ঝালকাঠিতে কচু গাছের ডাল ভাঙাকে কেন্দ্র করে মারামারি, পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ ও সালিশ নিয়ে বিতর্ক
ঝালকাঠিতে কচু গাছের ডাল ভাঙাকে কেন্দ্র করে মারামারি, পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ ও সালিশ নিয়ে বিতর্ক
- আপডেট সময় : ০৬:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; hdrForward: 0; sv:16.1.8.0.W20; module: video;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 0;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;HdrStatus: off;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 40;

ঝালকাঠি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কিস্তাকাঠি আবাসন প্রকল্পে একটি কচু গাছের ডাল ভাঙাকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠলেও স্থানীয়দের বয়ানে এসেছে ভিন্ন চিত্র। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় উত্তর কিস্তাকাঠি আবাসন প্রকল্পের আড়াইশো ব্যারাকের ৪/৪ ঘরের বাসিন্দা সোনিয়া আক্তার ঝালকাঠি পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ৪/১ ঘরের বাসিন্দা রাজমিস্ত্রি মো. আবুল হোসেন তাকে, তার ছোট বোন তানিয়া ও মা নাসিমাকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং গলা থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়েছেন।
অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঝালকাঠি থানার এসআই জামাল হোসেনকে। উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সোনিয়া স্থানীয় কায়েদ সাহেব হুজুরের মাজারে গিয়ে কসম কাটার পর এসআই জামাল হোসেন অভিযুক্ত আবুল হোসেনকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেন।
গত ২ সেপ্টেম্বর সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে আবাসন প্রকল্পের সিংহভাগ বাসিন্দা সোনিয়ার পরিবারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, আবুল হোসেন একজন গরিব ও নিরীহ রাজমিস্ত্রি। সেদিন তিনি সেন্টারিংয়ের কিছু কাঠ বাথরুমের পাশে রাখতে গেলে একটি চ্যালা কাঠ পড়ে কচু গাছের ডাল ভেঙে যায়। এ নিয়ে সোনিয়া, তার বোন ও মা মিলে আবুল হোসেনকে গালমন্দ করেন এবং মারধর করেন। চেইন ছিনতাইয়ের কোনো ঘটনাই ঘটেনি বলে তারা দাবি করেন।
আবাসনবাসীর অভিযোগ, সোনিয়ার পরিবার এর আগেও বিভিন্ন অজুহাতে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে স্থানীয় কামাল হোসেন, মিজানুর রহমান, কুদ্দুস, নুরু মিয়াসহ ৬-৭ জনের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করেছে। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে অতীতে মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। পৌরসভার খেয়াঘাট সড়ক থেকে বিতাড়িত হয়ে তারা প্রথমে সুগন্ধ নদী পারের আবাসন এবং পরবর্তীতে উত্তর কিস্তাকাঠি আবাসনে এসে আশ্রয় নেয় এবং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
অভিযোগকারী সোনিয়া আক্তার বলেন: “আবুল মিয়া আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং গায়ে হাত দেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি আমার গলা থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন।”
অভিযুক্ত আবুল হোসেন বলেন “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। উল্টো তারা আমাকে মারধর করেছে। সোনিয়া এর আগেও একই কৌশল খাটিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে জরিমানা আদায় করেছে। আমি একজন গরিব মানুষ, কসমের ওপর ভিত্তি করে আমাকে যে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অন্যায়। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।”
আবাসনবাসীর দাবি, মা ও দুই মেয়ের এই পরিবারটিকে আবাসন থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে এলাকাটি মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড মুক্ত হবে। এ বিষয়ে তারা দ্রুত সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপ ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



















