ঘোড়াঘাটে ফুটবল মাঠ পরিদর্শনে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ও যুব ক্রীড়া মন্ত্রী
ঘোড়াঘাটে ফুটবল মাঠ পরিদর্শনে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ও যুব ক্রীড়া মন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৩:৪০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরের গোলাঘাট পৌরসভায় অবস্থিত বড় মাঠ পরিদর্শন করলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
বেগম খালেদা জিয়া গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টকে ঘিরে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট বড় মাঠে প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাঠটি পরিদর্শন করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
পরিদর্শনকালে দুই মন্ত্রী মাঠের খেলার উপযোগিতা, প্রস্তুতি, দর্শক ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন। টুর্নামেন্টের খেলা নির্বিঘ্নে আয়োজন করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তারা বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।
ফুটবল টুর্নামেন্টের মাঠ পরিদর্শনকলে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন।
“তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তাদের এমনভাবে খেলাধুলায় ব্যস্ত রাখতে হবে, যাতে তারা মাদক ও অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে না পড়ে। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক গঠনও সুস্থ ও সুন্দর হবে। আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও অন্যান্য ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে তাদের উৎসাহিত করতে হবে। তরুণদের ভালো খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো এবং তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
তবে প্রশ্ন উঠছে—শুধু একটি টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে মাঠ প্রস্তুত করলেই কি ঘোড়াঘাটের ক্রীড়া অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধান হবে? স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, নিয়মিত খেলাধুলার জন্য মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ, খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, নিরাপদ পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় ক্রীড়া অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বড় মাঠটি শুধু টুর্নামেন্টের ভেন্যু নয়; এটি এলাকার তরুণদের খেলাধুলার অন্যতম প্রধান জায়গা। ফলে মাঠের উন্নয়ন হলে তার সুফল শুধু একটি প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না।
টুর্নামেন্ট আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুর-৬ এলাকার ঘোড়াঘাট, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ ও হাকিমপুর উপজেলার দলগুলোকে নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। চার উপজেলার ২৬টি দল এতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এর আগে টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অনলাইন জুয়া থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পড়াশোনার পাশাপাশি তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকও তরুণদের খেলাধুলায় যুক্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিরামপুরে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণরা নিজেদের যোগ্যতা বিকাশের সুযোগ পায়।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রশ্ন— টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরও কি মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে? মাঠে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হবে কি? তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য কোচিং, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও নিরাপদ ক্রীড়া পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে কি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে স্থায়ী ক্রীড়া কাঠামো গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে উৎসব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠকেন্দ্রিক কার্যক্রমও সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
এ কারণে দুই মন্ত্রীর মাঠ পরিদর্শনকে ঘিরে স্থানীয়দের প্রত্যাশা—পরিদর্শন যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। ঘোড়াঘাটের তরুণদের জন্য মাঠের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় ক্রীড়া অবকাঠামো তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের।
মাঠ পরিদর্শন কালে সহকারী কমিশনার ভূমি আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ, ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: শামীম হোসেন চৌধুরী কৌরব বিএনপি’র সভাপতি আব্দুস সাত্তার মিলন সহ উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।






















