সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটের সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্ল্যাণ কেন্দ্রটি ৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত ,’অস্থায়ী’ ভবনে স্বাস্থ্যসেবা চুয়াডাঙ্গায় মাথাভাঙ্গা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার, পিবিআইয়ের সহায়তায় মিললো পরিচয় ঝালকাঠিতে রেড ক্রিসেন্টের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু সচেতনতা কর্মসূচি বরিশালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস পুকুরে: কাঁচামাল ব্যবসায়ী নিহত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখতে কাঠালিয়া পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রাণবন্ত পরিচ্ছন্নতা অভিযান তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটময় অবস্থায় পৌঁছেছে ঝালকাঠিতে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল চুয়াডাঙ্গায় ইয়াবাসহ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ.লীগ নেতা আটক ভান্ডারিয়ায় নাম্বারপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে মোবাইল কোর্ট, ৭ মামলায় ৩২ হাজার টাকা জরিমানা ঢাকা রেঞ্জের নবগত ডিআইজি কে নিয়ে অপপ্রচারের মেতে উঠেছে কুচক্রী মহল নারীসহ ফ্ল্যাটে ওসি আটক, ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’র বিস্ফোরক অভিযোগ

ঘোড়াঘাটের সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কbdল্ল্যাণ কেন্দ্রটি ৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত ,'অস্থায়ী' ভবনে স্বাস্থ্যসেবা

ঘোড়াঘাটের সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্ল্যাণ কেন্দ্রটি ৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত ,’অস্থায়ী’ ভবনে স্বাস্থ্যসেবা

মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদ, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:২৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি দীর্ঘ চার বছর ধরে পরিত্যক্ত থাকায় সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের দুটি কক্ষে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্য সেবা চলছে। সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করায় স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে এলাকার ভুক্তভোগী

মানুষ দিনাজপুর—৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।

ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র! ১৯৭৭—৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি সিংড়া ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসা। অথচ, দীর্ঘ চার বছর ধরে এই কেন্দ্রের মূল ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। কাগজে—কলমে পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবের চিত্র পুরোই ভিন্ন। নেই কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি। ফলে বাধ্য হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে নামমাত্র স্বাস্থ্যসেবা।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২—২৩ অর্থবছরের শুরুতেই ভবনটি ও কোয়ার্টার ব্যবহার অনুপযোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার বিষয়ে তৎকালীন উপপরিচালকের উদ্যোগে একটি কমিটি গঠন করা হলেও সেই কমিটির লিখিত কোন প্রতিবেদন বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক পরিত্যক্ত ঘোষণার লিখিত পত্র আজও পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক এই জটিলতায় ঝুলে আছে পুরো প্রক্রিয়া।

ভবনটি অকেজো হওয়ার পর সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেনের সহযোগিতায় প্রথমে একটি ভাড়া বাসায় কার্যক্রম চালানো হয়। পরে তা স্থানান্তর করা হয় ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে। তবে এটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিকল্প হতে পারে না বলে দাবি স্থানীয়দের। এতে রোগী ব্যবস্থাপনা, ওষুধ সংরক্ষণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানে মারাত্মক সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

সেবা নিতে আসা মরিচা গ্রামের মোকসেদ আলী জানান, কয়েকদিন আগে স্ত্রীকে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে ভবন বন্ধ দেখে ফিরে গিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে কার্যক্রম চলছে। তাঁর মতো অনেক রোগীই কেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থান জানেন না। স্থানীয়রা জানান, নারী, শিশু, বয়স্ক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত জরুরি। তাই নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি এই অস্থায়ী কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জনবল, ওষুধ ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি তাদের। একই সঙ্গে

এ বিষয়ে ৩নং সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন জানান, পরিত্যক্ত বিল্ডিংয়ে তো আর সেবা দেওয়া যায় না, জনগণের কথা চিন্তা করে আমার ইউনিয়নের দুইটি কক্ষ সেবা দানের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এভাবে কতদিন! আশা করছি দ্রুত এটার সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করবে কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি নিয়ে উপ—সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোছা. হাসনে আরা বানু জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব ভবন না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। সেখানে স্টোর রুমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদেরও একই কক্ষে বসে কাজ করতে হয়। ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে রোগীদের ব্যক্তিগত ও চিকিৎসা সংক্রান্ত গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া নিয়মিত মাসিক ক্যাম্প পরিচালনা, রোগীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাসিক সভা আয়োজনেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সীমিত জায়গায় স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা দিতে প্রতিনিয়ত নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহমদ ঈসা জানান, কেন্দ্রটি পাঁচ বছর মেয়াদি অপারেশন প্ল্যানে পুনর্নির্মাণের জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মৌখিকভাবে জানতে পেরেছি। তবে মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঘোড়াঘাটের সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কbdল্ল্যাণ কেন্দ্রটি ৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত ,'অস্থায়ী' ভবনে স্বাস্থ্যসেবা

ঘোড়াঘাটের সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্ল্যাণ কেন্দ্রটি ৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত ,’অস্থায়ী’ ভবনে স্বাস্থ্যসেবা

আপডেট সময় : ০১:২৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি দীর্ঘ চার বছর ধরে পরিত্যক্ত থাকায় সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের দুটি কক্ষে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্য সেবা চলছে। সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করায় স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে এলাকার ভুক্তভোগী

মানুষ দিনাজপুর—৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।

ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র! ১৯৭৭—৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি সিংড়া ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসা। অথচ, দীর্ঘ চার বছর ধরে এই কেন্দ্রের মূল ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। কাগজে—কলমে পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবের চিত্র পুরোই ভিন্ন। নেই কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি। ফলে বাধ্য হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে নামমাত্র স্বাস্থ্যসেবা।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২—২৩ অর্থবছরের শুরুতেই ভবনটি ও কোয়ার্টার ব্যবহার অনুপযোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার বিষয়ে তৎকালীন উপপরিচালকের উদ্যোগে একটি কমিটি গঠন করা হলেও সেই কমিটির লিখিত কোন প্রতিবেদন বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক পরিত্যক্ত ঘোষণার লিখিত পত্র আজও পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক এই জটিলতায় ঝুলে আছে পুরো প্রক্রিয়া।

ভবনটি অকেজো হওয়ার পর সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেনের সহযোগিতায় প্রথমে একটি ভাড়া বাসায় কার্যক্রম চালানো হয়। পরে তা স্থানান্তর করা হয় ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে। তবে এটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিকল্প হতে পারে না বলে দাবি স্থানীয়দের। এতে রোগী ব্যবস্থাপনা, ওষুধ সংরক্ষণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানে মারাত্মক সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

সেবা নিতে আসা মরিচা গ্রামের মোকসেদ আলী জানান, কয়েকদিন আগে স্ত্রীকে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে ভবন বন্ধ দেখে ফিরে গিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে কার্যক্রম চলছে। তাঁর মতো অনেক রোগীই কেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থান জানেন না। স্থানীয়রা জানান, নারী, শিশু, বয়স্ক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত জরুরি। তাই নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি এই অস্থায়ী কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জনবল, ওষুধ ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি তাদের। একই সঙ্গে

এ বিষয়ে ৩নং সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন জানান, পরিত্যক্ত বিল্ডিংয়ে তো আর সেবা দেওয়া যায় না, জনগণের কথা চিন্তা করে আমার ইউনিয়নের দুইটি কক্ষ সেবা দানের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এভাবে কতদিন! আশা করছি দ্রুত এটার সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করবে কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি নিয়ে উপ—সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোছা. হাসনে আরা বানু জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব ভবন না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। সেখানে স্টোর রুমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদেরও একই কক্ষে বসে কাজ করতে হয়। ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে রোগীদের ব্যক্তিগত ও চিকিৎসা সংক্রান্ত গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া নিয়মিত মাসিক ক্যাম্প পরিচালনা, রোগীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাসিক সভা আয়োজনেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সীমিত জায়গায় স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা দিতে প্রতিনিয়ত নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহমদ ঈসা জানান, কেন্দ্রটি পাঁচ বছর মেয়াদি অপারেশন প্ল্যানে পুনর্নির্মাণের জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মৌখিকভাবে জানতে পেরেছি। তবে মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।