সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক কাঁঠালিয়ায় ৮ পিস ইয়াবাসহ কলেজ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আটক ও স্থায়ী বহিষ্কার ​নলছিটির সাবেক পিআইও বিজন কৃষ্ণ খরাতীর ৫ মাসের কারাদণ্ড ১২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কাঁঠালিয়ায় ৬৩ কেজি পলিথিন জব্দ, ১০ হাজার টাকা জরিমানা ঘোড়াঘাটের সীমানার ৫০০ মিটার ভিতরে পলাশবাড়ী সীমানা পলক স্থাপনের চেষ্টা এলাকায় ক্ষোভ উপজেলা প্রশাসনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় পরিবেশ ও শব্দ দূষণবিরোধী মোবাইল কোর্ট: ১২ হাজার টাকা জরিমানা দর্শনা ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে পালানোর সময় এক যুবক আটক বোর্ড চ্যালেঞ্জে পাস চার ছাত্রী: তেঁতুলিয়ার বোয়ালমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

ঘোড়াঘাটের সীমানার ৫০০ মিটার ভিতরে পলাশবাড়ী সীমানা পলক স্থাপনের চেষ্টা এলাকায় ক্ষোভ উপজেলা প্রশাসনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

ঘোড়াঘাটের সীমানার ৫০০ মিটার ভিতরে পলাশবাড়ী সীমানা পলক স্থাপনের চেষ্টা এলাকায় ক্ষোভ উপজেলা প্রশাসনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদ, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার চলমান মাঠ জরিবের সরকার নির্ধারিত পূর্বের নির্দিষ্ট সীমানার প্রায় ৫০০ মিটার ভেতরে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার নতুন সীমানা ফলক স্থাপন করাকে কেন্দ্র করে

স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

পূর্বের সীমানা ফলক ও চলমান জরিপের নির্ধারিত নতুন সীমানা উপেক্ষা করে নতুন করে সীমানা নির্ধারণ করছেন স্থানীয়রা অভিযোগ। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সাথে কোন আলোচনা ছাড়াই তারা সীমানা নির্ধারণের ফলক স্থাপন করার চেষ্টা করছে।

বিষয়টি নিয়ে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি ও পৌর প্রশাসক আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ:শহিদুল ইসলাম ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন। এ সময়

স্থানীয় শতাধিক বাসিন্দা ও ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের প্রচলিত সীমানা এবং আগে স্থাপন করা সীমানা ফলককে পাশ কাটিয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলার ভেতরে গিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলার নতুন সীমানা ফলক নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারি নথিতে দুই উপজেলার সীমানা নির্ধারিত থাকার পরও কীভাবে সেই সীমানার প্রায় ৫০০ মিটার ভেতরে গিয়ে নতুন করে পলাশবাড়ীর সীমানা নির্ধারণ করা হচ্ছে এ নিয়ে প্রশ্ন তুল

সম্প্রতি,ঘোড়াঘাট-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক সড়কের করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতু-সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতু পার হওয়ার আনুমানিক ১০০ মিটার পূর্ব দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা শেষ হয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা শুরু। স্থানীয়দের দেখানো তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আগে থেকেই একটি পুরোনো সীমানা ফলক রয়েছে। এতদিন সেটিই দুই জেলা ও উপজেলার সীমানা নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

ওয়ার্ডটির সাবেক ঘোড়াঘাট পৌর কাউন্সিলর আব্দুল মমিন বলেন, ‘আগে থেকেই দুই উপজেলার সীমানা নির্ধারিত রয়েছে। এরপরও কাউকে না জানিয়ে পুরোনো সীমানা ফলক না মেনে পৌরশহরের প্রায় ৫০০ মিটার ভেতরে নতুন করে সীমানা ফলক তৈরি করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পুরোনো সীমানা ফলক অনুযায়ী করতোয়া সেতু, সেতুর ওপারে একটি শ্মশানঘাট এবং সড়কের পাশের কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ঘোড়াঘাট পৌরসভার মধ্যে রয়েছে। কিন্তু নতুন সীমানা ফলক কার্যকর হলে সেতু, শ্মশানঘাট, কয়েকটি রেস্টুরেন্ট এবং সেতুর এ পাশের কয়েকটি বসতবাড়িও পলাশবাড়ী উপজেলার সীমানার মধ্যে পড়ে যাবে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।’

ঘোড়াঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ বলেন, ‘পূর্বের সীমানা ফলককে মাথায় রেখে প্রশাসনিক সীমানাসংক্রান্ত নথি, মৌজা ম্যাপ ও ভূমি রেকর্ড পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে সার্ভেয়ার দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হবে।’

ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন বলেন, ‘সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানাব। আশা করছি, এর একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে।’

পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি রয়েছে শুনেছি। সবার সঙ্গে আলোচনা করে এর কোনো সমাধান করা যায় কি না, তা দেখা হবে।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু স্থাপনাটি ইতোমধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে, তাই অর্থের অপচয় না করে এক পাশে ‘স্বাগতম ঘোড়াঘাট’ এবং অন্য পাশে ‘স্বাগতম পলাশবাড়ী’ লেখা যায় কি না, সে বিষয়েও সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্থানীয়রা না চাইলে সেটিও করা হবে না।’

এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিষয়টি দ্রুত পরিষ্কার না করা হলে ভবিষ্যতে শুধু সীমানা নিয়ে বিতর্কেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব পড়তে পারে জমির মালিকানা নির্ধারণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, রাজস্ব আদায়সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঘোড়াঘাটের সীমানার ৫০০ মিটার ভিতরে পলাশবাড়ী সীমানা পলক স্থাপনের চেষ্টা এলাকায় ক্ষোভ উপজেলা প্রশাসনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

ঘোড়াঘাটের সীমানার ৫০০ মিটার ভিতরে পলাশবাড়ী সীমানা পলক স্থাপনের চেষ্টা এলাকায় ক্ষোভ উপজেলা প্রশাসনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার চলমান মাঠ জরিবের সরকার নির্ধারিত পূর্বের নির্দিষ্ট সীমানার প্রায় ৫০০ মিটার ভেতরে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার নতুন সীমানা ফলক স্থাপন করাকে কেন্দ্র করে

স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

পূর্বের সীমানা ফলক ও চলমান জরিপের নির্ধারিত নতুন সীমানা উপেক্ষা করে নতুন করে সীমানা নির্ধারণ করছেন স্থানীয়রা অভিযোগ। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সাথে কোন আলোচনা ছাড়াই তারা সীমানা নির্ধারণের ফলক স্থাপন করার চেষ্টা করছে।

বিষয়টি নিয়ে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি ও পৌর প্রশাসক আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ:শহিদুল ইসলাম ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন। এ সময়

স্থানীয় শতাধিক বাসিন্দা ও ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের প্রচলিত সীমানা এবং আগে স্থাপন করা সীমানা ফলককে পাশ কাটিয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলার ভেতরে গিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলার নতুন সীমানা ফলক নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারি নথিতে দুই উপজেলার সীমানা নির্ধারিত থাকার পরও কীভাবে সেই সীমানার প্রায় ৫০০ মিটার ভেতরে গিয়ে নতুন করে পলাশবাড়ীর সীমানা নির্ধারণ করা হচ্ছে এ নিয়ে প্রশ্ন তুল

সম্প্রতি,ঘোড়াঘাট-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক সড়কের করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতু-সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতু পার হওয়ার আনুমানিক ১০০ মিটার পূর্ব দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা শেষ হয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা শুরু। স্থানীয়দের দেখানো তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আগে থেকেই একটি পুরোনো সীমানা ফলক রয়েছে। এতদিন সেটিই দুই জেলা ও উপজেলার সীমানা নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

ওয়ার্ডটির সাবেক ঘোড়াঘাট পৌর কাউন্সিলর আব্দুল মমিন বলেন, ‘আগে থেকেই দুই উপজেলার সীমানা নির্ধারিত রয়েছে। এরপরও কাউকে না জানিয়ে পুরোনো সীমানা ফলক না মেনে পৌরশহরের প্রায় ৫০০ মিটার ভেতরে নতুন করে সীমানা ফলক তৈরি করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পুরোনো সীমানা ফলক অনুযায়ী করতোয়া সেতু, সেতুর ওপারে একটি শ্মশানঘাট এবং সড়কের পাশের কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ঘোড়াঘাট পৌরসভার মধ্যে রয়েছে। কিন্তু নতুন সীমানা ফলক কার্যকর হলে সেতু, শ্মশানঘাট, কয়েকটি রেস্টুরেন্ট এবং সেতুর এ পাশের কয়েকটি বসতবাড়িও পলাশবাড়ী উপজেলার সীমানার মধ্যে পড়ে যাবে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।’

ঘোড়াঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ বলেন, ‘পূর্বের সীমানা ফলককে মাথায় রেখে প্রশাসনিক সীমানাসংক্রান্ত নথি, মৌজা ম্যাপ ও ভূমি রেকর্ড পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে সার্ভেয়ার দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হবে।’

ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন বলেন, ‘সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানাব। আশা করছি, এর একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে।’

পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি রয়েছে শুনেছি। সবার সঙ্গে আলোচনা করে এর কোনো সমাধান করা যায় কি না, তা দেখা হবে।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু স্থাপনাটি ইতোমধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে, তাই অর্থের অপচয় না করে এক পাশে ‘স্বাগতম ঘোড়াঘাট’ এবং অন্য পাশে ‘স্বাগতম পলাশবাড়ী’ লেখা যায় কি না, সে বিষয়েও সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্থানীয়রা না চাইলে সেটিও করা হবে না।’

এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিষয়টি দ্রুত পরিষ্কার না করা হলে ভবিষ্যতে শুধু সীমানা নিয়ে বিতর্কেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব পড়তে পারে জমির মালিকানা নির্ধারণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, রাজস্ব আদায়সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে।