ?”
পদ স্থগিত হওয়ার পর রমজানুল মোর্শেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে ‘আমার কী অপরাধ?’—এই প্রশ্নটি তুলেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মন্তব্য, রমজানুলের মতো ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীকে দূরে সরিয়ে না দিয়ে দলের স্বার্থেই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রমজানুলকে নিয়ে অসংখ্য পোস্ট ও স্ট্যাটাস এলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য লক্ষ্য করা যায়নি। ঝালকাঠির তৃণমূল নেতাকর্মীদের এখন একটাই প্রত্যাশা—দলীয় হাইকমান্ড বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে রমজানুল মোর্শেদকে পুনরায় দলের কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেবেন।